somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গল্প নয় একেবারে সত্য

২৭ শে অক্টোবর, ২০১৫ রাত ৮:০৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মেয়েছেলেরা সাধারণত একটু সরল মনের হয়ে থাকে। ঠিক তার ব্যতিক্রম নন ডেইজি ভাবী। জামাই বাংলাদেশ বিমানের স্টাফ। ঢাকা শহরে চারতলা বিল্ডিং এর মালিক। ২০০২ সাল থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত প্রায় পাঁচ বছর ওনাদের বাসায় ভাড়া থাকার দরুন একটা সুসম্পর্ক আজঅব্দি। আমার ঘরওয়ালী এবং বাড়িওয়ালী ডেইজি ভাবীর সংগে খুব ভাব। বিশেষ করে তাদের একটা এসোসিয়েশন রয়েছে যেখানে প্রায় ৭০ জনের মতো সদস্য। প্রতি মাসে তাদের একবার মিলনমেলা হয় কোন চাইনিজ রেষ্টুরেন্টে বা কারো বাসায় ঘটা করে খাওয়া দাওয়ার ভিতর। এই ৭০ জন প্রত্যেকে মাসে ২,০০০.০০ টাকা করে এসোসিয়েশনে জমা দেয় এবং মাসে দুইবার লটারীর মাধ্যমে দুইজনকে এই টাকা দেওয়া হয়। এভাবে তাদের ইউনিটি চলে আসছিল দীর্ঘ দিন যাবত। বিনা লাভের এই এসোসিয়েশন তাদের মাঝে দিয়েছে একটা একতা, সাম্য ও সঞ্চয়ের প্রত্যয়। লটারিতে যে টাকা পাবে তাকে একটু খেসারত দিতে হবে সবাইকে খাওয়ায়ে। লাভ বলতে একসাথে ৭০,০০০.০০ টাকা পেয়ে কিছু করা এবং লস বলতে পকেটের পয়সা খরচ করে ৭০ জনের উদর পূর্তী করা। অধিকাংশ সময় আমার বাসয় খাওয়া দাওয়ার অনুষ্ঠানটা হতো। সারাদিন বিয়ে বাড়ির উৎসবে আমার ঘর মুখরিত থাকত। আমি সন্ধায় বাসায় ফিরে দেখতাম ডাইনিং টেবিলে সাজানো সব আকর্ষনীয় খাবার দাবার। আমি অনেকটা কাবাবের হাড্ডির মতো সময় পার করতাম।

বলছি মাস দুয়েক আগের ঘটনা; জানতে পারলাম একটা এনজিওতে কিছু সংখ্যক মহিলা অফিসার নিবে। বেতন ৩০,০০০.০০ টাকা, তবে শর্ত হচ্ছে বোরখা পরে বিভিন্ন মাদ্রাসায় ভিজিট করতে হবে। এনজিওটি নাকি সৌদিআরব থেকে পরিচালিত। তবে এমন সুন্দর চাকরী পেতে হলে একটু ত্যাগ স্বীকার করতে হবে। যেমন ধরুন প্রথমে আপনাকে ২০,০০০.০০ টাকা ঘুষ দিতে হবে এর পর হবে ট্রেনিং টিকে গেলে বাকি ২০,০০০.০০ টাকা। অর্থাৎ আপনাকে উক্ত চাকরী পাবার পর ৪০,০০০.০০ টাকা ঘুষ প্রদান করতে হবে। অফারটা ডেইজি ভাবীর মাধ্যমে সবার কানে মোবাইল নেটওয়ার্কের মতো পৌঁছে গেল। আমার ঘরওয়ালীকে চাকরী ছাড়া করেছি যখন আমার প্রথম সন্তান ভূমিষ্ট হয়। তার ভিতর চাকরী করার একটা আদম্য বাসনা এখনো কাজ করে। পারে না শুধু আমার জন্য। বুঝতে অসুবিধা হয় নাই যে ডেইজি ভাবীর অফার শুনে মাথার ভিতর সেই পুরানো পোকা ঘুর পাক খাচ্ছে। ভাবী সকলের নিকট অতি প্রিয় এবং বিশ্বস্ত বটে। ওনার কথা হচ্ছে টাকা দিবা আমাকে, তোমরা আমাকে চেন সুতরাং তোমাদের ভয় কিসের? আসলেইতো তাই, ওনার জামাই অঢেল টাকার মালিক সুতরাং ভয় কিসের?

অবশেষে আমার কানের কাছে মিন মিন করে প্রস্তাব এল।
-- একটা ভাল চাকরীর অফার আছে, বেতনও ভাল, তুমি অনুমতি দিলে চাকরীটা করতাম;;
---- কি চাকরী তোমায় খুঁজতেছে? শুনি;;
-- একটা বিদেশী এনজিও। ডিউটি হচ্ছে বোরখা পরে বিভিন্ন স্কুল ভিজিট করা। স্কুল মানে মাদ্রাসা আর কি;
-- তাই নাকি? তো অফিস কোথায়? কে দিবে চাকরী? চাকরীটা কি খুব জরুরী? জঙ্গী প্রশিক্ষন নয়তো আবার?
-- ওই তো, তোমাকে কিছু বললেই শুধু খোটা মেরে কথা বল; তুমিকি ভেবেছ আমার নিজের কোন চ্যানেল নাই?
--- আছে তো... বিরাট চ্যানেল। ৬০/৭০ জন্য অবলা মহিলাদের চ্যানেল !!
--- আমার ২০,০০০.০০ টাকা দরকার। আমাকে দুই মাসের জন্য ধার দাও এর পর বেতন পেলে দিয়ে দিব।
-- বেশ ভাল কথা; টাকা আমি দিব কিন্তু আমাকে অফিসটা দেখতে হবে।
--- তোমার অফিস দেখে কি হবে? ডেইজি ভাবি তার ৮/১০ জন আত্মীয়কে অলরেডী চাকরীতে ঢুকিয়ে দিয়েছে। তারা ট্রেনিং দিচ্ছে, সামনের মাসেই জয়েন।
-- তাই না কি? আমার গিন্নি কোথায় চাকরী করতে চায় সেটা দেখা আমার ঈমানী দায়িত্ব নয় কি?
--- তোমার শুধু বাড়াবাড়ি, টাকা চাচ্ছি দিলে দিবে না দিলে না দিবে। হুম....
--- যে লোক টাকা নিচ্ছে সে ডেইজি ভাবীর কি হয়?
-- খুব পরিচিত, ভাবী বলেছে টাকার জন্য সে জিম্মা, টাকা মার গেলে সে দিবে।
-- দেখ, ছোট ছেলেটা একটু চঞ্চল টাইপের, ওকে কাজের মেয়ের কাছে রেখে তুমি চাকরী করবে এটা কি ঠিক হবে?
--- ও ওওওও তার মানে আমরা মেয়েরা সারা দিন ঘরে বসে তোমাদের তিন বেলা রান্না করে খাওয়াব আর পোলাপান সামলাব আর তোমরা বসে বসে আরামে এদিক ওদিক ঘুরে বেড়াবা আর তিন বেলা রান্না করা ভাত গিলবা? আমাদের কোন শখ আল্লাদ নাই নাকি?
--- তা তো আছে........... কিন্তু একবার না দেখে যে আমি তোমাকে টাকা দিব না;;
-- থাক আমাকে টাকা দিতে হবে না; তোমার সংসারের ঘানি টানা ছাড়া আমার আর কি-ইবা করার আছে ?
--- ওকে, ঠিক আছে। ভাবীকে আমাদের বাসায় চা খেতে নিয়ে আস আমি কথা বলব তার সাথে।

এই পর্যন্ত কথা শেষ। আর কিছুই জানতাম না এই ব্যাপারে। হঠাৎ...
গতকাল আমাকে ঘরওয়ালী কি যেন একটা বলতে গিয়েও আবার বলছে না। মৃদু স্বরে একবার শুনলাম কি যেন বলল। ডেইজি ভাবীর যে কি অবস্থা !! কি যে অবস্থা....... আহ হা রে।
-- কেন কি হয়েছে? অসুখ বিসুখ নাকি?
--- না, মানে.........তোমাকে বলব? তুমিতো আবার বেশী বেশী বলা শুরু করবা....... আসলে তোমাকে একটা চাকরীর কথা বলেছিলাম না?
-- হ্যা, মনে আছে ৩০,০০০.০০ টাকা বেতন, ডিউটি শুধু বোরখা পরে মাদ্রাসায় মাদ্রাসায় ভিজিট। আবার নতুন করে কি হয়েছে?
-- সেই লোক চাকরী দেবার কথা বলে ভাবীকে বিপদে ফেলে দিয়েছে। ভাবী ৮/১০ জন নিজের লোক ওখানে ঢুকিয়েছে। প্রত্যেকের কাছ থেকে ২০,০০০.০০ করে টাকা নিয়ে ওদের দিয়েছে।
--- তারপর? আগে বাড়ো...............
--- ওই এনজিও প্রায় ৫০০ জনের কাছে থেকে টাকা হাতিয়ে গায়েব হয়ে গেছে!!!!
---- তার মানে প্রায় এক কোটি টাকা? সর্বনাশ !!! তোমার ডেইজি ভাবীর এখন কি অবস্থা? তার ভাগে কত পড়ল এখন?
--- সেই ঘটনা নিয়ে সালিশ বিচার চলছে, যাদের কাছ থেকে টাকা নিয়েছে তাদের ২,০০,০০০.০০ টাকা ফেরত দিতেই হবে। তা না হলে আত্মীয় স্বজন সবাই তাকে ভুল বুঝবে এবং সম্পর্কও রাখবে না। ভাবীর টেনশনে ঘুম হয় না। ভাই এসব জানে না, তাকে বললে ভাবীকে বাসা থেকে হয়তো বের কর দিবে।
-- কেন; জামাইয়ের কাছ থেকে টাকাটা নিয়ে চাকরী দেবার খেসারত স্বরূপ সবাইকে ফেরত দিয়ে দিক তাহলেইতো হল।

আমাকে যে বেশী কথা শুনিয়েছিলে এখন তার কি হবে? আগে একবার "যুবক" নামক এনজিওতে টাকা ডিপোজিট করার জন্য এই তাল করেছিলে, আমি রাজী ছিলাম না। এমনকি তোমার বান্ধবীরা সেখানে সবাই টাকা রাখছে আর তুমি রাখতে চাচ্ছ অথচ আমি রাজী হচ্ছি না তাই আমাকে কত কথা হজম করতে হয়েছিল। অবশেষে "যুবক' যখন সকল টাকা নিয়ে গায়েব হয়ে গিয়েছিল, মনে পড়ে তোমার বান্ধবীদের মুখের দিকে তাকানো যাচ্ছিল না? সুতরাং ঘরের ভিতর যে নেতা তার কথাকে সর্বদা মেনে চলাই হচ্ছে তোমাদের উপর ফরজ যদি না উক্ত নেতা তোমাদের কোন খারাপ কাজের দিকে আহ্বান না করে। আমি শিখেছি কাউকে ট্রাপে ফেলতে চাইলে প্রথমেই তাকে লোভে আনতে হবে। এমন লোভ যে সে দিক বিদিক শূণ্য হয়ে যায়। অবশেষে সে বুঝতে পারে লোভে পাপ পাপে মৃত্যু।

লেখাটা সতর্কমূলক পোষ্ট হিসাবে দিলাম।
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে অক্টোবর, ২০১৫ রাত ৮:০৪
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Ripe Age দুই প্রান্তের দুই মানুষঃ সামু শব্দের সেতু প্রজন্মের বন্ধন

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:২৪


একজন দাঁড়িয়ে জীবনের শুরুতে
চোখে তার অগণিত স্বপ্ন
আগামীর পথে কত প্রশ্ন
কত না-জানা, কত বিস্ময়
কত দূরের নীল আকাশ
ডাকে তাকে প্রতিদিন।

অন্যজন বসে জীবনের শেষে নয়
বরং দীর্ঘ পথ পেরিয়ে আসা এক প্রান্তে
প্রায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও তার যতসব অপরাধ।।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:১৫



আজ ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে বলতে গেলে সব মিডিয়াতে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ উঠেছে। উহা দুবাইয়ে ৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, সিঙ্গাপুরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ট্রেন টু কক্সবাজার: টিকিট পেলাম না, পেলাম বিকল্প পথের সন্ধান

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:০৭

কক্সবাজার যাওয়ার ইচ্ছে ছিল অনেক দিনের। তবে এবার লক্ষ্য ছিল একটু আলাদা—বাসে নয়, বিমানে নয়; ট্রেনের জানালায় চোখ রেখে সমুদ্রের শহরের পথে যাত্রা। কিন্তু সেই সহজ পরিকল্পনার প্রথম বাধাই হয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিন্নাহ কি বাঙালি মুসলমানের শত্রু?

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:২৪


মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ পাকিস্তানের স্বপ্নদ্রষ্টা বা পাকিস্তানের জাতির জনক। একজন বাংলাদেশী হয়ে পাকিস্তানের জাতির জনককে নিয়ে আলোচনা করলে কি গুনাহ হতে পারে কিংবা বড় ক্ষতি হতে পারে? বাংলাদেশে জিন্নাহর... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেয়ার বাজারকে গতিশীল করতে স্টক ব্রোকারদের নিয়ে বৈঠকে বসছে ডিএসই আজ ১৪-০৯-২০২৬

লিখেছেন কাজী আবু ইউসুফ (রিফাত), ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৭



বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে মন্দার কারণ ও প্রতিকার

ভূমিকা

একটি দেশের অর্থনীতিকে যদি একটি জীবন্ত দেহ হিসেবে কল্পনা করা হয়, তবে তার শেয়ারবাজার অনেকটা হৃদস্পন্দন ও তাপমাত্রা মাপার যন্ত্রের মতো। অর্থনীতির কোথায় প্রাণশক্তি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×