
খাজা নাজিমুদ্দিন ছিলেন একজন বাঙালি রাজনীতিবিদ। তিনি ঢাকার নবাব পরিবারের একজন সদস্য ছিলেন। নিখিল ভারত মুসলিম লীগের সদস্য হিসেবে নাজিমুদ্দিন দুইবার বাংলার প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পরই মুহাম্মদ আলি জিন্নাহর মৃত্যু পরবর্তীতে ১৯৪৮ সালে তিনি পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল হন। ১৯৫১ সালে প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলি খানের মৃত্যুর পর তিনি পাকিস্তানের দ্বিতীয় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হন।তিনি রক্ষণশীল গড়নের ছিলেন এবং তাকে অজনপ্রিয় বিবেচনা করা হয়।তার সরকার মাত্র দুই বছর ক্ষমতায় ছিল। তার সময় গৃহবিবাদ এবং বৈদেশিক চ্যালেঞ্জ বৃদ্ধি পায় যা তার পদচ্যুতির দিকে ধাবিত হয়। ১৯৫৩ লাহোর দাঙ্গার পর তিনি মেজর জেনারেল আজম খান এবং কর্নেল রহিমউদ্দিন খানের অধীনে পাঞ্জাবে সামরিক আইন জারি করেন। দারিদ্র বিমোচন কর্মসূচিতে ব্যর্থতার পর পশ্চিম পাকিস্তানে সমাজতন্ত্রের উত্থান ঘটে। পূর্ব পাকিস্তানে ভাষা আন্দোলনের পর তার সরকার আওয়ামী লীগকে প্রতিহত করতে ব্যর্থ হয়। যুক্তরাষ্ট্র, সোভিয়েত ইউনিয়ন ও ভারতের সাথে বৈদেশিক সম্পর্ক ক্রমাবনতি হয় এবং এসব দেশে পাকিস্তান বিরোধী অনুভূতি বৃদ্ধি পায়।১৯৫৩ সালের ১৭ই এপ্রিল নাজিমুদ্দিনকে পদচ্যুত করা হয় এবং সরকারের বাইরে পাঠানো হয়। তার পরে প্রধানমন্ত্রী হন আরেকজন বাঙালি রাজনীতিবিদ মোহাম্মদ আলী বগুড়া। দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর ১৯৬৪ সালে ৭০ বছর বয়সে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। নিজ শহর ঢাকায় তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন করা হয়।পাকিস্তানের প্রথম প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলি খান ১৯৫১ সালে আততায়ীর হাতে নিহত হন। এরপর খাজা নাজিমুদ্দিন তার স্থলাভিষিক্ত হন।
খাজা নাজিমুদ্দিনের প্রধানমন্ত্রীত্বকালে পাকিস্তানে মুসলিম লীগের মধ্যে চিড় ধরে, বিশেষত পাঞ্জাবি এবং বাঙালিদের মধ্যে। পাকিস্তানের এই দুটি বৃহৎ জাতি গোষ্ঠী ভারতের মাধ্যমে পৃথক ছিল। ১৯৫২ সালের ২১শে ফেব্রুয়ারি ভাষা আন্দোলনের একটি মিছিল বাংলার জন্য সমান এবং সরকারি মর্যাদা দাবি করলে তাতে গুলি বর্ষণ করা হয়। ইতিপূর্বে মুহাম্মদ আলি জিন্নাহ উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রীয় ভাষা করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। তার শাসনামলে পাকিস্তানের সংবিধানের কাঠামো তৈরী শুরু করা হয় এবং ডমিনিয়ন স্ট্যাটাস বিলুপ্ত করে পাকিস্তানকে একটি প্রজাতন্ত্রে পরিণত করার দিকে ধাবিত করা হয়। তবে খাজা নাজিমুদ্দিনের প্রধানমন্ত্রীত্বকাল ১৯৫৩ সালে শেষ হয়।১৯৫৩ সালে সংখ্যালঘু কাদিয়ানিদের অমুসলিম ঘোষণার দাবিতে আন্দোলন শুরু হয়। খাজা নাজিমুদ্দিন এর বিরোধিতা করেন। পাঞ্জাবে সরকার এবং আহমদিয়াদের সাথে আন্দোলনকারীদের দাঙ্গা শুরু হয়। তিনি ফিরোজ খান নুনকে পাঞ্জাবের গভর্নর নিয়োগ দিয়ে পরিস্থিতে নিয়ন্ত্রণের আনার চেষ্টা করেন। তবে এ সিদ্ধান্ত দেরিতে আসে।সেসময় পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল মালিক গোলাম মুহাম্মদ প্রধানমন্ত্রীকে সরে যেতে বলেন। নাজিমুদ্দিন তা প্রত্যাখ্যান করেন কিন্তু গোলাম মুহাম্মদ তার সংরক্ষিত ক্ষমতাবলে তাকে ক্ষমতাচ্যুত করেন। পাকিস্তান ফেডারেল আদালতের প্রধান বিচারপতি মুহাম্মদ মুনির এই পদচ্যুতির অবৈধতার উপর কোনো রুল দেননি কিন্তু নতুন নির্বাচনে বাধ্য করেন। মোহাম্মদ আলী বগুড়া নতুন প্রধানমন্ত্রী হন।
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে আগস্ট, ২০১৮ সন্ধ্যা ৭:০২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



