somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মুঠোফোনের ভালবাসা-1

০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০০৬ ভোর ৫:৫৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পত্রিকার বিজ্ঞাপনগুলো খুটিয়ে খুটিয়ে পড়া আর সেখান থেকে মোবাইল নাম্বার সংগ্রহ করা মৌ'র প্রিয় কাজগুলোর একটি। প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে পত্রিকার হেডলাইনগুলো পড়ে কলেজে চলে গেলেও বিকালের অবসরে সে বিজ্ঞাপনগুলোর উপর গোয়েন্দা দৃষ্টি নিয়ে বসে। মোবাইল নাম্বারগুলো টুকে নেয় ছোট্ট একটা ডাইরীতে। তারপর অবসরে ঐসব নাম্বারে সে মিসকল দেয়। যেন মিসকল দেয়ার জন্যই মোবাইল, কথা বলার জন্য নয়। মিসকল দিয়ে অনেক সময় বিভিন্ন জনের কাছ থেকে বিভিন্ন ধরনের খারাপ আচরণের সম্মূখীন হয়েছে। তারপরও তার অভ্যাসটি বদলায়নি। বড় লোকের মেয়ে একটু ইচড়ে পাঁকা টাইপের। এ দেশে যখন মোবাইল ফোনের সবেমাত্র প্রসার ঘটতে শুরু করেছে তখনই তার হাতে উঠে আসে মোবাইল। তখন কিইবা দরকার ছিল তার কাছে একটি মোবাইলের!
একটি জাতীয় দৈনিকে ' বান্ধবী চাই' শিারোনামের একটি বিজ্ঞাপন ছাপা হয়েছে। নিচে দেয়া হয়েছে একটি মোবাইল নাম্বার। তা দেখে আর তর সয়না মৌ'র। মনে মনে ভাবে এ সুযোগ আর হাত ছাড়া করা যায়না ভাবে। তবে এ নাম্বারটার প্রতি তার আগ্রহের কারণটা অন্যখানে! যার নাম্বারটা ছাপা হয়েছে সে ঢাবিতে বি.বি.এ পড়ছে। ঢাবিতে পড়ছে তাও আবার বি.বি.এতে! ভালইতো!
রাত বারোটা বেজে দুই। শুরু হয় তার মিসকল দেয়া। পর পর সে দুটি মিসকল দেয়। কিন্তু কোন ফিরতি মিসকল কিংবা কল নেই। আবার সে মিসকল দিতে যাবে এমন সময় তার মোবাইলে হিন্দী 'চল চল চাইয়া চাইয়া' গানের সুরের মোবাইল রিংটোনটি বেজে উঠে। ইদানিং কালের ছেলে মেয়েরা হিন্দী গানের রিংটোন ব্যবহার করতেই বেশী ভালবাসে। দেশী গানের রিংটোন ব্যবহার করে এমন ছেলে মেয়ে খুজে পাওয়াই কষ্টকর।
কলটা রিসিভ করে মৌ।
-হ্যালো, কে বলছেন?
-আপনে কেলা?
-কল করেছেন আপনি, আপনি জানেন না আমি কে বলছি। না জানলে কল করেন কেন?
-আরে বাবা! মিসকল দিছেন আপনে। আমি কেমনে কইতাম আপনি কেলা?
-মিসকল!
-হ্যাঁ। এ নাম্বার থেকে পরপর দুটি মিসকল এসেছে।
-ও, আপনি নিশ্চয়ই নাফিস?
-হ্যা। আপনি কেডা? আমার নাম্বার পাইছেন কই?
-ন্যাকামো করা হচ্ছে? পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে বান্ধবী চান আর জিজ্ঞেস করেন নাম্বার পেলাম কোথায়?
-কিসের বিজ্ঞাপন? কোন পত্রিকায়?
-কেন সবুজ বাংলা পত্রিকায়?
-কই! আমিতো কিছুই জানিনা।
-আপনি জানবেন কেমন করে? জানবেতো মাঠের গরু ছাগলে।
-সত্যি বলছি আমি কিছুই জানি না।
-জানবেন, সময় হলে সবই বুঝবেন। আপনার মোবাইল নাম্বার ছাপানো হয়েছে পত্রিকায়। অথচ আপনি জানেন না? বললেই হলো।
-ও, বুঝছি। আমার একটা বন্ধু কাজ করে ঐ পত্রিকায়। হয়তো সেই দিয়েছে।
-হতে পারে, যাক বিজ্ঞাপনে দেখলাম আপনি ঢাবিতে বিবিএ পড়ছেন, সত্যি নাকি?
-না কি যে বলেন? আমিতো নেত্রকোনায় থাকি। ব্যবসা করি। বিবিএ-এমবিএ আমি বুঝিনা।এইটা আবার কী জিনিস?
-ও,তাই বুঝি।
কলটা কেটে দেয় মৌ। ভাবে এটা আবার কোন ধরনের রসিকতা। নাম ঠিকানা ছাপা হলো, টাইটেল চাপা হলো, তাও আবার মিথ্যা। যত্তসব।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
১৭টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মক্তব চালু করলে শিশুরা ফিরে আসবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:৪২


ববি হাজ্জাজ প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী। মুসা বিন শমসেরের ছেলে। মন্ত্রী হওয়ার পর থেকে পুরো দেশ চষে বেড়াচ্ছেন। নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন, নতুন নতুন আইডিয়া দিচ্ছেন। মনে হয়,... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঁধনের কেন ফেমিকন লাগে !!!

লিখেছেন অপলক , ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:৩৪



বাঁধন এখন বন্ধন মুক্ত। মিডিয়া পাড়ায় সরব উপস্থিতি। উপর মহলের ডাকে সারা দিতে হয়। কাজেই ফেমিকন লাগতেই পারে। মানে ফেমিকনের এ্যাড করা লাগতেই পারে। মিডিয়া আইকন হিসেবে জনসচেতনাতা বাড়াতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে ফিরে আসো

লিখেছেন সেজুতি_শিপু, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৬


সময়ের সাথে সাথে নিজেকে বদলে নিতে হয়,
তোমার শরীর জুড়ে যখন
অভিজ্ঞতার গল্প পাঠের আসর,
তখনও ছেলে ভোলানো ছড়ায়
নিজেকে ভোলালে চলে?

আঁজলা ভরে সময়ের যন্ত্রণাকে পান কর,
পান কর সত‍্যকে।
পান কর... ...বাকিটুকু পড়ুন

“উন্নয়নের দুর্ভিক্ষে বাংলাদেশ”

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৮



বাং/লাদেশের মূর্খ জনগণ উন্নয়নের চেয়ে কথিত ফ্যাসিবাদকে বড় করে দেখেছে কিন্তু “উন্নয়নের দুর্ভিক্ষ” কি জিনিস তা দেখেনি।

দেখতে থাকুক….। আর ভাতের দুর্ভিক্ষ শুরু হলে বলে…..।

ফ্যাসিবাদ দূর করতে গিয়ে উন্নয়নই "নাই"... ...বাকিটুকু পড়ুন

সম্পত্তি

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ২৬ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:৪৭

সম্পত্তি
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

মায়ের কোলে থাকা অবস্থায়
বাবা ইন্তেকাল করেন।
দিগবিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে পড়েন মা
বাবার অর্জিত কোনো সম্পত্তি ছিল না।
ওয়ারিশ সূত্রে কিছু খণ্ড খণ্ড জমি
এখনও বিদ্যমান বা আছে।
শৈশবে দেখেছি একটি জমিতে
চার-পাঁচটি কদম গাছ,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×