ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল সিরিজ খেলতে এসেছে। সেই সঙ্গে এসেছে শীতকালও। তবে সিরিজ শেষে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল দেশে ফিরে গেলেও শীতকাল কিন্তু এত সহজে যাবে না। আমাদের বাংলা প্রবাদেই তো আছে, ‘এক মাঘে শীত যায় না।’ শীত না যাক, গ্রীষ্মকালের তারকারা কিন্তু এরই মধ্যে ছুটিতে চলে গেছে। এই যেমন ফ্যান, এসি, হাতপাখা ইত্যাদি। গরমের সময় এই ফ্যান এসি কিংবা হাতপাখা ছাড়া আমাদের এক মুহূর্তও চলত না। অথচ গরমের সেই তারকারা এখন অবহেলিত কর্মহীন জীবনযাপন করছে। ছুটি পেলে মানুষ কক্সবাজার, বান্দরবান যায়। কিন্তু দীর্ঘ শীতকালীন ছুটিতে ফ্যান এসিরা তাদের নিজ নিজ অবস্থানেই ঝুলে আছে। এটাই এই নিষ্ঠুর পৃথিবীর নিয়ম। ২৪ ঘণ্টা ঘুরে ঘুরে যে ফ্যান আমাদের বাতাস দিয়েছে, আজ সেই ফ্যান ঘুরতে শুরু করলেই আমরা বিরক্ত হই। রেগে গিয়ে বলি, ‘ওই! ফ্যান ছাড়লি ক্যান?’ আসলে জগৎটা যে স্বার্থের কারণে টিকে আছে, তা এই শীতকাল আসলেই ভালোমতো অনুধাবন করা যায়। শীত আসার সঙ্গে সঙ্গেই সাইবেরিয়া টাইপের শীতপ্রধান দেশগুলো থেকে হাজার হাজার পাখি বর্ডার পার হয়ে বাংলাদেশে চলে আসে। এদের কোনো পাসপোর্ট বা ভিসা লাগে না। বাংলাদেশ অত্যন্ত অতিথিপরায়ণ দেশ। এই স্বার্থান্বেষী সুবিধাভোগী পাখিগুলোকে আমরা অতিথি পাখি হিসেবে অবহিত করে থাকি। নিজেদের সমস্যায় দিনের পর দিন তারা আমাদের দেশে এসে আশ্রয় নিচ্ছে। আমাদের দেশের মাছ-পানি খাচ্ছে। শীত শেষে আবার চলেও যাচ্ছে। অথচ বাংলাদেশের পাখিরা আজ পর্যন্ত বিদেশ ভ্রমণের সুযোগ পায়নি। গ্রীষ্মপ্রধান দেশের পাখিদের শীতপ্রধান দেশ দেখার ইচ্ছে হতেই পারে। কিন্তু আমাদের দেশের পাখিরা সে সুযোগ পায় না। যা খুবই হতাশাজনক। বাংলাদেশ রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে পারলেও এই বিদেশি পাখিদের অনুপ্রবেশ ঠেকানোর দিকে নজর দিচ্ছে না। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ ব্যর্থ। শীতকালে টিভি-পত্রিকায় নানা রকম প্রসাধনীর বিজ্ঞাপন দেখা যায়। যে কোম্পানি গ্রীষ্মকালে ত্বকের সুরক্ষার কথা বলত, সেই একই কোম্পানি এখন শীতে ত্বকের সুরক্ষার কথা বলছে। আসলে সবাই সুযোগসন্ধানী! এত কিছুর পরও কর্তৃপক্ষ এ বিষয়গুলো নিয়ে ভাবছে না। এভাবে চলতে থাকলে গড়ে উঠবে একটি স্বার্থপর প্রজন্ম, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক! তাই জাতীয় স্বার্থে কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই ডিসেম্বর, ২০১২ দুপুর ২:৫০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




