somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একটি হারানো বিজ্ঞপ্তির গল্প, সমাজের প্রতিচ্ছবি ও টুইস্ট

০৭ ই আগস্ট, ২০১৩ সকাল ১১:০৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সামনে এক গুরুত্বপূর্ণ প্রজেক্ট। সবাই ব্যস্ত। আমার কথা চলছে হেডকোয়ার্টার এর সাথে। ফেসবুক চ্যাটেই...
- অমিত “অমুক” কাজের দায়িত্ব কাকে দিয়েছেন?
- রবিন কে দেওয়া হয়েছে। বড়ই এফিসিয়েন্ট ছেলে।
-তাহলে তো ভালই

এমন সময় ফোন রবিনের বেস্ট ফ্রেন্ডের। চ্যাট ছেড়ে এইবার ফোনে।
- অমিত ভাই, নষ্ট ছেলে রবিন আপনার সাথে আছে?
- না নাই। কিন্তু সে আমার সাথে প্রজেক্টে কাজ করছে
- ভাই ওকে তো বিকেল থেকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।
- কস কি মোমিন???

হেডকোয়ার্টার কে জানালাম। এইবার হেডকোয়ার্টার থেকে চ্যাট বাদ দিয়ে ফোন আসলো।
-অমিত সাহেব যে করে হোক রবিন কে খুঁজে বের করুন। প্রজেক্টের কাজ পরে করা হবে।


ঘড়িতে রাত ১০ টা বাজবে, পেটে ভাতের খিদে। কিন্তু ডিউটি ফাস্ট। রবিনের অফিসিয়াল নাম্বার, আন অফিসিয়াল নাম্বার অ্যান্ড গোপন নাম্বার এ কল করা হল। পুরাই লবডংকা। তবে গোপন নাম্বার খোলা পাওয়া গেছে। বুঝলাম এ ছোকরা কানার হাটবাজারে ঢুকে গেছে, মূলে যেতে হবে কাহিনী উদ্ধার এর জন্য।

যাই হোক বেস্ট ফ্রেন্ডের সাথে কয়েক দফা ফোনে কথা হল। প্লাস মাইনাস করা হল। তাতে যে কাহিনী উঠে আসলো। পাঠক দের সুবিধার্থে সংক্ষেপে:

রবিন ক নামের মেয়েটা কে পাগলা কুত্তার মত ভালবাসে। সবই বুঝে, কিন্তু সে রবিন কে চাই না। সেই দিন সন্ধ্যায় ক এর সাথে তার দেখা করার কথা। দৃশ্যপটে আছে “খ” । যে রবিন কে মরা নদীর স্রোতের মত ভালোবাসে। দুপুর একটায় ছেলেটার এর সাথে দেখা করার কথা ছিল। দেখা করা অবস্থায় এসেছিল এর ফোন। তার পরের ঘটনা ধোঁয়াশা যুক্ত। কিন্তু ফলাফল, রবিন বাসায় যেয়ে বলে , “এই নিষ্ঠুর শহরে আমি আর থাকবো না”!!! সেই থেকে লাপাত্তা...

এমন সময় থার্ড পার্টি কে জিজ্ঞেস করলাম,
-রবিনের খোঁজ জানো?
- না, তবে সে আপনাকে একটা জিনিস জিজ্ঞেস করতে বলেছে
- ওকে কই পেলা?
- ফোন দিছিলো
-আমাকে ফোন দিতে বলো

থার্ড পার্টি কিছুক্ষণ পর বলল, আপনার সাথে সে কথা বলতে চাইছে না। আমি বললাম ঠিক আছে। যাই হোক তারপর থেকে তার গোপন নাম্বার অফ। ছোকরা বেঁচে আছে।

সময় এসেছে হারানো বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার। তখন রবিনের বেস্ট ফ্রেন্ডের ফোন,
-ভাই নষ্ট ছেলেটাকে পাওয়া গেছে
- কোথায়
- গ্রামের বাড়িতে যেয়ে বসে আছে অভিমানে, গোটা দুনিয়া থেকে বিচ্ছিন্ন।
- কিন্তু ওকে যে প্রজেক্টের কাজে লাগবে?
- ওর কথা ভুলে যান।

সমাজের প্রতিচ্ছবি:

তরুণ পোলাপান। সময় জীবন কে উপভোগ করার। কিন্তু তাদের উপভোগের বিষয় বস্তু একমাত্র প্রেম ভালোবাসায় সীমাবদ্ধ। প্রেমের ব্যর্থতায় ভুলে যায় সব কিছু। বাবা মা কে জানায় না সে কোথায় যাচ্ছে। ভুলে যায় সামনে কত বড় একটা দায়িত্ব ছিল তার কাঁধে। এদের জন্যই সর্বদা দোয়া করি, জগতের সকল প্রাণী সুখী হোক


টুইস্ট:


ঘরোয়া আড্ডা চলছে। সেই সাথে কয়েকজন বিভিন্ন বয়সের বসে আছি। রবিনের পরিচিত এক ছেলের সাথে আমার কথোপকথন →

- রবিন ছেলেটা এর জন্য এরকম করে ক্যা?
- অমিত ভাই বুঝেন অবস্থা। সেই কবে থেকে ক এর জন্য ...

এমন সময় একজন বলে উঠল আড্ডা থেকে, কে? আমি বললাম মেয়ে, রবিনের বালুবাসা। সে বলল, “দেখাতে পারবেন ফেসবুক প্রোফাইল বা ছবি”?

রবিনের সাথে চ্যাট হিস্টোরি ঘাটাঘাটি করে, এর একটা ছবি পেলাম। বললাম ভাই দেখেন এই মেয়ে:

- হারাম** এই মেয়ে আমার আপন কাজিন হয়। এর পিছনে রবিন ঘুরে??? হোয়্যাট দ্য…

এক দৌড়ে আড্ডা থেকে বেড়িয়ে আসলাম। জীবনের চেয়ে ইজ্জতের দাম বেশি

ঘটনা কাল্পনিক। জীবিত, মৃত বা অর্ধ মৃত কারো সাথে মিলে গেলে তা নিতান্তই কাঁকতলিয়


৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Lost for words....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৩ রা জুলাই, ২০২২ সকাল ১০:৩৫

Lost for words....

ভৌগোলিক আয়তনে আমাদের দেশটা ছোট হলেও আমাদের দেশের অঞ্চলভিত্তিক ভাষার বিচিত্রিতা অত্যন্ত বৈচিত্র্যময়। আমরা অনেকেই আমাদের আঞ্চলিক ভাষা নিয়ে ট্রল করি। ইদানিং আমাদের দেশের বস্তাপচা নাটক সিনেমায় আকছার... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রধানমন্ত্রীর মত উনার মন্ত্রীগুলোও এখন মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেয়ে ব্রিজের পাশে দাঁড়ানোকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে।

লিখেছেন সৈয়দ তাজুল ইসলাম, ০৩ রা জুলাই, ২০২২ দুপুর ২:৪০


'বাংলার পথেঘাটে এখন টাকা বেশি। পায়ের নিচে টাকা পড়ে এখন'
বন্যার্তদের পাশে না দাঁড়িয়ে বন্যার্ত এলাকার মন্ত্রী যখন মিডিয়ার সামনে এমন উদ্ভট কথাবার্তা বলে, তখন কেমন লাগে বলেন দেখি! উনার... ...বাকিটুকু পড়ুন

উত্তরবঙ্গ ভ্রমণ ২০২২ : সীতাকোট বিহার

লিখেছেন মরুভূমির জলদস্যু, ০৩ রা জুলাই, ২০২২ দুপুর ২:৫৫


ডিসেম্বর মাসে বাচ্চাদের স্কুল বন্ধ থাকে দীর্ঘ দিন। বেড়ানোর জন্যও নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি সময়টাই বেস্ট। এবার ইচ্ছে ছিলো ডিসেম্বরেই উত্তরবঙ্গ বেরাতে যাওয়ার, যদিও এই সময়টায় ঐ দিকে প্রচন্ড শীত থাকে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছবি ব্লগ-২

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৩ রা জুলাই, ২০২২ বিকাল ৪:০২

ছবি ব্লগ-১

মিগ-২১ প্রশিক্ষণ যুদ্ধ বিমানটি ১৯৭৩ সালে পাইলটদের প্রশিক্ষলেন জন্য অন্তর্ভুক্ত হয়।



এই বিমানটি ১৯৮৬ সালে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীতে অন্তর্ভুক্ত হয়। এটি আকাশ তেকে ভুমিতে আক্রমনে পারদর্শী।
... ...বাকিটুকু পড়ুন

নতুন কোন কোন সমস্যাকে মেগা-প্রজেক্ট হিসেবে প্রাইওরিটি দেয়ার দরকার?

লিখেছেন সোনাগাজী, ০৩ রা জুলাই, ২০২২ রাত ৮:৩৮



পদ্মায় সেতুর প্রয়োজন ছিলো বলেই ইহা মেগা প্রজেক্টে পরিণত হয়েছিলো; যখন সরকারগুলো সেতু তৈরির জন্য মনস্হির করেনি, তখন তারা উনার বিকল্প ব্যবস্হা চালু রেখেছিলো (ফেরী ও লন্চ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×