সূত্র সমকাল ডেস্ট্ক
81 বছর পর জাদুকর হ্যারি হুডিনির মৃতু্যরহস্যের কিনারার উদ্যোগ নিয়েছেন তার ভাতিজা জর্জ। বিশ্বের অন্যতম সেরা জাদুকর হুডিনি জেলখানার শিকল ভেঙে, তালা খুলে বেরিয়ে আসতেন অবলীলায়; কখনো পানিভরা ট্রাক থেকে, কখনো নদীর তলায় বল্পব্দ সিন্দুক থেকেও বেরিয়ে আসতেন। মৃতু্যকে তিনি বারবার ধোঁকা দিয়েছিলেন। কিন্তু 1926 সালে 52 বছর বয়সে হঠাৎই মারা যান হুডিনি। মানুষ মন্পমুগ্গব্দ ছিল এই হাঙ্গেরীয় জাদুকরের ইন্দ্রজালে। কিং অব কার্ডস, দ্য হ্যান্ডকাফ কিং, মাসদ্বার অব মিসদ্ব্রিজ_ নানা নামে ডাকা হতো তাকে। ইন্টারনেট।
1926 সালের 24 অক্টোবর মিশিগানের গ্যারিক থিয়েটারের ম্যাজিক শো-ই ছিল হুডিনির শেষ অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানের পর তিনি চেয়ারে বিশ্রাম নিচ্ছিলেন। ওই সময় ম্যাকগিল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র জে গর্ডন হোয়াইটহেড আচমকা বেশকিছু ঘুষি মারেন তার পেটে। তার উদ্দেশ্য ছিল, বিশ্বখ্যাত জাদুকর ওই ঘুষি সামলাতে পারেন কি না তা দেখা। প্রত্যক্ষদর্শী দুই ছাত্র জ্যাক প্রাইস ও স্যান স্ট্মাইলি জানান, এরপরই হুডিনি কেমন হয়ে যান। পরের দিন তাকে গ্রেস হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু অ্যাপেনডিক্স ফেটে পেরিটোনাইটিস হয়ে 31 অক্টোবর মারা যান বিশ্বখ্যাত এ জাদুকর। তবে শুধু আঘাতের জন্য এ মৃতু্য, নাকি অন্য কিছু তা জানা যায়নি। অনেকের ধারণা, হুডিনির খাবারে আর্সেনিক জাতীয় বিষ মিশিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এর ফলেই মৃতু্য হয় তার। এ জন্য 'সঙ্িরিচুয়ালিসদ্বস' নামে একটি বিশেষ দলের সদস্যদের দায়ী করা হয়। এ গোষ্ঠীর মধ্যে ছিলেন শার্লক হোমসের রচয়িতা স্যার আর্থার কোনান ডয়েলও। তাদের সঙ্গে হুডিনির সমঙ্র্ক কোনোমতেই ভালো ছিল না।
চাচার মৃতু্য নিয়ে এ ধোঁয়াশা কাটাতে উঠেপড়ে লেগেছেন জর্জ হার্ডিন। জর্জ বলেছেন, 'হ্যারি হুডিনি পৃথিবীর সর্বকালের সেরা জাদুকর। তিনি কেন মারা গিয়েছিলেন তা সবাই জানতে চান। তার অসংখ্য ভক্ত তো বটেই, আমিও চাই।' এ জন্য আইনি লড়াইও শুরু করেছেন জর্জ। রহস্য উদ্ঘাটনের জন্য কবর থেকে হুডিনির দেহাবশেষ তোলা হবে। এতে সহযোগিতা করছেন আমেরিকার বিখ্যাত আইনজীবী জোসেফ ট্যাকোপিনা।
বিখ্যাত ফরেন্সিক প্যাথোলজিসদ্ব মাইকেল র্যাডেন হুডিনির মৃতু্যরহস্য সমাধানে নিযুক্ত। তিনি বলেছেন, 'শুধু কয়েকটি ঘুষি হুডিনির অ্যাপেনডিক্স ফাটিয়ে দিতে পারে না। খাদ্যে বিষের প্রয়োগ হয়েছিল কি না তা জানা দরকার। কারণ বিষ ছাড়া অত তাড়াতাড়ি পেরিটোনাইটিস হয় না।'
ডেথ রিপোর্টের অসঙ্গতি নিয়েও প্রশম্ন তুলেছেন হুডিনির জীবনী লেখক উইলিয়াম কালুশ ও ল্যারি স্ট্নোমান। তারাই জানিয়েছিলেন, স্ট্কটল্যান্ড ইয়ার্ড বা মার্কিন সিত্রেক্রট সার্ভিসের হয়ে গুপ্টস্নচরবৃত্তিতে যুক্ত ছিলেন হুডিনি।
সবচেয়ে বড় কথা, সঙ্িরিচুয়ালিসদ্ব লি রয় ত্রক্র্যান্ডনের বংশধর আনা থার্লো বলেছেন, 'যে-ই দোষী হোক, রহস্য উদ্ঘাটন হওয়া বাঞ্ছনীয়। বিশ্ববাসীর সত্যটিই জানা উচিত।'
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




