শনিবার ৯ এপ্রিল সকালের ঘটনা। অকুস্থল বনানী রেলক্রসিং। চট্টগ্রামগামী আন্তঃনগর এক্সপ্রেস মহানগর-প্রভাতী দ্রুত বেগে অতিক্রম করছিল বনানী রেলস্টেশন। এ সময় রেললাইন ধরে হেঁটে যাচ্ছিলেন এক ব্যক্তি। পেছনে যে ধেয়ে আসছে মৃত্যুরূপী যন্ত্রদূত, সেদিকে প্রায় কোন ভ্রƒক্ষেপ ছিল না ব্যক্তিটির। মিজান নামের এক ব্যক্তির চোখে পড়ে দৃশ্যটি। বেখেয়ালি লোকটির আচার-আচরণে মুহূর্তে তিনি বুঝতে পারেন যে, উদ্দিষ্ট ব্যক্তিটি অন্ধ। অতঃপর অনেক ডাকাডাকির পরও রেল লাইন থেকে অন্ধ ব্যক্তিটিকে সরাতে না পেরে শেষ পর্যন্ত মিজান ঝাঁপিয়ে পড়েন তাকে বাঁচাতে। তবে ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। ট্রেনের ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারাল মিজান। বাঁচাতে পারেননি অন্ধ ব্যক্তিটিকেও। মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান দু’জনই। এভাবে অন্যকে বাঁচাতে গিয়ে নিঃস্বার্থভাবে প্রাণ বিসর্জন দেয়া ব্যক্তিটির নাম মিজানুর রহমান। পঞ্চাশোর্ধ মিজানের গ্রামের বাড়ি পিরোজপুরের কদমতলায়। বাড্ডা এলাকার ফুটপাথে একটি চায়ের দোকান চালান তিনি। এতদিন ‘অন্ধজনে দেহ আলো’-র কথা শোনা গেছে। এখন জানা গেল ‘অন্ধজনে দেহ প্রাণে’র কথা। ঘটনা সামান্য, তবে অসামান্য তার ব্যঞ্জনা। সময়ের সামান্য হেরফেরে হতভাগ্য মিজান অন্ধ ব্যক্তিটির প্রাণ বাঁচাতে পারেননি সত্য। তবে নিজের জীবন দিয়ে তিনি আরও একবার প্রমাণ করে গেলেন যে, ‘মানুষ মানুষের জন্য’।
সংবাদ সুত্র : দৈনিক জনকন্ঠ ( অন লাইন: তারিখ ১২/৪/২০১৬https://www.dailyjanakantha.com/details/article/184772
মিজানের আত্মার মাগফিরাত কামনা করি । অাল্লাহ উনাকে বেহেস্তবাসী করুন । তার শোক সন্তপ্ত পরিবারের প্রতিও থাকল আন্তরিক সমবেদনা । আল্লা তাদের শোক কাটিয়ে উঠার তৌফিক দিন ।
একই সাথে অরক্ষিত ও ঝুঁকিপূর্ণ রেললাইন ও রেল ব্যবস্থার উন্নতি সাধনের জন্য কতৃপক্ষকেও দৃষ্টি দেয়ার জন্য সকলেরই সোচ্চার হওয়া কাম্য । তবে রেললাইন সুরক্ষায় নাগরিক দায়িত্বও কম নয়। প্রায়ই দেখা যায় যে, রেল যখন ক্রসিং অতিক্রম করে তখন সেদিকে আদৌ ভ্রক্ষেপ না করে পার হতে চায় পথচারী, সাইকেল আরোহী, হোন্ডাযাত্রী এমনকি প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস পর্যন্ত। এ বিষয়েও সচেতনতা প্রয়োজন ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


