
পরিচালক এস এ হক অলিকের তৃতীয় ছবি এটি। ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্রে শাকিব খান এবং পরিমনি অভিনয় করলেও একেবারে শুরুর দিকে শাকিবের সাথে ঢালিউডের অন্যতম নায়িকা ববিকে দেখে একটু ধাক্কা খাই। একটু কনফিউশনে পরে যাই। আসলেই কি আরো ভালবাসবো তোমায় দেখছি? নাকি এটি ভুল করে অন্য কোন ছবি দেখতে বসলাম? সব কনফিউশন দূর হয় একটু পরেই। আসলে ছবিটিতে শাকিব খান একজন চিত্র অভিনেতার ভূমিকায় অভিনয় করেছেন যেখানে নিজের নামটিই ব্যবহার করা হয়েছে। আর ববির সাথে কাহিনী শুরু হওয়ার ব্যাপারটি ছিল আসলে সিনেমার শুটিঙের অংশ। যাই হোক, ছবির প্রথমেই এই চমকটি ভালো লেগেছে।
ছবির কাহিনী আবর্তিত হয় বাংলাদেশের অন্যতম নায়ক শাকিব খানের প্রেম হয় সিলেটের সাধারণ এক মেয়ে নোলকের সাথে। নোলকের সাথে দেখা করতে বলে শাকিব খানকে, সাথে শর্ত দিয়ে দেয় একেবারে সাধারণ মানুষের মত আসতে হবে। প্রথমে ট্যাক্সি ক্যাবে করে কমলাপুর রেলস্টেশনে এসে সাধারণ বগিতে টিকিট কেটে তাতে করে আসতে হবে। অনেক ঝামেলার পর ট্রেনে উঠে সিলেটের উদ্দেশে রওনা দেয় শাকিব। যদিও শাকিবের সব কিছু ঢাকা থেকেই ফলো করে নোলক। আর সিলেট পৌঁছানোর আগেই দেখা হয়ে যায় শাকিবের সাথে নোলকের। প্রেমও এইভাবে চলতে থাকে। একটা সময় তারা সিদ্ধান্ত নেয় বিয়ে করার কিন্তু ঝামেলা করে নোলকের বাবা। মিডিয়া জগতের কারো সাথে নোলকের বিয়ে দিবে না তার বাবা। এভাবেই কাহিনী এগিয়ে যায়। ছবির কাহিনীতে ট্র্যাজেডি আছে যা পরিচালকের আগের ছবিগুলোতে দেখা যায় নি।
ছবিতে শাকিবের অভিনয় মোটামুটি মানের ছিল। দুঃখের দৃশ্যগুলোতে চোখ ভেজা কান্না এতটা না দেখালেও পারত। কান্না ছাড়াও দুঃখ প্রকাশ করা যায় অভিনয়ে সেটা শেখা উচিৎ তার। পরিমনির অভিনয় ভালো ছিল কিন্তু কিছু কিছু জায়গায় মাত্রাতিরিক্ত ন্যাকামি লক্ষ্য করা গেছে। ছবিতে আরও অভিনয় করেছেন সোহেল রানা তার নাম ভুমিকায়। তার অভিনয় ভালো লেগেছে। তবে সবচেয়ে মজার লেগেছে নায়িকার ফুফুর চরিত্রে অভিনয় করা চম্পাকে। তার অভিনয় এবং মজার সংলাপগুলো দর্শককে হাসাবেই।
ছবির গানগুলো শ্রুতিমধুর ছিল।হাবিব, পড়শি, হৃদয় খান অসাধারণ কিছু গান উপহার দিয়েছে এই ছবিতে কিন্তু কোন গানের দৃশ্যায়নই মনে দাগ কাটতে পারেনি। প্রতিটি গানে বাংলাদেশী পোশাকে নায়ক নায়িকাকে উপস্থাপন করা হলেও একটি গানে পরিমনিকে হঠাৎ করে হাফ প্যান্টে দেখাটা দৃষ্টিকটু লেগেছে যেখানে পুরো ছবিতে তাকে সাধারণ মেয়ে হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। পরিচালককে আর্ট নির্দেশনা এবং কোরিওগ্রাফির প্রতি আরও মনযোগ দেওয়া দরকার ছিল।
ছবির কিছু কিছু দৃশ্যও অসংগত লেগেছে। যেমন নোলক এবং তার ফুফু যখন হলে শাকিব খানের মুভি দেখতে যায় তখন তারা কারণ ছাড়াই বোরকা পরে সেখানে উপস্থিত হয়। যেহেতু তারা কোন সুপার স্টার না তাই বোরকা পরে মুখ ঢেকে হলে যাওয়ায় কোন যুক্তিকতা দেখি না। আবার শাকিব এবং নোলকের ফোনের বিশেষ রিংটোন কিভাবে হঠাৎ করে ছবির শেষের দিকে পরিবর্তিত হয়ে যায়? আবার বাংলা ছবির প্রতি পাগল এবং শাকিব খানের ভক্ত নোলকের ফুফু শাকিবের ছবি দেখে হিন্দি সংলাপ কেন বলল তা আমার বোধগম্য হলনা।
যাই হোক, সব দিক দিয়ে বিবেচনা করলে ছবিটা এতটা খারাপও না। পরিচালক এস এ হক অলিক একটা মিষ্টি প্রেমের ছবি উপহার দিতে চেয়েছেন এবং সেই দিক থেকে সে সার্থক। আর যারা শাকিব খানকে নিয়ে উপহাস করেন তাদের বলবো ছবিটা অন্তত দেখুন। সে নিজের অভিনয়ে যে ইদানিং মনযোগী হয়েছেন সেটা বোঝা যায়।
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই নভেম্বর, ২০১৫ রাত ১০:০৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




