somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাঙলায়ন: The Faces Of Our Women by Nazim Hikmet

২০ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ রাত ৮:৪৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



পাবলো নেরুদা নাজিম হিকমতকে নিয়ে লিখেছিলেন— 'সদ্য মুক্তি পাওয়া/বন্দীদের একজন নাজিম হিকমত/তার কবিতার মতো/লাল রং সোনার সুতায়/বোনা জামা উপহার দিয়েছে আমায়’।
প্রখ্যাত দার্শনিক জ্যঁ পল সার্ত্র তাঁর সম্পর্কে বলেছিলেন— ‘তিনি এমনি একজন কবি– যার কাব্য আর জীবনের মাঝে কোন ভেদরেখা টানা যায় না’।

নাজিম হিকমত এক বিপ্লবের নাম। সাম্রাজ্যবাদ বিরোধিতার জন্যে কমপক্ষে ২০ বছর তিনি কাটিয়েছেন জেলখানায়। তিনি একজন তুর্কি ভাষার কবি ও নাট্যকার। উনিশ বৎসর বয়সে তিনি তুরস্কের স্বাধীনতা সংগ্রামে যোগ দিয়েছিলেন। সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করার অপরাধে তাকে মোট ৫৬ বছরের সাজা দেওয়া হয়, যা তার নিজের বয়সের চেয়েও বেশি। জন্ম ১৯০২ সালে তুরস্কের সোলানিকায়। তার বাবা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাজে নিয়োজিত ছিলেন। তাঁর বেড়ে ওঠা ইস্তাম্বুলে। তার মা একজন শিল্পী ছিলেন। নাজিম হিকমতের মৃত্যু ৩ জুন, ১৯৬৩।

উল্লেখ্য, পাবলো নেরুদার বর্ণনা থেকে পাওয়া যায় তাঁর নিদারুণ কারাভোগের কাহিনীর কথা – ‘যতক্ষণ না পর্যন্ত হিকমত ক্লান্ত হয়ে পড়তো ততক্ষণ পর্যন্ত তাকে দীর্ঘ সময় ধরে হেঁটে যেতে বলা হতো। তারপর তাকে বিষ্ঠাপূর্ণ টয়লেটে ঘন্টার পর ঘন্টা আটকে রাখা হতো।’



The Faces Of Our Women by Nazim Hikmet
আমাদের রমণীদের মুখগুলো

ভাষান্তর: শুভ্র সরকার



মেরী ঈশ্বরকে গর্ভে ধারণ করেননি।
মেরী ঈশ্বরের মা নন।
মেরী ঠিক অসংখ্য মায়ের মধ্যে একজন মা যেমন।
মেরী একটি পুত্র সন্তানের জন্ম দিয়েছেন সত্য
অসংখ্য সন্তানের মধ্যে যে একটি সন্তান মাত্র।
এ’কারণে সমগ্র দৃশ্য জুড়ে মেরী এত মায়াময়
এ’কারণে মেরীর সন্তান আপন, নিজের মনে হয়।
আমাদের রমণীদের মুখগুলো তাই অনুবাদ করে সকল দুঃখ
আমাদের ব্যথা, আমাদের ভ্রান্তি এবং রক্তপাত সমেত
আমরা লাঙল দিয়ে তাদের মুখে চাষ করি ক্ষতচিহ্ন।
এবং আমাদের আনন্দ ভাঙা ঘুমের মত ছড়িয়ে থাকে তাদের চোখে
যেন হ্রদের জল থেকে স্নান শেষে ফিরে আসা ভোর।
আমাদের সকল কল্পনা, ভেসে বেড়ায় রমণীদের মুখে।
তাদের উপস্থিতিতে এমনকি অনুপস্থিতিতেও, তারা আমাদের মধ্যে বাস করে
বাস্তবের সবচে’ কাছে, অথচ আমাদের থেকে দূরে।

সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ রাত ১২:১২
১৪টি মন্তব্য ১৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কিছুই ভাল্লাগে না আজ তবু সময় বয়ে যায়

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০২ রা আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৭:০৮


কিছুই ভাল্লাগে না আজ
মানুষের মুখে মানুষেরই রক্তের গন্ধ লেগে আছে
শিশুর কান্না আকাশ ছুঁয়েও
কোনো ক্ষমতার প্রাসাদের জানালা কাঁপে না।

বাংলাদেশ জেগে থাকে
গ্যাসের অপ্রতুলতা, দ্রব্যমূল্যের দীর্ঘশ্বাস,
বেকার যুবকের অনিদ্রা,
আর প্রতিদিনের অগণিত অসমাপ্ত প্রতিশ্রুতির পাশে।
সংবাদপত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

"জাগো বাহে কোনঠে সবাই"....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০২ রা আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১০:৩৬



ফেসবুক মেমোরিঃ
৩২ জুলাই এই পোস্ট লিখেছিলাম.....

"জাগো বাহে কোনঠে সবাই"....

ভালো থাকার চেষ্টা সবসময় করি, বেঁচে থাকার উপাদান খুঁজে নিতে চেষ্টা করি- পুঞ্জিভূত ক্ষোভ আর কিছু করতে না পারার আফসোস... ...বাকিটুকু পড়ুন

সিনেমা সীমানা পেরিয়ে - বালির দাগে রাজনীতি

লিখেছেন রাজসোহান, ০২ রা আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:০২



১৯৭০ সালের ১২ নভেম্বর রাতে পৃথিবীর ইতিহাসে রেকর্ড হওয়া সবচেয়ে প্রাণঘাতী ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানে। ভোলা সাইক্লোন। দশ মিটার উঁচু জলোচ্ছ্বাস উঠে আসে ব-দ্বীপের নিচু চরে। মৃতের সংখ্যা তিন থেকে পাঁচ... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরি - ১৯৫

লিখেছেন রাজীব নুর, ০২ রা আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:১২



আজ সকালে হোটেলে নাস্তা করেছি।
ইচ্ছা ছিলো ঘুম থেকে উঠবো ১২ টায়। কিন্তু এক ছাগলে অকারণে ফোন করে ঘুমটা নষ্ট করে দিয়েছে। রাতে যে মোবাইলের সাউন্ড বন্ধ করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশ ভ্রমনঃ মেহেন্দীগঞ্জ উলানিয়া_জমিদার বাড়ি

লিখেছেন মৌন পাঠক, ০২ রা আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫৭

আপনি যদি ঢাকায় থাকেন, তবে কোনো এক বিকেল কিংবা সন্ধ্যায় চলে যান সদরঘাটে। সেখান থেকে উলানিয়াগামী কোনো একটি লঞ্চে উঠে পড়ুন। লঞ্চের ম্যানেজারের সঙ্গে কথা বলে এক পাশের একটি কেবিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×