মেয়েটি বোবা; কথা বলতে পারে না। সে কারণে তার বিয়েও হয় না। অন্যদিকে মাহফুজ- ষাটের দশকের এক যুবক। যার বাবা জমিদার ছিলেন এককালে। ধার্মিক, কিন্তু বেহিসেবী আর অত্যাচারী। কিন্তু মোক্তার হুমায়ূন ফরিদীর বিশ্বাসঘাতকতায় হারান সবকিছু। পরিস্থিতির চাপে মোক্তারের বোবা মেয়ের সাথেই বিয়ে দেয়া হয় মাহফুজের। মাহফুজ তার পরিবারের দিকে চেয়ে মেনে নেয় সব- তারা শহরে আসে। ঢাকা তখন উত্তাল- আগরতলা মামলা চলছে। চারিদিকে মিছিল, মিটিং। আত্মকেন্দ্রিক মাহফুজ তখন তার পরিবারের জন্য নিরাপত্তা চায়। চায় তার শ্বশুরের কল্যাণে পাওয়া চাকরীর নিশ্চয়তা। মাহফুজের মধ্য দিয়ে তখনকার মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মনোভাব তুলে ধরা হয়েছে। একদিকে পারিবারিক জীবনের অশানত্দি, অন্যদিকে ঢাকার উত্তাল পরিবেশ তাকে অস্থির করে তোলে। আর অন্যদিকে বোবা মেয়ের চরিত্রে রূপদানকারী শাবনূর চালিয়ে যায় তার কথা বলার নিরনত্দর প্রচেষ্টা। সে কখনো হারমোনিয়াম বাজিয়ে গান গাইবার চেষ্টা করে কখনোবা মিছিলের সাথে কণ্ঠ মেলাতে চায়। শেষ পর্যনত্দ তার মুখে কথা ফোটে। আর তার প্রথম উচ্চারিত শব্দ ছিলো বাঙলা। এই ছিলো বাঙলা মুভিটির পুরো কাহিনী।
মুভিটি যতোটা না এক বোবা মেয়ের কথা বলার আকুতি, তার চাইতে অনেক বেশি মধ্যবিত্ত এক আত্মকেন্দ্রিক যুবকের টানাপড়েনের চিত্র। যারা আহমদ ছফা'র ওঙ্কার পড়ে মুগ্ধ হয়েছেন, তারা অনেকেই আশা করেছিলেন শহীদুল ইসলাম খোকন-এর বাঙলা তাদের মুগ্ধতায় ভরিয়ে তুলবে, আরো একবার। কিন্তু দুঃখের ব্যাপার হলো, এই মুভিটি সবাইকে হতাশ করেছে। তার মানে এই নয় যে, মুভিটি ভালো নয়। তবে শিল্পমানের দিক থেকে প্রশ্ন তোলার যথেষ্ট অবকাশ রয়েছে। মুভিতে পেশাদারি উৎকর্ষতায় উৎরে গেছেন পরিচালক শহীদুল ইসলাম খোকন, চমৎকার অভিনয় করেছেন
মাহফুজ আহমেদ ও হুমায়ূন ফরীদি। যারা শাবনূরের নিরনত্দর দেখে মুগ্ধ হয়েছিলেন তাদের হতাশ করেছেন এবার তিনি। বোবা মেয়ের চরিত্রে খুব একটা স্বতস্ফূর্ত মনে হয়নি তাকে। আমাদের দেশে সাহিত্যনির্ভর মুভি তৈরি হলেও তা দর্শকের মন মতো হয় না। যেমনটি হয়েছিলো সুচন্দা'র হাজার বছর ধরে মুভির ৰেত্রেও। কারণ দর্শক যখন কোন উপন্যাস বা গল্প পড়ে তখন তার নিজের মধ্যে এক ধরণের চিত্রকল্পের সৃষ্টি হয়। তারা আশা করে ঠিক সে ধরণের দৃশ্যই তারা দেখতে পাবে পর্দায়। সে কারণেই দর্শকদের মনসত্দত্ত্ব না বুঝে মুভি বানানোটা কতোটা যুক্তিসঙ্গত তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে। এই মুভিটি আরো একবার প্রমাণ করেছে যে ভালো উপন্যাস বা গল্প নিয়ে মুভি তৈরি করলেই তা ভালো মুভি হতে বাধ্য নয়।
তারপরও ভালো মুভি তৈরির চেষ্টা চলছে আমাদের এখানে, এটা আমাদের আশাবাদী করতেই পারে।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



