
ভারতের মুসলিমদের আর্থ-সামাজিক ও শিক্ষাগত অবস্থা জানার জন্য ভারত সরকার এক বিশেষ কমিটি গঠন করেছিলেন দিল্লি হাইকোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি রাজেন্দ্র সাচারে নেতৃত্বে যা সাচার কমিটি নামেই বেশি পরিচিত। এই কমিটি মূল উদ্দেশ্য ছিল ভারতে মুসলিমদের বিভিন্ন বিষয় তারা কি ধরণের কর্মকান্ডের সাথে যুক্ত, তাদের বার্ষিক আয় কেমন, শিক্ষাগত যোগ্যতা কেমন, সরকারী সাহায্য ব্যাংকের ঋণ কেমন পান, কেমন এলাকায় এরা থাকেন, সেখানে পানি, বিদ্যুত, রাস্তাঘাটের অবস্থা কেমন, সম্পত্তি বা জমিজমার পরিমানই বা কত? সেখানে মুসলিমদের যে চিত্র উঠে আসে তাহলো মুসলিমদের অবস্থা দলিতদের থেকেও অনেক শোচনীয়।
ভারতে মোট জনসংখার ৮০% হিন্দু, ১৩.৪% মুসলিম এবং ৬.৬% খৃষ্টান, বৌদ্ধ, জৈন ইত্যাদি (২০০১ সালের শুমারী অনুযায়ী) আমেরিকার একটি পত্রিকার মতে ভারতে মুসলিমদের সংখ্যা প্রায় ২৫% যা ভারত কখনোই স্বীকার করেনা অর্থাৎ মুসলিমদের সঠিক সংখ্যা জানায় না।
সাচার কমিটির মতে মুসলিমদের শিক্ষাগত অবস্থা খুবই করুণ। কমিটির রিপোর্ট মতে সমগ্র ভারতে মুসলিম প্রধান গ্রাম গুলিতে এক তৃতীয়াংশে কোন স্কুল, কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয় নেই। শহরে ৬০% মুসলিম কখনো স্কুলে যেতে পারেনি গ্রামের অবস্থা আরো করুণ। প্রতি ১০০ জন স্নাতকের মধ্যে হিন্দু ৮৫.৫% মুসলিম ৬.৩% ও তপশিলি ৮.২% অর্থাৎ তপসিলিদের চেয়েও খারাপ অবস্থা মুসলিমদের। টেকনিক্যাল স্নাতকের ক্ষেত্রে মুসলিমদের অবস্থা ১.৩% যা আরো খারাপ। মুসলিমদের সাক্ষরতার হার ৫৯.৯% যা জাতীয় গড় ৬৫.১% থেকেও অনেক কম। অনেকের যুক্তি মুসলিমরা ছেলেমেয়েদের মাদ্রাসায় পাঠায় কিন্তু সাচার কমিটি বলছে মুসলিম শিশুদের মধ্যে মাত্র ৪% মাদ্রাসায় যায়।
স্বাধীনতা অর্জনের সময় চাকরীতে মুসলিমদের অবস্থান ছিল খুব ভালো। তখন চাকরিতে মুসলিমদের প্রতিনিধিত্ব ছিল ৩৪%। সাচার কমিটির রিপোর্টটি অনুযায়ী আইএএস পদে ৩৮৮৩ জনের মধ্যে মুসলিম ১১৬ জন শতকরা হার ২.৯৯%। আইপিএস পদে ১৭৫৩ জনের মধ্যে মুসলিম ৫০ জন শতকরা হার ২.৮৫%। ইনকাম ট্যাক্স পদে ৮৮১ জনের মধ্যে মুসলিম ২৭ জন শতকরা হার ৩.৬%। আইএএস পদে ৩৮৮৩ জনের মধ্যে মুসলিম ১১৬ জন শতকরা হা ২.৯৯% । রেলওয়ে ট্রাফিক এবং অ্যাকাউন্ট পদে ৪১৫ জনের মধ্যে মুসলিম ১১ জন শতকরা হার ২.৬৫%। ব্যাংকে মুসলিম ২৪৭৯ জন শতকরা হার ২.১৮%। কেন্দ্রীয় দপ্তরে ৮২৬৬৬৯ জনের মধ্যে মুসলিম ৩৩৪৬ জন শতকরা হা ৪.৪১%। রাজ্য সরকারী দপ্তরে মুসলিম ৪৯৭১৮ জন শতকরা হার ৬.০১%। তৃতীয় ও চতৃর্থ শ্রেণীর কর্মসংস্থানে মুসলিমদের প্রতিনিধিত্ব দলিতদের থেকেও কম। এই অবস্থার জন্য কংগ্রেস ছাড়া আর কে দায়ি?”
ভারতে দারিদ্রসীমার নিচে বসবাস করে ৩২% মানুষ যাদের পরিবারের লোকেদের মাথাপিছু খরচ ২৬ টাকার কম তাদেরকে দারিদ্র সীমার নিচে বলে ধরা হয়। কিন্তু সাচার কমিটির রিপোর্ট অনুযায়ী মুসলিম জনগোষ্টীর ৪৯.৯% দারিদ্র সীমার নীচে বাস করে। আর ৬০% মুসলিম ভুমিহীন।
উল্লেখিত তথ্যমতে কংগ্রেস মুসলিমদের জন্য কিছুই করেনি পক্ষান্তরে তারা মুসলিদের ভোট ব্যাংক হিসেবে কাজে লাগিয়েছে। বর্তমানে বিজেপি কোন রাখঢাক না করে সরাসরি মুসলিমদের দমনে রাষ্ট্রিয় সমগ্র প্রতিষ্ঠানকেই ব্যবহার করছে। ভারতীয় মুসলিমদের করুণ পরিনতির কলকাঠি নাড়া যেন বিজেপি ও কংগ্রেসের মূল এজেন্ডা।
সূত্রঃ সাচার রিপোর্ট, মুসলিমদের বঞ্চনার দলিল - সন্তোষ রাণা / ফরিদ আলম
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ বিকাল ৩:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



