somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

গল্পঃ যৌগিক

১১ ই জুলাই, ২০১৬ রাত ১:৫৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


অনন্তকাল অপেক্ষা করে সূর্যের আলো মিলিয়ে গিয়ে চারিদিকে গাঢ় অন্ধকারের কালো দুনিয়া জেগে উঠলো। পুকুর পাড়ের পাকুর গাছের তলায় বসে এতক্ষন সূর্য ডোবার অপেক্ষাই করছিলো গরমে অতীষ্ট মিন্টু । সূর্য যখন মাথার উপর দাঁড়িয়ে পুরা শরীর থেকে পানি শোষনে ব্যাস্ত তখন মিন্টু নিজ বাড়ি থেকে বিতারিত হয়ে পুকুরপাড়ের এই পাকুরগাছটার তলে আশ্রয় নিয়ে সূর্যতাপ থেকে বাচার ক্ষীণ চেস্টা করেছিল । এখন সেই তৃষ্ণার্ত সূর্য নিজের তৃষ্ণা মিটিয়ে অন্ধকারের হাতে পৃথিবীর শাষনভার তুলে দিয়ে গভীর ঘুমে নিমগ্ন । অথচ মিন্টু এখনো সেই পাকুরগাছে তলায় বসে যুথীর জন্য অপেক্ষা করছে । এরই মধ্যে পাকুড় গাছে বাসা বাধা পাখিগুলো নিজ গৃহে প্রত্যাবর্তন করে সাময়িক কলহে ব্যাস্ত হয়ে পড়েছে । অন্ধকারের জন্য গাছের গায়ের পিঁপড়ারূপী সৈনিকদলকেও দেখা যাচ্ছে না । মনে হয় তারা সারাদিনের পরিশ্রমে ক্লান্ত হয়ে পৃথিবীর কোটরে থাকা নিজ বাসভবনে চলে গেছে । অথচ মিন্টু এখনো সেখানেই বসে আছে । তার নিজেরও কেমন জানি অস্বস্তি লাগছে । ক্লান্ত শরীরের পুর্বাভাস জানাতে চোখদুটো তার আপনাআপনিই বন্ধ হয়ে আসতেছে । আসলে পাকুড় গাছের আড়ালে দাঁড়ালেও সূর্যের আক্রমণ থেকে সে রক্ষা পায় নি । সূর্য ঠিকই পাকুড়পাতার ঢাল ভেদ করে মিন্টুকে আঘাতে আঘাতে ধরাশয়ী করে ফেলেছে ।
এখন কি করবে মিন্টু ?
যুথী তো এখনো আসলো না ।
অথচ তার আসার কথা ছিলো শেষ বিকেলে সুর্যের বিদায়মূহুর্তে । আর এখন সূর্য বিদায় নিয়ে অন্ধকার এসে নিজের আস্তানায় জাঁকিয়ে বসেছে ।
তবে কি যুথী তার নিজ প্রতিশ্রুতি ভুলে গেলো !
নাকি তার বাড়িতে কোন বাড়াবাড়ি হয়ে গেছে !
কথাটা মনে উঠতেই মিন্টুর বুকের ভেতরটায় হাহাকারের বেহালা বাজতে শুরু করলো। সেই বেহালার সুরের সাথে থেমে থেমে যোগ হচ্ছে বেজ ড্রামের ঢিপ ঢিপ বিট । এই ধরনের সাউন্ড তো বাংলা সিনেমায় শোনা যায় , মিন্টুর মনের মধ্যে বাজতেছে কেন ?
মনের মধ্যে বিকৃত শব্দ নিয়ে আরো কিছুক্ষন অপেক্ষা করার পরেও যুথী যখন এলো না তখন বাধ্য হয়ে শান্ত পাখির মত নিঃশব্দে পাকুড়তলা থেকে প্রস্থান করলো । হাটা শুরু করেই মিন্টুর মনে হলো অন্ধকার চারিদিক থেকে কেবল তার পথকেই আষ্টেপিষ্টে আকড়ে ধরেছে । আপন মনেই আপনাকে প্রশ্ন করলো , আজ কি আমবস্যা । এই মূহুর্তে উত্তর পাওয়া অসম্ভব । খানিকক্ষন হাটার পর আবিষ্কার করলো পার্কের এই রাস্তাটার স্ট্রীটল্যাম্প গুলো আজকে জ্বলছে না । শুধুমাত্র পার্কের গেটে থাকা বড় লাইটটার আলো এখান থেকে চোখে পড়ছে । নিজের শুন্যদৃষ্টিকে সেইদিকে স্থির রেখে শব্দ করে হাটতে হাটতে সামনে এগিয়ে চললো । এই মূহুর্তে তার চোখের সামনে , মনের মধ্যে উভয় জায়গায়ই গাঢ় অন্ধকারের কুন্ডলীতে জড়ানো । চোখের সামনের অন্ধকার তো নিয়মমাফিক আর মনের অন্ধকারের কারন হচ্ছে যুথী ।
সে যে নিজগৃহ থেকে বিতারিত তা কখনোই নিজ মনে কোন প্রশ্ন কিংবা ভীতির সঞ্চার করলো না । অথচ যুথী কেন আসে নাই এই নিয়ে কোটি প্রশ্ন মাথায় গোলকৃমির মত কিলবিল করছে । কিন্তু হৃদয়ের চাহিদাকে উপেক্ষা করে মাথার চিন্তাকে প্রশ্রয় দিলে মিন্টু ভালো করেই বুঝতে পারতো যুথীর না আসাটা অস্বাভাবিক কিছু নয় ।
যুথীর চোখে চোখ রেখে কথা বলাটাই ছিলো দুঃসাহসিক কাজ । আর মিন্টু সেই দুঃসাহসিকতার গন্ডি পেড়িয়ে আরো কয়েকধাপ উপরে উঠে যুথীকে প্রেম প্রস্তাব নিবেদন করেছিলো কাল বিকেলে । সেই প্রস্তাবের উত্তরে যুথী কেবল নিজের ট্রেডমার্ক করা হাসি দিয়ে চোখটা একটু নামিয়েছিলো মাত্র । আজকে পুকুরপাড়েই তাদের ভালোবাসার প্রথম ডেটিং হতে যাচ্ছিলো । কিন্তু অদৃষ্টের কোন এক অশুভ চক্রে পরে তাদের এই শুভকাজটি সম্পাদন হয়ে উঠলো না । গুরুজনেরা বলেন সৃষ্টিকর্তা যা করেন ভালোর জন্যেই করেন । অথচ একটি সদ্য প্রস্ফুটিত ফুলওয়ালা গাছকে পানি দিয়ে বাচিয়ে না রেখে রৌদ্রতাপে বিনষ্ট করার মধ্যে কি ভালো থাকতে পারে তার সমাধান মিন্টুর ছোট মাথায় আসে না । মিন্টু মনে মনে সৃষ্টিকর্তাকে শতবার ধিক্কার জানিয়ে নিজগৃহ মুখে প্রত্যাবর্তন করার জন্য পা বাড়ালো । নিজ বাড়িতে তার জন্য কি অপেক্ষা করছে সেই ভাবনা মনের আকাশে উদয় হওয়া মাত্র যুথীর চিন্তা ক্ষনিকের জন্য হলেও মিলিয়ে গেলো । সব চিন্তা ঝেড়ে ফেলে সদ্য ধিক্কার জানানো সৃষ্টিকর্তার নাম শ্রদ্ধাভরে জপতে জপতে নিজ বাড়ির গেটে উপস্থিত হলো । সেখানে দাঁড়িয়ে ভাঙ্গা গলায় ডাক দিলো , মা ............ ।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই জুলাই, ২০১৬ রাত ১:৫৮
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মক্কা থেকে বদর: মুসলিম ভ্রাতৃত্বের ভূরাজনীতি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:৪৫


মুসলিম বিশ্বে ঐক্যের নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে। অন্তত চুক্তিগুলোর নাম শুনলে তেমনটাই মনে হয়। মক্কা ও বদর। মুসলিম ইতিহাসের দুটি পরিচিত নাম। নাম শুনে মনে হতে পারে, বহুদিনের বিভেদ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্মোন্মাদদের কল্পিত বাস্তবতা: "দি ম্যাট্রিক্স" এবং নীল বড়ি

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:১৭


বাংলাদেশ ধর্মোন্মাদ ও জঙ্গিদের কবলে পড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধম্যের কল্যানে এই ধর্মোন্মাদনা দাবানলের মতো সারা দেশে ছড়িয়ে পড়ছে।

ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে, কদিন আগে সাতক্ষীরায় একদল ধর্মোন্মাদ ও জঙ্গি ওয়াহিদুজ্জামান শামীম... ...বাকিটুকু পড়ুন

যারা ব্রয়লার মুরগী খায় তারা সমকামী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৫৩


ওয়াজ শোনেন অথচ মুফতি কাজী ইব্রাহিম হুজুরকে চেনেন না, এমন মানুষ বাংলাদেশে খুব কমই আছেন। হুজুরের আরেকটি বড় পরিচয় হলো, তিনি করোনার ওষুধ স্বপ্নে পেয়েছেন বলে দাবি করেছিলেন। হুজুর... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেইপ শিফটার ৩ - মাছ কন্যা

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:১৯


২০১১ এর দিকে নর্থ –ইয়র্কে থাকাকালীন রুমার বাসার আশেপাশে তেমন কোন বাঙালি দোকান ছিল না ।সেই টরোন্টর নামকরা চাইনিজ সুপারমার্কেট –টা বেশ দূরে। পায়ে হেঁটে যাওয়ার পথ নয়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে পথ ধরে রথো রাফি হেঁটে যেতেন: চলে গেলেন ব্লগার রাফি

লিখেছেন শরৎ চৌধুরী, ২২ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:০৩

কবি, ব্লগার ও অনুবাদক রথো রাফির স্মরণ
রথো রাফি ব্লগ
রথো রাফি আর নেই—সত্যটি মেনে নেওয়া ভীষণ কঠিন। একজন মানুষের চিরপ্রস্থানের পর আমরা কেবল তার শারীরিক অনুপস্থিতিই টের পাই না, বরং গভীরভাবে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×