সোনাপুর
--------------------
কুয়াশায় আচ্ছন্ন ঘেরা এক সকাল বেলায় নতুন কিছু আবিস্কার করিবার ভুতটা মাথায় চাপিলো।কি আর করিবার আছে। অনিচ্ছাসত্ত্বে ও অল্প বস্ত্র পরিধান করিয়া,শীতে ঠকঠক করিয়া কাঁপিতে কাঁপিতে মানিক নগরের চিপা রাস্তা দিয়া একদা একদিন সোনাপুর গিয়া পৌঁঁছিলুম।গিয়া দেখিলুম চারিদিক অন্ধকার।মনে মনে ভাবিলুম এতটুকুন পথ আসিতে রাত্রিকাল হইল কি করিয়া?ভাবিলুম আমার মতিভ্রম হয়নি তো আবার।নিজের শরীরে নিজেই চিমটি কাটিয়া পরীক্ষা করিয়া দেখিলুম,না ঠিকই তো আছে। তবে একটা বিষয় অনুভব করিয়া ভীষণ আচার্য হইলুম।কিছুক্ষণ আগেও যেই স্থানে ঠাণ্ডায় ঠকঠক করিয়া কাঁপিতেছিলুম কিন্তু এখন কেমন যানি গরম অনুভাবিত হইয়া দর দর করিয়া রস বর্ষণ হইতেছিল।পাশেই একজনকে দেখিলুম ডাক দিয়া বলিলুম দাদা এইটা কি সোনাপুর?
-হুম এটা সোনাপুর।কেন?
-না ভাবলাম রাস্তা ভুল করিয়াছি কিনা?
-এইখানে তো কেহ ভুল করিয়া আসেন না,স্বেচ্ছায় আসিয়া থাকে।
-উহা জানি তা আজকাল কি এইখানে ঘন ঘন লোডশেডিং হইতেছে?
-(বড় বড় চোখ করিয়া)আপনি কোথায় থাকেন বলুন তো মশাই?
-কেন?আমি তো শহরে থাকি।
-ও তাই বলুন,কেন আপনি জানেননা সোনাপুরে কখনো ইলেক্ট্রিসিটি থাকেনা। এটাকে লইয়া কোন মন্ত্রী, সরকার,বিত্তবান, নেতাদের কোনরূপ দরদ নেই?
-কেন তাহারা কি এখানে আসেন না?
-আসে মাসে দু একবার।
-ভালো তো আপনারা অনেক ভাগ্যবান।
-ভাগ্যবান না ছাই!
-কেন তাহা হইলে কি ভোট চাহিতে আসে?
-ভোট চাহিতে নয়,উন্নয়ন করিতেও নয়!
-তাহা হইলে?
-নিজের মন উন্নয়ন করিবার জন্য।
-সেইটা আবার কি?
-এটাই বুঝিলেন না মশাই,শুধু মাথায় হাত বুলাইয়া সান্ত্বনা দিয়া যায় হইবে হইবে।
-তাহা হইলে অধিকার আদায়ে আন্দোলন করুন?
-করেছিতো সে জন্যই তো এখন কাজ হচ্ছে।
-দেখুন কাজ না হইলে আমাকে বলুন আইনি লড়াইয়ের জন্য আমি আপনাদিহকে বিনা পয়সায় সার্ভিস দিয়া যাইব।
-তো মশাই আপনার নামটা কি?
-কাহাকে জিজ্ঞাসা করিলেন, আমাকে?
-হু
-আমি নিচু তলার উকিল।
-তাইতো বলি এ রাজ্যে আপনি ঢুকিলেন কি করিয়া?
-কেন আমার কি ঢোকা বারণ?
-না তাহা নহে,আপনার ও তো,অধিকার আছে একফোঁটা জলবর্ষণ করিবার.........
,
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে জানুয়ারি, ২০১৭ সকাল ১১:৫৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



