somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

৩০০০০০ শিশু চুরি করে বিক্রি করার চাঞ্চল্যকর তথ্য /:)/:)

১৭ ই অক্টোবর, ২০১১ বিকাল ৩:৫৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
[img|http://www.mzamin.com/images/stories/i171011a.jp

স্পেনের ৩ লাখ নবজাতককে চুরি ও পরে বিপুল অর্থের বিনিময়ে দত্তক দেয়ার চাঞ্চল্যকর এক তথ্য প্রকাশ করেছে বিবিসি।
এক তথ্য অনুসন্ধানমূলক প্রামাণ্যচিত্রে বিবিসি বলেছে, ৫০ বছর ধরে স্পেনের ক্যাথলিক চার্চের একটি সংঘবদ্ধ চক্র সন্তান চুরি করে দত্তক দিয়ে আসছিল। এ খবর দিয়ে অনলাইন ডেইলি মেইল জানিয়েছে, চিকিৎসক, নার্স, ধর্মযাজক ও নারী সন্ন্যাসীদের একটি গোপন চক্রের মাধ্যমে শিশুদেরকে পাচার করা হতো।

রিপোর্টে বলা হয়েছে, স্পেনের স্বৈরশাসক জেনারেল ফ্র্যাঙ্কোর শাসনামলে এ প্রথা চালু হয়েছিল। আর নব্বই দশকের প্রথম দিক পর্যন্ত ধারাটি অব্যাহত থাকে। স্পেনের সন্তান হারানো বহু পরিবার, যারা বিভিন্ন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও চার্চের কাছে প্রতারিত হয়েছেন, তারা এ ব্যাপারে সরকারি তদন্তের পক্ষে সোচ্চার হয়েছেন। হাজার হাজার মা তাদের বুকে পাথর চাপা দিয়ে নীরব কান্নায় ভাসিয়েছেন বহু বছর। সন্তান হারানো বহু মা অভিযোগ করেছেন, সন্তান জন্ম দেয়ার পর তাদেরকে বলা হয়েছিল তারা মৃত-সন্তান প্রসব করেছেন বা জন্মের পর পরই তাদের সন্তানটি মারা গেছে। কিন্তু, যখন তারা মৃত সন্তানটিকে শেষবারের মতো দেখতে চাইতেন, কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বলা হতো, তারা তাদের সন্তানের মৃতদেহ দেখতে বা মাটি দেয়ার সময় সেখানে উপস্থিত থাকতে পারবেন না। অথচ, প্রকৃতপক্ষে সদ্যজাত ওই শিশুকে অর্থের বিনিময়ে সন্তানহীন দম্পতিদের কাছে বিক্রি করে দেয়া হতো। নবজাতকদের দত্তক হিসেবে বিত্তশালী পরিবারের কাছে বিক্রির একটি যুক্তিও দাঁড় করানো হয়েছিল। ধর্মীয় বিশ্বাসে, সামাজিক মর্যাদায় ও আর্থিক নিরাপত্তার দিক থেকে সন্তানহীন যেসব দম্পতি সন্তান জন্মদানকারী দম্পতিদের তুলনায় বেশি সম্ভ্রান্ত, তাদেরকেই উপযুক্ত পিতা-মাতা হিসেবে বিবেচনা করা হতো। সেখানেই শেষ নয়। শিশুটির জন্ম নিবন্ধন সনদেও তার প্রকৃত পিতা-মাতার নামের দত্তক নেয়া পিতা-মাতার নাম উল্লেখ করা হতো। এজন্য জাল সরকারি কাগজপত্র তৈরি করা হতো। সে ক্ষেত্রে অনেক সময় আরেক ধরনের অপকৌশল বা জালিয়াতির আশ্রয় নিতো সংঘবদ্ধ চক্রের সদস্যরা। এমন বহু ঘটনা ঘটেছে, যেখানে সন্তান দত্তক নেয়া পিতা-মাতার কাছে মিথ্যা বলা হয়েছে। তাদের বলা হতো, সন্তানটির জন্মদানকারী মা তাকে পরিত্যাগ করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, স্পেনে শিশুকে দত্তক দেয়ার ১৫ শতাংশ ঘটনাই ঘটেছে ১৯৬০ থেকে ১৯৮৯ সালের মধ্যে। সাংবাদিক ক্যাটিয়া অ্যাডলার, যিনি ঘটনাটির তদন্তের সঙ্গে যুক্ত, তিনি বলেন, হাজার হাজার মানুষের কাছে দুঃখ অসহনীয়। তিনি বলেন, স্পেনে বহু পুরুষ ও নারীর জীবন সম্পূর্ণ বিপরীত দিকে মোড় নিয়েছে যখন তারা প্রকৃত সত্য উদঘাটন করেছেন। তাদেরকে অর্থের বিনিময়ে দত্তক নেয়া হয়েছিল। এটা জানতে পেরে তাদের কাছে জীবনের মানেটাই পাল্টে যায়। তিনি বলেন, এমন অনেক মা-ই আছেন যারা এখনও বিশ্বাস করেন, তাদের সন্তান জন্মের সময় মারা যায়নি। আজ তারা জানতে পারছেন, তাদের বিশ্বাস ভুল ছিল না। এদিকে এ ন্যক্কারজনক সন্তান চুরি ও অর্থের বিনিময়ে দত্তক দেয়ার ঘটনা প্রকাশ পায়, যখন দু’ব্যক্তি অ্যান্ট্রোনিও ব্যারোসো ও জুয়ান লুইস মোরেনো আবিষ্কার করলেন জন্মের পর তাদেরকে চুরি করা হয়েছিল। মোরেনোকে দত্তক নেয়া পিতা তার মৃত্যু শয্যায় তাকে উত্তর স্পেনের এক ধর্মযাজকের কাছ থেকে দত্তক নেয়ার কথা স্বীকার করেন। তিনি অ্যান্ট্রোনিওকে দত্তক নেয়ার ঘটনার কথাও জানতেন। বিপুল অর্থের বিনিময়ে তাদেরকে কেনা হয়েছিল। ডিএনএ পরীক্ষাতেও সত্যি বেরিয়ে আসে। আরও এক টগবগে যুবক র‌্যান্ডি রাইডার। তিনি খুঁজে পেয়েছেন তার প্রকৃত মায়ের সন্ধান। তাদের হারিয়ে যাওয়া বছরগুলো কখনও ফিরে আসবে না। তবু, নিজ পরিবারের কাছে ফেরার আনন্দ যেন সব কিছুকেই ছাপিয়ে গেছে। কিন্তু, এমনতো হাজার হাজার সন্তান রয়েছেন, যারা তাদের প্রকৃত পরিচয় আজও জানেন না।

View this link
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

অভিনব প্রতারনা - ডিজিটাল প্রতারক

লিখেছেন শোভন শামস, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:১৮



একটি সাম্প্রতিক সত্য ঘটনা।
মোবাইল ফোনে কল আসল, একটা গোয়েন্দা সংস্থার ছবি এবং পদবী সহ। এই নাম্বার সেভ করা না, আননোন নাম্বার। ফোন ধরলাম। বলল আপনার এই নাম্বার ব্যবহার করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আগে নিজেকে বদলে দিন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:৪১



"আমার স্বামী সংসারের কুটোটাও নাড়ান না। যেখানকার জিনিস সেখানে রাখেন না। মুজা খুলে ছুঁড়ে যেখানে সেখানে ফেলে দেন। নিজেকে পরিষ্কার রাখতে বারবার ভুল করেন! এতো বছর বিবাহিত জীবন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×