একটি জাতীয় দৈনিকে ' বান্ধবী চাই' শিারোনামের একটি বিজ্ঞাপন ছাপা হয়েছে। নিচে দেয়া হয়েছে একটি মোবাইল নাম্বার। তা দেখে আর তর সয়না মৌ'র। মনে মনে ভাবে এ সুযোগ আর হাত ছাড়া করা যায়না ভাবে। তবে এ নাম্বারটার প্রতি তার আগ্রহের কারণটা অন্যখানে! যার নাম্বারটা ছাপা হয়েছে সে ঢাবিতে বি.বি.এ পড়ছে। ঢাবিতে পড়ছে তাও আবার বি.বি.এতে! ভালইতো!
রাত বারোটা বেজে দুই। শুরু হয় তার মিসকল দেয়া। পর পর সে দুটি মিসকল দেয়। কিন্তু কোন ফিরতি মিসকল কিংবা কল নেই। আবার সে মিসকল দিতে যাবে এমন সময় তার মোবাইলে হিন্দী 'চল চল চাইয়া চাইয়া' গানের সুরের মোবাইল রিংটোনটি বেজে উঠে। ইদানিং কালের ছেলে মেয়েরা হিন্দী গানের রিংটোন ব্যবহার করতেই বেশী ভালবাসে। দেশী গানের রিংটোন ব্যবহার করে এমন ছেলে মেয়ে খুজে পাওয়াই কষ্টকর।
কলটা রিসিভ করে মৌ।
-হ্যালো, কে বলছেন?
-আপনে কেলা?
-কল করেছেন আপনি, আপনি জানেন না আমি কে বলছি। না জানলে কল করেন কেন?
-আরে বাবা! মিসকল দিছেন আপনে। আমি কেমনে কইতাম আপনি কেলা?
-মিসকল!
-হ্যাঁ। এ নাম্বার থেকে পরপর দুটি মিসকল এসেছে।
-ও, আপনি নিশ্চয়ই নাফিস?
-হ্যা। আপনি কেডা? আমার নাম্বার পাইছেন কই?
-ন্যাকামো করা হচ্ছে? পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে বান্ধবী চান আর জিজ্ঞেস করেন নাম্বার পেলাম কোথায়?
-কিসের বিজ্ঞাপন? কোন পত্রিকায়?
-কেন সবুজ বাংলা পত্রিকায়?
-কই! আমিতো কিছুই জানিনা।
-আপনি জানবেন কেমন করে? জানবেতো মাঠের গরু ছাগলে।
-সত্যি বলছি আমি কিছুই জানি না।
-জানবেন, সময় হলে সবই বুঝবেন। আপনার মোবাইল নাম্বার ছাপানো হয়েছে পত্রিকায়। অথচ আপনি জানেন না? বললেই হলো।
-ও, বুঝছি। আমার একটা বন্ধু কাজ করে ঐ পত্রিকায়। হয়তো সেই দিয়েছে।
-হতে পারে, যাক বিজ্ঞাপনে দেখলাম আপনি ঢাবিতে বিবিএ পড়ছেন, সত্যি নাকি?
-না কি যে বলেন? আমিতো নেত্রকোনায় থাকি। ব্যবসা করি। বিবিএ-এমবিএ আমি বুঝিনা।এইটা আবার কী জিনিস?
-ও,তাই বুঝি।
কলটা কেটে দেয় মৌ। ভাবে এটা আবার কোন ধরনের রসিকতা। নাম ঠিকানা ছাপা হলো, টাইটেল চাপা হলো, তাও আবার মিথ্যা। যত্তসব।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


