![]()
জোনাক জ্বলা রাতের সবুজ ঘাসে মুখ গুজে পড়ে থাকা মুহূর্তেরা জানান দেয় নতুন দিনের শুরুর। ঘুম ঘুম চোখে স্বপ্নের হানা দেওয়া আমার মাঝে চুপটি করে থাকা তোমার অস্তিত্বে প্রেম জাগায়। উপহাসের প্রতিটি পৃষ্ঠাসংখ্যা আমার মেঘলা আকাশের কান্না। তোমার জন্য জমানো ভালোবাসা বৈশাখের স্মৃতির দেওয়াল জুড়ে লাল হলুদ রঙ বেরঙের প্রহসন।
কোলাহলময় শব্দরাজ্যে তোর ঠোঁটে লেপ্টে থাকা ওই নির্লিপ্ত হাসি
সেদিন বৈশাখের প্রথম প্রহরে চোখজুড়ে তোর প্রহসন দেখেছি।
ভেবেছিলেম তপ্ত হলুদ রোদের বুকে নিশ্চুপে যবনিকা আমার প্রেম উপাখ্যান
লাল শাড়ি লাল টিপে টোল পড়া ওই গালে প্রেমময় উপহাস।
পহেলা বৈশাখ। দুটো বছর আগেও আমার কাছে ছিল ব্যস্ততম একটি দিন। সূর্যের সাথে পাল্লা দিয়ে ঘুম থেকে ওঠা। নতুন পাঞ্জাবি গায়ে চড়িয়ে বন্ধুদের সাথে ঘুরে বেড়ানো। কি দিন ছিল। ষোড়শীদের দিকে মুগ্ধদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকার ছাড়পত্র পহেলা বৈশাখ। রিক্সায় চড়ে হৈ হুল্লোড়ে তোলপাড় শহরতলী। অতিষ্ঠ তরুণীর তীব্র ভ্রুকুটি জন্মদেয় নতুন প্রেমিকের। একদিনের ভালোবাসা হাতে হাত রেখে পথ চলতে শেখায় অজানায়। নতুন সম্পর্কের প্রারম্ভ। মিষ্টি অনুভূতি। ঘামঝরা রোদেলা দুপুরে ঝুপ করে নামা একপশলা বৃষ্টি।
![]()
বালিকা তুমি তোমার ওই মুখলাল অনুভব
খোপায় গোজা লাল ফুলে প্রেম করেছি সমর্পণ।
তুমি আমার সফেদ পাঞ্জাবীর জমিনে
এঁকে দেবে প্রেমের আলপনা মুগ্ধ আবেগে।
তোমার সেই ফিরে তাকানো। দুচোখ ভরা অভিমান। বন্ধুদের চোখ এড়িয়ে আলতো স্পর্শ। হাওয়াই মিঠাই খাবার জন্য তোমার সেই কান্না। আমার পাঞ্জাবীতে তোমার লাগানো সেই হলুদ দাগ। কি যেন হয়েছিল। হ্যাঁ মনে পড়েছে। বাজি ধরে শুকনো লঙ্কা খেয়েছিলে। নিখাদ ছেলেমানুষি। কেঁদে কেটে সে কি অবস্থা। অবশেষে আমার পাঞ্জাবীই হলো তোমার কান্না মুছুনি। দাগটাগ লাগিয়ে মিষ্টি হেসে দুষ্টু চোখের স্যরি। এখনো বিষন্ন বিকেলে ভালো লাগা জাগায়।
আচ্ছা সেদিন বিকেলের রিক্সায় ঘোরার কথা মনে আছে। তোমার বান্ধবীদের সামনে থেকে তুমি যখন আমার সাথে রিক্সায় উঠলে, তাদের চোখে ছিল স্পষ্ট হিংসে। কিসের যেন পোড়া গন্ধ আসছিল। হা! হা! যতই হোক আমি যথেষ্ট হ্যান্ডসাম। যদিও তুমি মোটামুটি সুশ্রী। চলে আর কি আমার পাশে। কোনমতে। সড়ক মন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাতে সেদিন ভুলি নি। কেননা রাস্তার খানাখন্দ গুলো যে তোমায় ছুঁয়ে যাওয়ার পাসপোর্ট।
প্রতি স্পর্শে প্রেম করেছিনু অনুভব
মেয়ে ভালোবাসি তোমায় শতরূপে শতবার।
সন্ধ্যার আধারিতে কাছে আসার সে মুহূর্ত। তোমার ওই কাঁপা ঠোঁটে বিষ দিয়েছিলাম সেদিন। তুমি বাঁধা দাও নি। শুধু শক্ত করে ধরে রেখেছিলে আমার হাত। সারাটা ক্ষণ আমার কাঁধে মাথা রেখে নীরবে কেঁদেছিলে। আনার অজান্তেই। তুমি চলে যাবার পর ভেজা পাঞ্জাবী জানান দিয়েছিল আমার অজ্ঞতার। সেই সে মুহূর্ত থেকেই আমার মন জুড়ে উদাসীনতার বাসাবাড়ি। কোনদিন জানতে পারি নি সেই অশ্রুত কাহিনী। তাই বুকজোড়া দীর্ঘশ্বাস আমার অহংকার।
আমি ছুঁয়ে দেই তোমায় মেখে সান্ধ্য আলো
বেঁচে থাকার অর্থ খুঁজি চুমে ওই ওষ্ঠ
অজান্তেই আস্তানা গেড়েছে পাজর ভাঙা কষ্ট
বৈশাখের নীল আকাশ জুড়ে ছুটে বেড়ায় রৌদ্দ্র।
আজ সব অতীত। সময়ের কাছে হার মানে সব ভালো লাগা। শেওলা জমা ঘরকোণে প্রেম ঢুকরে কেঁদে ওঠে। বৈশাখের এদিনে শুভ নববর্ষ বলার কেউ নেই। চারপাশ জুড়ে এক ভয়াবহ শূন্যতা। কালচে অশুভ ছায়াসঙ্গী আমার। বালিকার লাল টিপ প্রেম জাগায় না। উদাসী করে দেয়। আমি যেন নাম না জানা কোন ঘাসফুল। যাকে মাড়িয়েই সুখ খুঁজে পায় তরুণী। পড়ন্ত বিকেলে হঠাৎ আসা দমকা বাতাস শাড়ির আঁচলের অবাধ্যতা আমাকে আর উৎসুক করে না। কৌতুহলী দৃষ্টি উঁকি দেয় না ললনার সেই হাওয়ায় উন্মাতাল আঁচলের মাঝে। নিরুত্তাপ আমি প্রেম খুঁজি আধপোড়া সিগারেটের উত্তপ্ততায়। তার জীবননাশী ধোঁয়ার কুন্ডলীতে।
দুহাত ভরা লাল নীল কাঁচের চূড়ি
আলতা রাঙা পায়ে অবাধ্য তুমি
শূন্যতা জুড়ে প্রেম মাতাল হাওয়া
তুমিবিদ্বেষী মন দুঃস্বপ্নের ভরদুপুর আনাগোনা।
আজ প্রেম নেই মনে। তাই চোখে পড়ে বাস্তব কঠিন এক সত্য। দৈন্য মনে হানা দেয় অভাবী মায়ের মৌনতা। বৈশাখের এদিনে কোথাও ভালোবাসার স্পন্দন কোথাও শূন্যতা। কোথাও রকমারি বিলাসিতা কোথাও রিক্ততা। কোথাও দস্যিপনা তো কোথাও স্তব্ধতা। পান্তা ইলিশের ভোজসভা কোথাও আর কোথাও অভুক্ত শিশুর কান্না। ইট পাথুরে কংক্রিটে সে কান্না ঘুরেফিরে পেতে চায় খোলা আকাশের উন্মুক্ততা।
প্রতিটি মুহূর্ত যেখানে উলঙ্গ শিশুর খুঁজে ফেরে হাসিমুখ
মাটির বাসনে পান্তা ইলিশের পরিহাস হাজার টাকায় খোঁজে সুখ
একদিনের বাঙালীয়ানা মুখে দেয় চপেটাঘাত
এ নাকি সংস্কৃতি তুমি বাঙালী হাসালে আমায়।
আনন্দে ভরে উঠুক প্রতিটি ক্ষণ। সকল সহ ব্লগারদের জন্য রইল অফুরন্ত শুভ কামনা। 'শুভ নববর্ষ'।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই এপ্রিল, ২০১৫ রাত ২:১৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




