somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

প্রিয় কন্যা আমার- ৯১

০৫ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ফারাজা, প্রিয় কন্যা আমার-
আজকে বাংলা ২০শে 'জ্যৈষ্ঠ' ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ। আজকের দিনটি হলো বুধবার। 'জ্যৈষ্ঠ' মাসের আরেক নাম হলো মধুমাস। এই মাসে আম, জাম লিচু, কাঠাল পাওয়া যায়। ফাজ্জা আম, লিচু তোমার ভীষন প্রিয়। অলরেডি আম, লিচু অনেকবার এনেছি। তুমি টিভি দেখো আর লিচু খাও। খেতেই থাকো। টিভি দেখার সময় তোমার কোনো হুশ থাকে না। একদম, বিভোর হয়ে থাকো। কোরবানীর ইদ শেষ হলো- ছয় দিন হয়ে গেছে। অফিস আদালত খুলে গেছে। আমার অফিস খুলে গেছে। তুমি জানিয়েছো তোমার ফল শেষ। ফ্রিজ একদম খালি। আমি তোমার জন্য ফল কিনবো কিন্তু সময় পাচ্ছি না। আমার বাসায় ফিরতে ফিরতে অনেক রাত হয়। তখন তুমি গভীর ঘুমে থাকো। বাসায় ফিরে আমি রাতে ভাত খাই। তখন তোমার মায়ের কাছ থেকে তোমার খোজ খবর নিই। সকালে কি নাস্তা খেয়েছো, দুপুরে কখন খেয়েছো, তোমার পড়ালেখা কেমন হচ্ছে?

ফারাজা তাবাসসু খান-
তোমার স্কুল বন্ধ। ইদের ছুটি। আগামী রবিবার তোমার স্কুল খোলা। তোমার সেশন হচ্ছে জুলাই থেকে জুলাই। এক সপ্তাহ ক্লাশ করার পর তোমার একমাস ছুটি। একমাস! কিন্তু ফাজ্জা আমি তোমাকে নিয়ে চিন্তিত। তোমার প্লে গ্রুপ শেষ। নার্সারী শেষ হতে চলেছে। এরপর কেজি ওয়ান। তারপর কেজি টু শেষ করে তুমি ক্লাশ ওয়ান। অর্থ্যাত ক্লাস ওয়ান পর্যন্ত আসতেই তোমার চার বছর সময় লাগবে! দেখা যাবে আট বছর বয়সে তুমি ক্লাশ ওয়ানে পড়ছো! তাহলে তুমি 'এ' লেভেল, 'ও' লেভেল কবে দিবে? আমার তো ইচ্ছা করে এখন তোমাকে ক্লাশ থ্রি'তে কোনো স্কুলে ভরতি করিয়ে দেই। তুমি পারবে। মাঝে মাঝে মনে হয়- তোমার লেখাপড়ার ভার তোমার মায়ের উপর দিয়ে কি ভুল করলাম? এখন তোমার যতটুকু বয়স, আমার ধারনা তুমি অনায়াসে ক্লাশ ফোরে পড়তে পারবে। সারাদিন তুমি ছবি আঁকো। আজকাল তুমি আমাকে আঁকো, তোমা আকো।

প্রিয় কন্যা আমার-
ফাজ্জা আমার কাছে মনে হচ্ছে, ইদানিং তুমি বদলে যাচ্ছে! আমার কথা তুমি শোনো না। বুঝিয়ে বললেও মানতে চাও না। টিভির রিমোট তোমার কাছে রেখে দাও। আমি হাজার বললেও তুমি আমাকে টিভি দেখতে দাও না। আমি তো কোনোদিন আমার বাপের সাথে এমন করিনি। বাপ কাছে থাকলেই খুশিতে মরে যেতাম। আমি ঘুমিয়ে থাকলে, যদি তোমাকে বলি- টিভির সাউন্ড কমিয়ে দাও। তুমি সাউন্ড কমাও না! আজিব! আমার ঘুমের সমস্যা হয়। বাপের কথা মেয়ে কেন শুনবে না? ফাজ্জা, আমার মনে হচ্ছে- তুমি বুঝে গেছো, তোমার বাবা তোমাকে অনেক ভালোবাসে। এই ভালোবাসার সুযোগ নিচ্ছো তুমি। এটা ঠিক না ফারাজা। বাবা মায়ের কথা শুনতে হয়। তাতে তোমারই মঙ্গল। ফাজ্জা আমি যা ইনকাম করি তার অর্ধেক তোমার জন্য খরচ করি। তোমার জন্য খরচ করতে পেরে আমি অনেক আনন্দিত। খরচ করতে না পারলে আমার খুব কষ্ট হতো।

ফাজ্জা, ধরো এই মুহুর্তে যদি আমি এবং তোমার মা মরে যাই!
তাহলে তোমার কি হবে? তুমি কি পারবে আনন্দ নিয়ে বড় হতে? কে তোমাকে বাবা আর মায়ের মতো করে ভালোবাসবে? কার ঠেকা পড়েছে? সবারই ঘর সংসার আছে। ছেলেমেয়ে আছে। কে তোমাকে বলা মাত্র লিচু এনে দিবে, আম এনে দিবে, আপেল এনে দিবে? কে রক্ষা করবে তোমার শত শত আবদার? কে তোমার সমস্ত শখ আহ্লাদ পূরন করবে? কার কাছ থেকে পাবে স্বচ্ছ পবিত্র সহজ সরল ভালোবাসা? একবার ভাবো। একটু চিন্তা করো। আর ছয় মাস পর তোমার ছয় বছর হয়ে যাবে। ফাজ্জা আমি চাই আমার কন্যা আমার সব কথা শুনবে। মানবে। আমার কথা শুনলে তোমার ভালো। তুমি জানো না, অনেকে আমার কাছ থেকে বুদ্ধি পরামর্শ নিয়ে- তাদের ভালো হয়েছে। আর তুমি জিদ করো। তোমার জিদের কাছে আমার হার মানতে হয়। আমি যদি বলি, ফাজ্জা এক গ্লাস পানি দাও। তুমি গিয়ে তোমার মাকে বলো- পানি দেওয়ার কথা। কেন? তুমি দিলে সমস্যা কি?

ফারাজা তাবাসসুম খান-
ফাজ্জা তুমি মাছের চেয়ে মাংস বেশি পছন্দ করো। ভাত খেতে বসলেই আগে জিজ্ঞেস করো- মাংস আছে? কিন্তু মাছ আর সবজিও খাওয়া দরকার। ফাজ্জা, আমার নিজেরও মাংস পছন্দ। ফ্রিজে ফল না থাকলে তুমি নিজেই আমাকে জানাও, বাবা ফল নেই। ফ্রিজ খালি। তোমার কিছু পছন্দ হলে আমাকে জানাও। এই বিষয়টা আমার দারুন লাগে। আমি খুব উপভোগ করি। ফাজ্জা আর কিছুদিন পর ফুটবল বিশ্বকাপ খেলা শুরু হবে। ফুটবল আমার প্রিয় খেলা। ছোটবেলা দুইবেলা ফুটবল না খেলতে পারলে আমার ভালো লাগতো না। আমি ভালো দৌড়াতে পারতাম। গোলকিপার হিসেবে খুব সুনাম ছিল আমার। আবার মাঝ মাঠেও আমি দারুন খেলতাম। একবার বল পেলে কাউকে বল না দিয়ে আমিই বল নিয়ে ছুটতাম। অন্য কাউকে বল না দেওয়ার কারণ হলো- ওরা গোল দিতে পারবে না। আমার প্রিয় দল আর্জেন্টিনা। এবার তুমি আমি মিলে আর্জেন্টিনার জার্সি গায়ে দিয়ে খেলা দেখবো।
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই জুন, ২০২৬ রাত ৯:৪৬
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চট্টগ্রামের বন্যায় আক্রান্তদের জন্য আমরা কি কিছু করতে পারি?

লিখেছেন সৈয়দ তাজুল ইসলাম, ১১ ই জুলাই, ২০২৬ ভোর ৪:০৭


সম্মানিত ব্লগার,
বাংলাদেশের সবরকমের দুর্যোগ মোকাবেলায় আমাদের ব্লগারদের বিশেষ অবদান রয়েছে। দুর্যোগে আক্রান্তদের সহযোগিতায় আমাদের সামু ব্লগারেরা সবসময়ই এগিয়ে এসেছেন। সেই ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্য আমি অনুরোধ করছি না। আমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের ২০২৬–২০২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট : প্রত্যাশা, বাস্তবতা ও চ্যালেঞ্জ একটি বিশ্লেষণধর্মী পর্যালোচনা

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১১ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ৭:৪১


বাংলাদেশের ২০২৬–২০২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট শুধু একটি বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়; এটি নতুন সরকারের অর্থনৈতিক দর্শন, উন্নয়ন কৌশল এবং আগামী কয়েক বছরের অর্থনৈতিক রূপরেখার একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল। নতুন সরকারের... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য লাস্ট সাপার

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১১ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ১০:৩৩



কক্সবাজার ডিবি কার্যালয়ের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বিশেষ কক্ষ। টেবিলজুড়ে সাজানো নামী রেস্তোরাঁ থেকে আনা রূপচাঁদা ফ্রাই আর কোরাল মাছের দো পেঁয়াজা। টেবিলের একপাশে বসা এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফান্দে পড়িয়া বগা কান্দে রে

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৪


আব্বাসউদ্দীন আহমদের কণ্ঠে ভাওয়াইয়ার সেই কালজয়ী সুরটা আজকাল ঘনঘন খুব মনে পড়ছে-

... ...বাকিটুকু পড়ুন

সরকারের যে কোন বড় সিধান্ত গুলো কেমন হওয়া উচিত!

লিখেছেন সাহাদাত উদরাজী, ১১ ই জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭

সরকারের যে কোন বড় সিধান্ত গুলো কেমন হওয়া উচিত! বহুবার বলেছি, যারা আমার সাথে আছেন তারা নিশ্চয় দেখেছেন। সরকার যে কোন সিধান্ত দেবার আগে তার হাতে গবেষণা পত্র (কোন শিক্ষক... ...বাকিটুকু পড়ুন

×