
এর পর ঢাকায় বড় কোন ভূমিকম্পন হলে সবার আগে কয়েক লক্ষ মানুষ আগুনে মারা যাওয়ার সম্ভবনা বেশি আছে ।না ভাই এটা আমার কথা না । এটা ভূমিকম্প মোকাবেলা আমাদের করনীয় শীর্ষক এক কর্মশলায় বিশেষজ্ঞদের কথা ।তাদের কথা মত যা বোঝা গেছে এবার ঢাকায় বড় ধরনের কোন
ভূমিকম্প হলে তাতে ধংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে যে লোক না মারা যাবে তার চেয়ে বেশি মারা যাবে আগুনে পুড়ে এবং বিদুৎস্পৃষ্টে।
তাদের মতামত অনুযায়ী ভূমিকম্পের পর
গ্যাসলাইনে বিস্ফোরণ ঘটবে আর সে আগুনে পুরো শহর জুড়ে দাউ দাউ করে জ্বলে উঠবে ।তাছাড়াও তাদের মতে ভূগর্ভস্থ পানি এবং আশপাশের নদী-জলাশয়ের পানি ঢাকা শহরে বন্যার সৃষ্টি করার সম্ভবনা আছে ।বিশেষজ্ঞরা আরো বলেছেন উপড়ে পড়া বিদুৎ এর খুঁটির সাথে থাকা তারের সংস্পর্শে সেই পানিতে বিদুৎ সংযোগ হবে আর তাতেও অগনিত লোকের মিতু্য নিশ্চিত ।
অন্য আরেক বিশেষজ্ঞ জানিয়েছেন মিয়ানমারের আরকান এলাকায় ৮ দশমিক ৬ মাত্রার ভূমিকম্পন হওয়ার সম্ভবনা আছে, আর সেই ভূকম্পনে ঢাকায় ৯ মাত্রা অনুভূতি হতে পারে । আর সে ক্ষেত্রে ঢাকার এবং বৃহর্তর চট্রগ্রামের প্রায় ৭২ থেকে ৭৪ হাজার ভবন ভেঙ্গে পড়ার সম্ভবনা আছে ।এবং তাছাড়াও বাংলাদেশের টাঙ্গাইলের মধুপুরে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার ভূকম্পন হলে তাতে ঢাকায় ৯মাত্রার ভূকম্পন অনুভূত হবে ।
এসবের কারন হিসেবে বিশেষজ্ঞরা বলেছেন,
ঢাকা শহরের ৩৫ ভাগ মাটি লাল আর সেই সব লাল মাটির উপরে তৈরি করা ভবনের ক্ষয়ক্ষতি কম হবে । কিন্তু বাকি ৬৫ ভাগ মাটি নরম আর নরম মাটির এলাকায় যতবেশি স্থায়িত ভূকম্পন হবে,সেসব এলাকার ক্ষয়ক্ষতির আশংকাও বেশি হবে ।
ক্ষয়ক্ষতি কি ভাবে কমানো যায়ঃ
বিশেষজ্ঞরা বলেছেন যদি ভূকম্পনের আধঘন্টার ভিতরে উদ্ধার কাজ শুরু করা যায় তাহলে অনেক ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনা সম্ভব ।আর তাতে প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষকেই বাঁচানো সম্ভব হবে । তারা আরো মতামত দিয়েছেন যদি কোন মতে উদ্ধার কাজ শুরু করতে ১দিন লাগে তাহলে সে ক্ষেত্রে প্রায় ৮০ থেকে ৮১ শতাংশ লোক বাঁচানো সম্ভব । আর যদি ২দিন লাগে তাহলে তাতে ৩৬শতাংশ এবং তিনদিন লাগলে তাতে ততশতাংশ লোক বাঁচানো সম্ভব ।তাই বিশেষজ্ঞদের মতে ভূকম্পনের সাথে সাথে উদ্ধার কর্মিদের কাজে হাত দিতে হবে ।
তাই আমাদের জানা প্রয়োজন ভূমিকম্পন হওয়া সঙ্গে সঙ্গে কি করনীয় । বিশেষজ্ঞদের মতে ভূকম্পন হওয়া বা অনুভূতির সঙ্গে সঙ্গে
বিদুৎ কেন্দ্র থেকে বিদুৎ সংযোগ বন্ধ রাখতে হবে বা বিদুৎ সংযোগ বন্ধ করে দিতে হবে ।তাছাড়াও গ্যাসের সরবরাহ বন্ধ করতে হবে বা বন্ধের ব্যবস্থা করতে হবে ।আর এর পাশাপাশি যোগাযোগের জন্য এবং উদ্ধার কাজ চালানোর জন্য জরুরি ভির্ত্তিতে ব্যবস্থা রাখতে হবে ।
তবেই ক্ষয়ক্ষতির পরিমান অনেক হারে এড়িয়ে যাওয়া যাবে বা কমানো সম্ভব হবে ।
ছবিটি ইন্টানেট থেকে নেয়া হয়েছে ।
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ ভোর ৬:১১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




