চার
ঐ তো সেন্টমার্টিন দেখা যাচ্ছে।অবশেষে সাতরে সাগর পারির আরেক বছর। ভাবে রফিক। গতবারের থেকে এবার ব্যাপারই আলাদা। বেশ সাজ সাজ রব। দশ জন সাতার শুরু করেছিল, শেষ করেছে সাত জন। তাও ভাল যে কোনরকম দুর্ঘটনা ছাড়া সব শেষ হলো। চারদিকে টিভি ক্যামেরার সামনে দাড়ানর প্রোতিযোগিতা। রফিক ভাবে, এবার সবই ভালো তবু যেন ব্যাপারটা আর মজাটা গতবারের মত নয়। এবার মনে হয় যেন সবই হচ্ছে মানুষকে দেখানর জন্য যেটা গতবার ছিল একান্তই নিজেদের ভাল লাগার জন্য। যাই হোক। সামি ভাইকে দেখা যাচ্ছে না। একবার দেখা দরকার।
দলে একজন নেভির লোক আছে। তিনি হামিদ ভাইকে জিজ্ঞেস করলেন সব সাতারু এসেছে কি না? হামিদ ভাই জানালেন এসেছে। রফিক সামি ভাই এর খোজে রওনা দিল। পথে একজনকে দেখল, জিজ্ঞেস করল সামি ভাইকে দেখেছে কি না। বলল দেখেনি। হঠাত আবার কে যেন ডেকে উঠল রফিক...! রফিক আবার ব্যস্ত হয়ে পড়ল।
রফিক শুনতে পেল সিন্হা ভাই না কি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। এমনিতেই উনি হাইপোথেরামিক। উনাকে নাকি বালি চাপা দিয়ে রাখা হয়েছে। একটু পরেই ঠিক হয়ে যাবে। চারদিকে বেশ আনন্দ উতসব।
পাঁচ
সামি ভেসে আছে। এখন আর ভাবছে না কিছু। শুধু সমুদ্্রর শব্দ সুনছে। আকাশে মাত্র তিন টুকরো মেঘ। মাঝে মাঝে মনে হচ্ছে মেঘ গুলো ঘুরে যাচ্ছে। পরে বুঝতে পারছে, মেঘ নয় নিজেই ঘুরে যাচ্ছে।
আবার একটা বোটের শব্দ। এবার আর আশা করে না সামি। কোন বোটই ওকে দেখতে পায় না, বা, পেলেও তুলতে চায় না। কিন্তু এবার আওয়াজ টা বেশ কাছে মনে হচ্ছে। বোটটা ওর কাছাকাছি চলে এসেছে। ওকে ঘিরে ঘুরছে। ধীরে ধীরে কাছে আসল। একটা দড়ি ফেলল। সামি দড়ি ধরে ধীরে বোটে উঠে গেল। এটা একটা মাছ ধরার ট্রলার।
বোটের লোকগুলো ওর ওয়েট স্যুট খুলে ওকে শুইয়ে দিল। আস্তে আস্তে সারা শরীর ম্যাসেজ করে দিল। ধীরে ধীরে যখন সামি একটু স্বাভাবিক তখন বোটের লোকগুলো জানতে চাইল ও কোন দেশী - বাংলাদেশী না বার্মার লোক সে। সামি বলল ও বাংলাদেশী। এরপর বলল সাতরে ওরা দশজন সেন্টমার্টিন যাচ্ছিল আর ও হারিয়ে গেছে। বোটের লোকগুলো ওকে বলল ওরা সামিকে একটা সেন্টমার্টিনের ট্রলারে তুলে দেবে। সামি রাজি হয়ে গেল, না হয়ে উপায়ও নেই। এটা তো ওর খোজে বের হওয়া রেসকিউ বোট নয়।
বোটের সর্দার টাইপের একটা লোক ওকে মোবাইল এগিয় দিয়ে বলল আপনার সাথিদের জানান। উনারা নিশ্চই টেনশনে আছেন। ফোন হাতে নিয়ে সামি অবাক হয়ে ভাবে ওর কারও ফোন নাম্বার মনে নেই। শুধু ওর মায়ের ফোন নাম্বার মনে আছে। কিন্তু মাকে ফোন করলে তো মা টেনশানে পরে যাবেন। তবুও মাকেই ফোন দিল। শুধু বলল যে ও ভাল আছে, কোন অসুবিধা নাই। বোটে একটা ছোট ছেলে ঠিক কাব্যর বয়েসি। সামির খুব কাব্যকে দেখতে ইচ্ছা করে।
ছয়
ঐ বোটটা সামিকে সেন্টমার্টিনের ট্রলারে তুলে দিয়ে চলে গেছে। এই ট্রলারের সবার কাছে সামি একটা দর্শনীয় বস্তু। ওয়েট স্যুট, স্নরকেল সব মিলিয়ে এক বিশাল সং সেজে আছে সামি। কিন্তু এসব ভাবছে না সামি। ওর চোখ ওর খোজে আসা রেসকিউ বোট খুজছে। যত সেন্টমার্টিনের কাছাকাছি আসছে তত অভিমান হচ্ছে ওর। ওর খোজে কোন বোট নেই। ওরা কি তবে ওর খোজ থামিয়ে ও মরে গেছে ধরে নিল..? নাকি কেউ ওর খোজে বেরই হয়নি..?
একসময় সেন্টমার্টিন এসে গেল। দুর থেকে সামি দেখল বিশাল উৎসব চলছে। বিশাল সাফল্য উৎযাপিত হচ্ছে। সামির খুব খটকা লাগছে... পরিচিত একজন সামিকে দেখে বলল, আরে সামি ভাই অনেকক্ষন আপনাকে দেখি না। সামি অবাক হয়ে ভাবে এরা কি যানে না যে ও সাগরে হারিয়ে গিয়েছিল..? সামি কিছু ভাবতে পারছে না। এক পাশে সরে গিয়ে ফাকা জায়গায় বসে একজনকে বলল হামিদ ভাইকে ডাকতে।
চুপচাপ বসে আছে সামি। নিজেকে খুব পরিত্যাক্ত মনে হচ্ছে.......!
এই ঘটনাটা সত্যি। এরপর বহু ঘটনা হয়। আয়োযোকরা নিজেদের আয়োজনের সাফল্য প্রচার করতে পুরো ব্যাপারটা চেপে যাবার চেষ্টার কথা মেনে নেন এবং ক্ষমা চান। সেসব ইতিহাস আজ আর না বলি। আপনারা জানতে চাইলে হয়তো আবার বলব। তবে ঝগড়ার কথা আর কালো ইচ্ছার কথা শুনে কি লাভ......?
গল্পের সামি আমার বেশ ঘনিষ্ঠ বন্ধু।
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই এপ্রিল, ২০০৭ সকাল ১১:৩২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


