স্কুল জীবনে ৪র্থ ক্লাস শুরু হওয়ার সাথে সাথে ঘড়ি দেখতাম কখন পিরিয়ড শেষ হবে, টিফিনটা কখন শুরু হবে।
আবার ৮ম ক্লাসে এসে ঘড়ি দেখা হরদম শুরু হয়ে যেত, কখন ক্লাসটা শেষ হবে। কখনও ক্লাস ফাঁকি দিইনি কিন্তু এ দু পিরিয়ড আসলেই ঘড়ি দেখা কেমন জানি মূদ্রা দোষ হয়ে গেল।
স্কুল জীবনের গন্ডি পেরিয়ে কলেজে গেলাম সেখানেও একই দশা। ঘড়ি দেখার মূদ্রা দোষটি রয়েই গেল। মনে মনে ভাবলাম ঘড়ি পড়াই বাদ দেব। দিলাম-ও কিছুদিন। তাতে কি! ক্লাসের দেয়াল ঘড়িটার দিকে বারবার তাকানোর নতুন অভ্যাস শুরু হয়ে গেল।
কলেজেরও গন্ডি পার করলাম। চাকরীতে আসলাম। অভ্যাস কি আর সহজে যায় ! ৯টায় ইন করি আর ৪.৩০ টা বাজলেই ঘড়ি দেখা শুরু হয়ে যায় কখন ৫ টা বাজে। ৫ টা ঠিকই বাজে, ৬টাও বাজে, ৭ টা তারপরে গিয়ে চিন্তা করতে হয় কখন বাড়ী ফিরব। আগের ঘড়ি দেখাই কাজ হত, কারন টাইম টেবিল ছিল কিন্তু চাকরী জীবনে কোন টাইম টেবিল নেই। ঘড়ি দেখেও আগের মত ফল পাইনা। বরং আরো উল্টা হয়। যেদিন ঘড়ি বেশী দেখি সেদিন আরো বেশী দেরীতে বের হতে হয়।
আজ এখনই ঘড়ি দেখা শুরু করে দিয়েছি। অথচ এখনও বস আসেন নাই। ঘড়ি দেখা বন্ধ না হলেও ভাগ্যের দোষ দিয়েও কোন লাভ নেই, বাস্তবাতা এমনই।
দুঃখ একটাই আগের ঘড়ি দেখাই কাজ হত এখন আর হয়না।
মাঝেমধ্যে মনে হয়, ঘড়িগুলো আগে ভাল কাজ করত যা এখন আর করেনা।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

