somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একটি আত্মকথন এবং একটি অনুভূতির অপমৃত্যু

০২ রা সেপ্টেম্বর, ২০১১ রাত ১০:২০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

প্রেম আর ভালোবাসা কখনো এক না !প্রেমে তুমি ভালোবাসা পাবে ,কিন্তু ভালোবাসায় প্রেম পাবেনা !
স্রষ্টার সাথে প্রেম নয় ,ভালোবাসা সৃষ্টি হয় !মায়ের সাথে প্রেম নয় ,ভালোবাসার সৃষ্টি হয় !
অতএব ,প্রেম কখনো ভালোবাসার উর্ধে হতে পারেনা ( বলেছিল খুব প্রিয় একজন )
_________________________________



যখন পূবের আকাশে সুর্যি উঠত, যখন কাকডাকা ভোরে পাখি গান গাইত তখঙ্কার এই শুদ্ধ অনুভূতি ।
একদম বাস্তব । একদম বুকের ভিতর থেকে উঠে আসা কথা !অনূভুতিহিন অচেনা ভালোবাসায় আবদ্ধ প্রেম ...............।।

________________________________________



--তাফসিন , কথা দে আমাকে ছেড়ে তুই কক্ষনো কোথায় যাবিনা

--ধূর কি যে বলিস না , তোকে ছেড়ে যাব কোথাও ? আমার যাবার একমাত্র জায়গা যে তোর ছায়াই !

--কক্ষনো ছেড়ে যাবিনা আমাকে , কক্ষনও না । ছেড়ে গেলে তোকে আমি খুন করে ফেলব । একদম ।

--ধূর পাগলি !

এই বলে সে দিন তুই কেঁদে উঠেছিল আমার বুকের মাঝে ।

আমি কোন সান্তনা বাক্য খুঁজে পাইনি ।

শুধু তাকিয়ে ছিলাম তোর স্বচ্ছ চোখের দিকে ।

তাকিয়ে থাকার কথা ছিল আজন্ম ।
তুই তাকাস নি ।
বিমর্ষ বিলাপের স্বরগুলো এখনও কানে বাজছে !
কদিন আগের ঘটনা বলতে পারিস ?
মাসখানেক ?
না আরও কম ?

সেদিন তুই হঠাত্‍ বলে উঠেছিলি ,

--তাফসিন ?

-- আমরা কখন বিয়ে করব ?

--আর দুটো বছর অপেক্ষা কর , আমি মেডিকেল থেকে বের হয়ে নি , সেদিন । ঠিকাছে ?

-- না , ঠিক নাই ।

কেন লক্ষী ? কি সমস্যা ?

-- বাবা মা বিয়ের জন্য চাপ দিচ্ছে খুব । দু দিন পর পর ই পাত্র দেখতে আসছে আমাকে । আমাকে না বললেও আমি তো বুঝতি পারি ।

তাফসিন আমার যে কিচ্ছু ভালো লাগেনা !

এই বলে তুই সেদিনও কেঁদেছিলি খুব ।
আমি স্বান্তনা বাক্য খুঁজে পাইনি ।
তোর চোখের জলে আমার টিশার্ট ভিজে গিয়েছিল ।
আমি নির্বাক !
পাথরের মূর্তির মত দাঁড়িয়ে ছিলাম ।
তোর ছোট্ট শরীরটা কেঁপে উঠেছিল বারবার ।
আমি স্বান্তনা দিইনি ।
ভালোবেসে বলিনি , তুই কিচ্ছু চিন্তা করিসনা সোনা ,সব ঠিক হয়ে যাবে ।


না কিছুই ঠিক হয়নি ।
উল্টে পাল্ট গ্যাছে ছকের সব গুঁটি ।

শুধু আমি ঠায় দাঁড়িয়ে আছি ।
মেডিকেল থেকে বেরোব বলে ,


এইতো সেদিনের কথা , কি বলেছিল তোয় মনে নাই ?

--তাফসিন ?
--বল লক্ষী ,
-- আমার যখন বাচ্চা হবে তখন খুব মজা হবে , তাই না ?
--হুম ।
--বলতো ক্যামন হবে ও ?
--যখন হবে তখন ইনা বুঝব !
--দেখিস তুই আমার বাচ্চাটা হবে ঠিক জনসেন বেবী লোশনের বাচ্চাটার মত । গোবদা গোবদা হাত পা , গুগলি মুগলি মশ ।
--উফ , এত্ত কথা ক্যামনে বলস ?

আমার ইচ্ছা আমি বলব , তোর কি ?
এই বলে সেদিন খুব হেসেছিলি তুই ।
হাসতে হাসতে চোখ থেকে পানি বের হচ্ছিল তোর ।
আমিও একটচোট হেসেছিলাম মুচকে মুচকে ।


সেদিন মনে হচ্ছিল .......
মনে হচ্ছিল আমরা পৃথিবীর সবচেয়ে সুখি মানুষ ।
খুব শক্ত করে ধরে রেখিছিলাম তোকে !
সেই অদ্ভুত সুন্দর পরীর মতো মেয়েটাকে ।

কতদিন আগের কথা মনে আছে তোর ?
মাসখানেক ?
নাকি আরেকটু বেশি ?

আবার অতীতে ফিরে যাই আমি ।
তোর সাথে যতক্ষণ ই থাকতাম অদ্ভুত ভালোলাগায় ভরে যেত আমার মন ।
ভরে যেত পূর্ণতায়

সেদিন কি বলেছিলি তোর মনে নাই ?

--তাফসিন ?
--বল লক্ষী !
--রাখ তোর লখী, বলি সেটা তো শোন
--জ্বী বলুন ।
--তুই কিন্তু বাসর রাতে একদম ঘুমাতে পারবিনা বলে দিলাম ।
আমরা সারারাত গল্প করব । অনেক গল্প ।
--শুধুই গল্প ? আর কিছু না ?
--যাহ শয়তান , তুই না একদম অসভ্য ..........

সেদিনও হেসেছিলি তুই । বারবার গড়িয়ে পড়ছিলি আমার উপর ।
কেঁপে কেঁপে উঠছিল তোর শরীর ।
আনন্দে ?
আনন্দের আতিশয্যে ?


তুই এভাবেই ভাবতি সবসময় ।
পবিত্রতা ছিল তোর প্রতিটা স্পর্শে
প্রতিটা শিহরণে ।

কতদিন আগের ঘটনা এগুলো ?
মাস দুয়েক ?
আরও কিছুটা কম ?

ভাবতে ভাবতে আমি ক্লান্ত হয়ে পড়ি ।
কেননা , বাস্তবতাটা আমি মেনে নিতে পারিনা !
কি নিমর্ম বাস্তবতা !
কি ভয়ঙ্কর !


তারপর একদিন ?
হুট করেই তোর বিয়ে ঠিক হয়ে গেল !
তুই কাঁদতে কাঁদতে বিয়ের কার্ড দিয়ে গেলি
সেদিনও বলেছিলি ঠিক সেভাবেই ।

--তাফসীন ?

আমিও গভীর দুঃখের সাথে সেদিনও বলেছিলাম ।

--বল লক্ষী

--আমার বিয়ের কার্ড ।
ধর ।
তোর চোখ দিয়ে ঝর্ণাধারার মতো অশ্রু গড়াচ্ছিল ।
ফর্সা গাল লাল হয়ে গিয়েছিল একদম ।

--ভাল তো !

বলতে বলতে আমার ভেতরটা দুমড়ে মুচড়ে গিয়ে ছিল একেবারে

হঠাত্‍ তুই টুক করে সালাম করলি আমাকে ।

তারপর হঠাত্‍ বলে উঠলি
"জন্মই আমার আজন্ম পাপ ।"


সেদিনই প্রথম তোকে আমি স্বান্তনা দেই ।
সব ঠিক হয়ে যাবে সোনা ।
তুই ভালো থাকবি ।

তারপর কাঁদতে কাঁদতে দৌড়ে চলে গেলি , কিছু না বলে !!!!

.
.
.
.

এবং তোর বিয়ের দিন ঘনিয়ে এলো ।
লাল শাড়িতে পরীর মতো সেজেছিলি তুই ।
আমার খুব হিংসে হচ্ছিল জানিস ?
এই পরীটা যে আমার হওয়ার কথা ছিল !


তারপর ?

পরদিন ভোরে ঈষিকা আমাকে খবর দিল !

--তাফি , তাফি ? সর্বনাশ হয়ে গেছে যে !

-- কি সর্বনাশ ?


ও যে কালরাতে আত্মহত্যা করেছে !

বলতে বলতে হঠাৎ গলাটা ধরে এলো ওর ।
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

প্রধানমন্ত্রী বিদেশে, আইনও কি সঙ্গে নিয়ে গেছেন ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ৩০ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০৬


প্রধানমন্ত্রী বিদেশ সফরে গেলেই দেশ অশান্ত হয়ে ওঠে । সালাহউদ্দিন আহমেদের মতো স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী থাকতে এমন পরিস্থিতি তৈরি হবে কেন? প্রধানমন্ত্রী দেশের বাইরে থাকলেই কিছু নেতাকর্মী যেন নিজেদের দেশের... ...বাকিটুকু পড়ুন

৫ আগস্টের সেই ভিডিও, কিছু অমীমাংসিত প্রশ্ন এবং ইতিহাসের নির্মম পরিণতি

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ৩০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:৪৪


৫ আগস্টের সেই ভিডিও, কিছু অমীমাংসিত প্রশ্ন এবং ইতিহাসের নির্মম পরিণতি

ক্ষমতার পালাবদল হয়, কিন্তু ইতিহাসের কাঠগড়া কখনো খালি থাকে না
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক নাটকীয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তখন

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ৩০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৬

তখন
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

তখন আলিফ লায়লা হতো
দেখতাম বিটিভিতে বাংলা মুভি
মিনা কাটুন, হারকিউলিস, রবিন হুড
নাটক, ইত্যাদি, বেশ আনন্দ পেতাম।
খেলাধুলা করতাম বন্ধুদের সাথে
বিবিধ রকম, সবসময় থাকতাম প্রাণবন্ত!
যে বাড়িতে ভাড়া থাকতাম তাদের
একটি সাদা-কালো টিভি... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওকে নিয়ে চীনের আবেগ, শেখ মুজিবকে নিয়ে আমাদের বিদ্বেষ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ৩০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২২


ফরাসি ফুটবলার কিলিয়ান এমবাপ্পেকে সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, তাঁকে নিয়ে কোন মিমটি দেখে সবচেয়ে বেশি হাসি পেয়েছিল। ফরাসি অনুষ্ঠান The Bridge এর ব্যাকস্টেজ ভিডিওতে তিনি বলেন, একটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

ছোটগল্প - চক্ষুহীন লোকটি

লিখেছেন ফাহমিদা বারী, ৩০ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৩৩




মি পারসনস যখন হোটেল থেকে বের হলেন, ভিক্ষুকটি তখন রাস্তায় এসে দাঁড়িয়েছে।

সে ছিল একজন অন্ধ ভিক্ষুক। অন্ধদের চিরাচরিত সাদা ছড়ি ছিল তার হাতে। সেটা দিয়ে সামনের পথটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×