
মশা কামড়ায় রে, কামড়ায় ইরানী মশা
সীমানা পেরিয়ে নীরবে হামলা চালায়
কেউ বলে ড্রোন, কেউ বলে গুপ্তচর
আঁধার রাতে আদান-প্রদান করে খবর!
এর হুলের যন্ত্রণায় আইরন ডোমও কাতরায়
মিসাইলও ভাবে এই যুদ্ধে কে বা জিতায়?
রণতরীও খোলসে ঢুকে ভেসে যায় দূরে
মশার ভয়ে জেনারেলেরও মাথা ঘোরে!
কী এক আজব বস্তু এলো এই দুনিয়ায়
ছোট্ট দেহ, তবু শক্তিতে সে বড় ভাই!
নমরুদের থেকেও বড় বড় শক্তিগুলো
বাংকারে লুকিয়ে নাকে গুঁজে তুলো!
বড় বড় নেতা ভাষণ দেয় মঞ্চে দাঁড়িয়ে
আমরাই জিতব! বলে হাত নাড়িয়ে
তবু রাতে চুপিচুপি মশারি টানায়
মশার সুরে তাদের ঘুম ভেঙে যায়!
নাকে মুখে কানে গুঁজে দেয় প্রতিরোধী তুলো
তবু সেই গুন গুনানী থামে না একটুও!
চুক্তি, বৈঠক, শান্তি, শাস্তির যত সব বুলি
মশার কাছে সবই শুধু ফাঁকা এক বুলি!
মশা বলে যুদ্ধ নয়তো এখন বড়দেরই খেলা
আমি ছোট, তবু ঘুম কেড়ে নিই বেলা!
রাজনীতি, শক্তি যত সব বড় বড় বুলি
একটি মশাই পারে সব করে দিতে ধুলি!
ইতিহাস বলে---
অহংকারের সিংহাসনে বসে ছিল এক রাজা
নিজেকেই ভাবত সে এই সৃষ্টির মহারাজা
আকাশ ছুঁতে চেয়েও মাটির কথা ভুলে
ক্ষমতার নেশায় ডুবে সত্যটাকে দলে।
ধরায় এসেছিল এক সত্য, শান্ত দৃপ্ত কণ্ঠে
বলেছিল আলো জ্বলে এক মহান সত্ত্বে
সূর্য ওঠে আর ডোবে তাঁরই হুকুমে প্রতিদিন
তুমি কি পারো বদলাতে তার পথ চলন ?
নীরব হলো গর্ব, থমকে গেল তার মুখ
মিথ্যার প্রাসাদে লাগল ভাঙনের দুঃখ
অহংকারের মুকুট পড়ল ধুলার তলে
ক্ষুদ্র এক মশাতে হার মানে তুমুলে।
শিখিয়ে গেল ইতিহাস নীরব ভাষায়
উঁচু নয় সে, যে থাকে দম্ভের আশায়
বিনয়ে যে নত, সে-ই হয় সত্য মহান
ন্যায়ের পথেই জ্বলে জীবনের প্রাণ।
জুলুমের রাত যতই দীর্ঘ হোক না কেন
সত্যের সূর্য নিশ্চয়ই উঠবে আবার যেন
মিথ্যার আঁধার ভেঙে আলো করবে জয়
সত্য আর ন্যায়েই মানুষের স্বার্থক পরিচয়।
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ৮:৫০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


