somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শৃঙ্খল ভাঙার ডাক

১৫ ই জুলাই, ২০১৫ দুপুর ২:৪৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

চাঁদের সাথে কথা বলঅর অভ্যাসটা কারো কারো বড্ড পুরোনো । আমারই আছে। পুর্ণিমা রাতে বাড়ির উঠানে মাদুর বিছিয়ে মনে মনে যে কতো কথা হয়েছে চাদেঁর সাথে তা কেবল চাঁদ আর আমিই জানি। আকাশ, পাখি , চাঁদ অসম্ভব নির্ভরশীল সঙ্গী। মনের কোণে জমে থাকা কষ্টের কথাগুলো শুনে উপহাসে প্রাণ ভরায়না

আমার বন্ধু নীলা। জীবনের ৯ টি বছর পাড় করে দিয়েছে চাদেঁর সাথে সুখ দুখের কথা শেয়ার করেই। প্রায় ১৬ বছর পর এক বাস স্টপে ওর সাথে দেখা হলো । সৌভাগ্যবশত দিনটিতে দুজনেরই ছুটি ছিলো। তাই দুই বন্ধৃ ঠিক করলাম আজ আর কোনো কাজ নয় । দীর্ঘ সময়ে মরীচা পড়া সম্পর্কটাকে একটু তাজা করে নেয়া যাক।

আসলে মোবাইল ফোনের বহুল ব্যবহার থাকলে হয়তো ১৬ বছর আগে আমরা একে অপরের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হতামনা। যাই হোক খুব ভালো লাগছিলো ছোটবেলার বন্ধুটাকে কাছে পেয়ে। তবে কেমন যেনো শুকিয়ে গেছে ও। সুন্দর , প্রফু্ল্ল একটি চোহারায় চোখের নীচে কালো দাগ পড়ে গেছে । বলাবাহুল্য ছোটবেলা থেকেই খুব মিষ্টি আর প্রাণচঞ্চল ছিলো নীলা। সংসার আর সঙ্গী নিয়ে ব্যাপক স্বপ্ন দেখতো , তাই বন্ধুরা ওকে ডাকতাম স্বপ্নময়ী বলে। ওর হাত ধরে জানতে চাইলাম ...”কেমন যেনো বিষন্ন দেখাচ্ছে তোকে , তুই ভালো আছিসতো নীলা’? পাথর চাপা আবেগটা যেনো টগবগে দুধের মতো উতলে পড়লো। আমাকে জড়িয়ে কাঁদলো খানিকক্ষণ। আমরা তখল ধানমন্ডি লেকের ছায়াময় একটি স্থানে বসে আছি। ওর পরের কথাগুলো শুনে আমিও আবেগ ধরে রাখতে পারলাম না। বন্ধু হিসেবে সহ্য করা কঠিনও।

এইচএসসি পরীক্ষার পরপরই ভালোবেসে একজনকে বিয়ে করে নীলা। এক বছর চলে যায় পারস্পরিক মোহ আর আবেগে। এপরই ধরা পড়ে তার প্রাণের মানুষটার কাপুরুষতার চিত্র। কারণে অকারণে গায়ে হাত ওঠাতে শুরু করে । ধীরে ধীরে চিরচেনা মানুষটি বড্ড অচেনা হতে শুরু করে। যেনো এক পাশবিক নির্যাতনশালায় বন্দি হয় নীলা। খুব বড়াই করেছিলো বন্ধুবান্ধব ও পরিবারের কাছে । তাই কাউকে জানতে দেয়না এসব কথা গভির রাতে সবাই ঘুমানোর পর দু:খ কষ্টের কথা শোনার একমাত্র সঙ্গী হয় চাঁদ।

এভাবেই দিনের পর দিন চলে যায়। দুই সন্তানের মা হয় নীলা। সন্তানের মুখে দিখে তাকিয়ে সবকিছুকে মেনে নেয় নিষ্ঠুর নিয়তি হিসেবে। এভাবেই পেরিয়ে যায় দীর্ঘ ৯টি বছর। একদিনতো বাড়িবাড়ি রকম পরিস্থিতিতে পড়তে হয় তাকে। বিছানার সঙ্গীটি হিংস্র এক ডাকাতের মতো তার ওপর ঝাপিয়ে পড়ে। আধমরা হবার পরই ছাড়া পায়। শেষপর্যায়ে সজোরে পেটে একটি ঘুষি দেয়ার পর মাটিতে লুটিয়ে পড়ে দুর্বল গঠনের মিষ্টি সেই মেয়েটি। বেশ কিছুক্ষণ পর নিজেকে আবিস্কার করে হাসপাতালের বিছানায়।

সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায় দেখা গেছে ৮৭ শতাংশ নারীই কোনো না কোনো সময় স্বামীর হাতে নির্যাতিত হচ্ছেন। কখনো কখনো এর মাত্রা গড়ায় মৃত্যু পর্যন্ত । এরপর যদি সন্তান থাকে তাহলে বিচার প্রক্রিয়া শেষ হয় পারিবারিক সমঝোতায়। নারীর ভাগ্যই যেনো সমঝোতার মোড়কে ঘেরা। যখনই কোনো নারী এই মোড়ক ছিড়ে বের হতে চায় সমাজ কটুক্তি করে তাকে নিয়েই।

হয়তো তার চরিত্রে দোষ আছে, নাহলে স্বামী মারবে কেন? হয়তো পরকীয়া প্রেমে জড়িয়েছে, নাহলে সংসার ভাঙবে কেন?সমাজের এমন বিস্তর প্রশ্নের জবাব দিতে হয় নারীকেই । গুটিকয়েক মানুষ ছাড়া কেউ প্রশ্ন তুলেনা পুরুষের এমন কাপুরুষিত আচরণ কেন? সবকিছুর পরও যদি শৃঙ্খল ভেঙে বেরিয়ে আসে নারী –সমাজের লোলুপ দৃষ্টি পড়ে তার ওপর । সমাজের কাছে সেই মেয়েটি পরিণত হয় সস্তা পণ্যে।
তাই বলবো নারীরাই পারে তার নিজের অবস্থানে পরিবর্তন আনতে। ‘স্বামীর পায়ের নীচে স্ত্রীর বেহেশত’ এ বিশ্বাস থেকে বেরিয়ে অপর সঙ্গীর সামনে নিজেকে সমমর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করতে। তাহলেই হয়তো পাশবিকতার শৃঙ্খল ভেঙে বেরিয়ে আসতে পারবে নারী।

সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই জুলাই, ২০১৫ দুপুর ২:৪৮
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিয়োগের রূপকথা

লিখেছেন ইসিয়াক, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৩



মা বরাবরই পাতে ভাত কম নিতো , বলতো- ভাতে না-কি  বাত বাড়ে।
বিশেষ বিশেষ দিনে বাড়ি পোষা মোরগের ঝোল কিংবা রুই মাছের তরকারীর সবটুকু  আমাদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

দৃষ্টিকটু পোশাক ও দৃষ্টিকটু আচরণ

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৪



আপডেট - হাফপেন্ট আন্দোলন: ৩০/০৯/২০২৬
হাফপেন্ট পরে মেট্রো ট্রেন ও বাসে চলাচল বাংলাদেশের একটি নাগরিক চাহিদা হতে পারে। যেহেতু সমস্যা মেট্রোতে হয়েছে, আমি ধারণা করেছি বাংলাদেশে ফেসবুকে “হাফপেন্ট আন্দোলন” হওয়ার সম্ভবনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

কঠিনতম সব চ্যালেঞ্জের মুখে বিএনপির ভবিষ্যৎ কি অন্ধকার??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:১০



বিএনপির সামনে অনেক কঠিন সব চ্যালেঞ্জ...

তাদের মোকাবেলা করতে হচ্ছে দ্বিমুখী বিরোধী-দলীয় রাজনীতি বা কর্মকাণ্ড (যেটা কিনা বাংলাদেশের রাজনীতিতে আগে কখনো দেখা যায়নি)।

জামাত-এনসিপি যতই লীগের ফিরে আসার বিরুদ্ধে বিএনপির... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার নানা মরহুম শাহাবুদদীন মাহমুদ জায়গীরদার

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৯:২৫



আমার আম্মার সেঝ চাচা’র লেখা ‘My life is not mine’ বইটি পড়ছি। বইটিতে ‘মাইজম ভাই’ নামের একটি অধ্যায় আছে। এতে সেঝ নানা আমার নানার বিভিন্ন সত্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

মৃত্যু পেরিয়ে আবার ব্লগে------

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:০৬




প্রায় ০৩ মাস হয়ে গেলো ব্লগে আসনা হয় না, আসা হয়না মানে লিখা হয়না। প্রিয়জনের মৃত্যু শোক কাটিয়ে ব্লগে উকি দেওয়া হয় কিন্তু পোস্ট দেওয়া হয় না।


গত... ...বাকিটুকু পড়ুন

×