
বইঃ ড্রাগন রাইডার
লেখিকাঃ কর্নেলিয়া ফুঙ্কে (জার্মানি)
অনুবাদকঃ অসীম চৌধুরী এবং মোঃ রাগেবুল রেজা
প্রকাশনীঃ চারদিক
জনরাঃ ফ্যান্টাসি
পৃথিবীর দুর্গম থেকে দুর্গমতর এলাকায় মানুষের পদচারনা বিস্তৃত হচ্ছে। দখল হয়ে যাচ্ছে পাহাড়-পর্বত, বন-জঙ্গল, সমুদ্র, অন্তরীক্ষ- সংকুচিত হয়ে আসছে প্রকৃতির অন্য সব প্রাণীর আবাস। মানব সভ্যতার বিস্তারে রক্ষা পাচ্ছে না ড্রাগনের মত অতিকায় নিরুপদ্রব প্রাণীও। স্কটিশ উপত্যকার ড্রাগনদের কাছেও পৌছাল দুঃসংবাদ। মানুষ দখল করতে আসছে তাদের বাসস্থান।
জানা গেল, ড্রাগনদের একমাত্র নিরাপদ এবং নির্বিঘ্ন আবাস- রিম অব হ্যাভেন। রহস্যময় সেই জায়গা, সে জায়গার সন্ধান কেউ জানেনা। রিম অব হ্যাভেনের সন্ধানে বেরিয়ে পড়ল সাহসী ড্রাগন ফায়ারড্রেক। ব্রাউনি (কাল্পনিক জীব, বিড়ালের মত) সোরেল হল তার সঙ্গী। যাত্রা পথে তাদের অভিযানে সামিল হল এক মানুষ বালক- বেন।
অন্যদিকে, পৃথিবী থেকে ড্রাগনদের নির্মুল করার উদগ্র লালসায় দেড় শতাধিক বছর ধরে অপেক্ষায় আছে প্রচণ্ড শক্তিধর হিংস্র এক দানব ন্যাটলব্রান্ড- দ্য গোল্ডেন ওয়ান। ড্রাগনের সন্ধানে পৃথিবীর কোনায় কোনায় উড়ছে তার গুপ্তচর। ফায়ারড্রেকের খবর পেল ন্যাটলব্রান্ড। ওদের পিছনে গুপ্তচর লেলিয়ে দিল দানব। শুধু ফায়ারড্রেক নয়, রিম অব হ্যাভেনের লুকিয়ে থাকা ড্রাগনদের ও সন্ধান পেতে চায় ন্যাটলব্রান্ড। অভিযাত্রীরাও টের পেল তাদের পিছু নিয়েছে দ্য গোল্ডেন ওয়ান। উভয় সঙ্কটে পড়ল ফায়ারড্রেক। রিম অব হ্যাভেনে যাওয়াও বিপদ আবার নিজের পুরানো আবাসে ফিরে যাওয়াও বিপদ। কি করবে ড্রাগন ফায়ারড্রেক?
দানবটার সাথে লড়াই করার সিদ্ধান্ত নীল ও। কারণ ওর সাথে আছে ড্রাগন রাইডার বেন, আছে ন্যাটলব্রান্ড এর পুরানো ভৃত্য ম্যানিকিন টুইগলেগ, বিশেষ ক্ষমতাসম্পন্ন ব্রাউনি সোরেল, ইঁদুর লোলা আর আছে অসংখ্য মানুষের ভালবাসা এবং আশির্বাদ।
ফায়ারড্রেক কি জিতবে? পারবে দানব ন্যাটলব্রান্ড কে পরাস্ত করতে? পারবে ড্রাগনদের জন্য নিরাপদ বাসস্থান খুঁজে বের করতে? পাঠককে সেটা বইটা পড়ে জেনে নিতে হবে। লেখিকার কল্পনাশক্তি দারুন। রূপকথার নানা ধরণের প্রাণীকে টেনে এনেছেন তার কাহিনীতে। আর সেগুলো খাপে খাপে মিলে গেছে কাহিনীর সাথে।
বইটা আসলে আমার পড়া উচিত ছিল আরও দশ বছর আগে। তাহলে আরও বেশি মজা পেতাম। যদিও মনের পাঠক এখনো বড় হয়নি, তারপরেও চাইল্ডিশ ব্যাপার-স্যাপারগুলো এখন তো একটু কেমন কেমন যেন লাগবে। এটাই স্বাভাবিক।
পঁয়ত্রিশটা ভাষায় অনুদিত লক্ষ লক্ষ কপি বিক্রিত এই বইটা শিশু-কিশোরদের খুব জনপ্রিয়। চরিত্রগুলোর মধ্যে আমার ভাল লেগেছে ব্রাউনি সোরেল কে। মেয়েটার যদিও একটু নাক উঁচু স্বভাব, কিন্তু মন তার খুব নরম। ফায়ারড্রেককে খুব ভালবাসে সে। বেন এজ ইউজুয়াল অন্য কাহিনীর নায়কদের মত। আলাদা করে বলার কিছু নেই। ন্যাটলব্রান্ড এত চিল্লায় ক্যান?? ক্যারেক্টার ডেভেলপমেন্ট এর জন্য খুব কম সময় পেয়েছিল ইঁদুর লোলা গিলবার্ট। কিন্তু এর মধ্যেই ফাটিয়ে দিয়েছে মোটকু পাইলট ইঁদুরটা। প্রফেসর গ্রিনব্লুম এর ক্যারেকটারটা আরও ম্যাচিউর করা যেত। হয়ত শিশু কিশোরদের জন্য লিখতে গিয়ে লেখিকা এমনটা করেছেন।
ঘরের বাচ্চাদের উপহার দেওয়ার জন্য অসাধারণ সুন্দর একটা বই। বুড়ো বাচ্চারাও পড়তে পারবে, মজাও পাবে। মোটকথা পয়সা উসুল।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

