বিরোধীদলীয় নেতা ও বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া বলেছেন, ‘এ সরকারের আশেপাশে, ডানে বামে সবাই চোর। সরকারের উপদেষ্টা চোর, মন্ত্রী চোর, এমপি চোর। সরকার নিজেই এবং তার আত্মীয়স্বজনেরা চোর। এই চোরদের দিয়ে দেশ চলতে পারে না।’
আজ বুধবার বিকেলে রাজধানীর মহানগর নাট্যমঞ্চে মুক্তিযোদ্ধা সংবর্ধনা সমাবেশে খালেদা জিয়া এই অভিযোগ করেন।
বিএনপির নেতাদের নামে দেওয়া মামলার উল্লেখ করে খালেদা জিয়া বলেন, ‘যত মামলাই করা হোক, তাতে কোনো লাভ হবে না। এখন আর বিয়োগের সময় নয়, কেবল যোগ হবে। এখন বিয়োগ হবে আওয়ামী লীগ থেকে। আর যোগ হবে বিএনপি ও ১৮ দলের সঙ্গে।’
খালেদা জিয়া অভিযোগ করেন, সরকার দাগি আসামি ও শীর্ষ সন্ত্রাসীদের জেল থেকে ছেড়ে দিচ্ছে। আর বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ বিরোধী দলের ২৫ হাজার নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন নির্দলীয়, নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীন ছাড়া আওয়ামী লীগের অধীনে কোনো নির্বাচন হবে না।
বিরোধী দলের নেত্রী বলেন, ‘অত্যাচারী, খুনি সরকারের বিরুদ্ধে আমাদের সংগ্রাম শুরু হয়েছে। এই সরকারকে বিদায় করে যেদিন সত্যিকারের গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা হবে, সেদিন আমাদের সংগ্রাম শেষ হবে।’
সমাবেশে সরকারের বিরুদ্ধে হল-মার্ক, শেয়ারবাজার, ডেসটিনি, ভিওআইপি ও পদ্মা সেতু প্রকল্পে লুটপাটের অভিযোগ তোলেন বিএনপির চেয়ারপারসন। পদ্মা সেতু হলো না কেন? মামলায় দুই আবুল বাদ গেল কেন? এ প্রশ্ন করে তিনি বলেন, ‘পদ্মা সেতু শুরুর আগেই তাঁরা (সরকার) বিদেশে ঘুষ নিয়ে দেশের সম্মান নষ্ট করেছেন। বিশ্বব্যাংক বারবার বলল, দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের ধরার জন্য। তাদের নামে মামলা-মোকদ্দমা হলে বিশ্বব্যাংক টাকা দিতেও রাজি ছিল। কিন্তু আজ পর্যন্ত দুর্নীতিবাজ চোরদের ধরা হয়নি। দুই আবুল বাদ গেল।’
খালেদা জিয়া বলেন, ‘কিসের জন্য আবুলেরা বাদ যায়। আবার সেখানেও বিশ্বব্যাংকে শর্ত জুড়ে দেওয়া হলো, “যদি টাকা দিতে রাজি হন, তাহলে আবুলদের নামে কেস দেব।” এটা কেমন কথা। তাহলে তো পরিষ্কার যে আবুল দুর্নীতি করেছে। সে জন্য আবুলদের তাঁরা ধরতে চান না। কারণ, কান টানলে মাথা আসবে।’
সমাবেশে সারা দেশ থেকে কয়েক হাজার মুক্তিযোদ্ধা অংশ নেন। প্রায় আধা ঘণ্টা বক্তব্য দেন খালেদা জিয়া।
মুক্তিযোদ্ধাদের উদ্দেশ করে খালেদা জিয়া বলেন, ‘সমাবেশে আসতে আপনাদের বাধা দিয়েছে। এটা বড় কথা নয়। বড় কথা হচ্ছে, তাঁরা আপনাদের ভয় পায়। তাঁরা মনে করেন, দেশের দুরবস্থা দেখলে মুক্তিযোদ্ধারা বসে থাকবেন না। মুক্তিযোদ্ধারা নেমে পড়লে নতুন প্রজন্মও যোগ দেবে।’ মুক্তিযোদ্ধাদের দেশরক্ষার সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান জানান তিনি।
মুক্তিযোদ্ধা সংবর্ধনা সমাবেশের আহ্বায়ক শাহজাহান ওমরের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন বিএনপির নেতা খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমদ, তরিকুল ইসলাম, মির্জা আব্বাস, সাদেক হোসেন খোকা, শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন ও সোহরাব উদ্দিন। এ ছাড়া অলি আহমদ, সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, মুক্তিযোদ্ধা ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, সাদেক আহমেদ খান, নুরুল ইসলাম মঞ্জুর, মেজর জেনারেল (অব.) আইনুদ্দীন, কর্নেল (অব.) জয়নাল আবেদীন প্রমুখ বক্তব্য দেন।
__________ প্রথম আলো

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




