
রাজধানী ঢাকা একদিকে যেমন যানজট তেমন জলাবদ্ধতা একটা শহর। ঢাকায় অন্য যেকোনো দূষণের চেয়ে বেশি এগিয়ে আছে বায়ুদূষণ। এখন ঢাকার বাতাসে প্রতি ঘনমিটারে সিসার গ্রহণযোগ্য মাত্রার চেয়ে অন্তত প্রায় ১০ গুণ বেশি। সালফারডাই অক্সাইড
এবং নাইট্রোজেন ডাইঅক্সাইডের মাত্রা বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদিত মাত্রার চেয়ে অনেক বেশি। শুধু বায়ুদূষণের কারণেই প্রতি
বছর প্রায় ১৫ হাজার মানুষ মারা যাচ্ছে।
অন্যদিকে ঢাকার যানজটের কথা বলাই বাহুল্য। ভূমি ব্যবহারের যথাযথ নীতিমালা না মেনে নগরীতে বিক্ষিপ্তভাবে গড়ে ওঠা অপরিকল্পিত অবকাঠামো প্রায় ৭৩ শতাংশই। জলাশয় এবং নিম্নাঞ্চল ভরাট করে অপরিণামদশীর্ উন্নয়নের ফলে অনিয়ন্ত্রিত
হয়ে পড়েছে ঢাকা শহরের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা।
শহরের বাসিন্দাদের নিবিের্ঘ যাতায়াতের জন্য মোট আয়তনের ২৫ শতাংশ সড়কের প্রয়োজন হলেও রাজধানীতে রয়েছে মাত্র ৮ শতাংশ। নদীগুলো বিষাক্ত হয়ে গেছে। পানিতে কমে দ্রবীভ‚ত অক্সিজেন। অথচ, রাজধানীর চারপাশের নদীগুলো নগরীর পরিবেশ ও জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূণর্ ভ‚মিকা রাখতে পারত।
এটা অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই যে রাজধানী ঢাকা সেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলোর সমন্বয়হীনতার কারণে প্রায়ই জনদুভোর্গ
চরম আকার ধারণ করতেছে। আর এই সমস্যা সমাধানে সিটি গভনের্মন্ট ব্যবস্থা চালু করার বিষয়ে অনেক আলোচনা হলেও এ
বিষয়ে এখনো পযন্ত তেমন কোনো অগ্রগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।
নদীভাঙনসহ নানা প্রাকৃতিক দুযোের্গের সাথে লড়াই করে বাঁচার আশায় অনেকে মানুষ উদ্বাস্তু হয়ে একপযাের্য় এই ঢাকা শহরে
এসে ভিড় করছেন।আর এসব উদ্বাস্তুর কারনেও নগরীর আইন-শৃঙ্খলা ও নগরবাসীর সাবির্ক জীবনমানে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
তবে দীর্ঘ সময় ধরে একদিকে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা ও সামাজিক অস্থিরতা, জননিরাপত্তার অভাব এবং স্বাস্থ্যসেবার
নিম্নমানের জন্য ঢাকা বসবাসের সবচেয়ে অযোগ্য শহরের তালিকায় পেয়েছে দ্বিতীয় স্থান। তবে আন্তরজাতির্ক গভেষকদের মতে
ঢাকা শহর বিশ্বের অবসবাসযোগ্য দ্বিতীয় নগরী হিসেবে স্থান পেয়েছে। আর তাই এ বিষয়টিকে দলমত নির্বিশেষে একদিকে যেমণ সকল রাজনীতি বিধদের গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে। তেমনি রাজধানী ঢাকাকে বাসযোগ্য করে গড়ে তুলতে সরকারের পাশাপাশি সকল জন সাধারনকেও এগিয়ে আসতে হবে।
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই আগস্ট, ২০১৮ রাত ১২:৩৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



