somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমাদের প্রিয় 'দুর্নীতি'...............

২৭ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৪ রাত ২:৪৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আপনার পাসপোর্ট হারিয়েছে। নকল তোলার জন্য থানায় করতে হবে জেনারেল ডায়েরী বা জিডি। যদিও নিয়ম কানুন অনুযায়ী কোন টাকা পয়সা লাগার কথা না, কিন্তু নিশ্চিত থাকুন; কমপক্ষে ১০০০টাকা আপনার খরচ হবেই। অফিসারদের খুশি করতে হবে না.......।
অথবা, নতুন জমি কিনেছেন। জমি রেজিস্ট্রি করতে গিয়ে যে সরকারী ফি নির্ধারিত রয়েছে, তার ২০০/৪০০ গুণ বেশি খরচ হয়ে যেতে পারে সরকারী অধিকর্তাদের ‘হাত সচল’ এর জন্য। এটা বাংলাদেশের সাধারণ চিত্র। ‘উপরি- উৎকোচ’ না দিয়ে কেউ কোন সরকারী কার্যালয়ে গিয়ে যদি কাজ করাতে পারেন, তাহলে নিজেকে ভাগ্যবান ভাবতেই পারেন তিনি। আবার ‘এক ডিগ্রি’ উপরে উঠে একটু ‘প্রভাবশালী’ মার্কা আচরণও করতে পারেন, তাতে দোষের কিছু হবে না।
তবে এমন ভাবার কোন কারণ নেই যে, এই চিত্র শুধুই বাংলাদেশের। অনুন্নত বা উন্নয়নশীল দেশগুলোর পাশাপাশি তথাকথিত ‘উন্নত বিশ্বের দেশ’ গুলোতেও এই ‘দুর্নীতি’ স্বরূপে বিকাশমান। তবে উন্নত বিশ্ব নিয়ে ভাবার মতো জ্ঞান বা ইচ্ছা আমার নেই।
‘আপনার দেশে দুর্নীতি বেড়েছে? না কমেছে?’ এমনই একটি প্রশ্ন নিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষের সামনে হাজির হয়েছিল জার্মানি ভিত্তিক দুর্নীতি সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক সংগঠন Transparency International (TI)।
‘Global Corruption Barometer 2013’ নামে প্রকাশিত সমীক্ষা পত্রে উপরোক্ত প্রশ্নের উত্তরে অধিকাংশ বাংলাদেশী দেশে দুর্নীতি বেড়েছে বলে মত দেন।
এই দুর্নীতি বাড়ন্তের তালিকায় বাংলাদেশের কয়েকটি প্রতিযোগী দেশ রয়েছে। যেমন- আফগানিস্তান, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ইরাক, মালদ্বীপ, নেপাল, পাকিস্তান।
আর কয়েকটি দেশের মানুষ মনে করছেন যে, তাদের দেশে দুর্নীতির পরিমাণ কমেছে। তবে তার সংখ্যা খুবই নগণ্য। দেশগুলো হলো- দক্ষিণ সুদান, তাইওয়ান, ফিলিপাইন, কম্বোডিয়া।
{Ref- ‘Global Corruption Barometer 2013’ , page- 7, TI Publication}
নিম্নে ২০১২ ও ২০১৩ সালে বাংলাদেশ ও তার এশিয়ার কিছু প্রতিযোগী দেশের স্কোর ও র‍্যাংকিং তুলে ধরার চেষ্টা করলাম---
Transparency International Perception Index 2012 অনুযায়ী বাংলাদেশ ও তার এশিয়ার কিছু প্রতিযোগী দেশের স্কোর ও র‍্যাংকিং নিম্নে দেয়া হল।
দেশের নাম-------- অবস্থান---------- স্কোর
বাংলাদেশ---------- ১৪৪তম-------------২৬
ভারত------------- ৯৪তম---------------৩৬
পাকিস্তান---------- ১৩৯তম-------------২৭
মায়ানমার --------- ১৭২তম-------------১৫
শ্রীলঙ্কা ------------ ৭৯তম--------------৪০
থাইল্যান্ড----------- ৮৮তম-------------৩৭
মালয়শিয়া---------- ৫৪তম--------------৪৯
ইন্দোনেশিয়া-------- ১১৮তম-------------৩২
ফিলিপাইন---------- ১০৫তম------------৩৪
নেপাল ------------- ১৩৯তম-----------২৭
{Ref- Transparency International Perception Index 2012, page- 5, TI Publication}
এক বছর পর Transparency International Perception Index 2013 অনুসারে দেশ গুলোর অবস্থান নিম্নরূপ—
দেশের নাম-------- অবস্থান---------- স্কোর
বাংলাদেশ---------- ১৩৬তম-------------২৭
ভারত------------- ৯৪তম---------------৩৬
পাকিস্তান---------- ১২৭তম--------------২৮
মায়ানমার --------- ১৫৭তম-------------২১
শ্রীলঙ্কা ------------ ৯১তম--------------৩৭
থাইল্যান্ড----------- ১০২তম-------------৩৫
মালয়শিয়া---------- ৫৩তম--------------৫০
ইন্দোনেশিয়া-------- ১১৪তম--------------৩২
ফিলিপাইন---------- ৯৪তম--------------৩৬
নেপাল ------------- ১১৬তম------------৩১
{Ref- Transparency International Perception Index 2013, page- 5, TI Publication}
আপাত দৃষ্টিতে এই রিপোর্ট দুটিতে বাংলাদেশ ২০১২ সালের তুলনায় এক পয়েন্ট বেশি পেয়েছে। এগিয়েছে ১৪৪ তম অবস্থান হতে ১৩৬তম অবস্থানে।
আমার তুলে ধরা ১০টি দেশের মধ্যে ৭টি দেশই কিন্তু দুর্নীতি নিরসনে বেশ অগ্রগতি দেখিয়েছে। সে হিসেবে বাংলাদেশের এক পয়েন্ট বেশি পাওয়াকে আর যাই হোক, প্রণিধানযোগ্য মনে করা যায় না।
আর দুর্নীতি নিরসনে আমাদের প্রতিবেশী দুটি দেশ মায়ান্মার ও নেপালের অগ্রগতি দেখলে, আপনার ইচ্ছা করবে বাংলাদেশের ‘দুর্নীতি দমন কমিশন’ অফিসে গিয়ে তালা মেরে দিতে।
দীর্ঘ সময় ধরে সামরিক জান্তার অনির্বাচিত ও জবাবদিহিতাহীন মূলক শাসন থাকার পর, তাদের প্রথম গণতান্ত্রিক সরকারের সময় কালে দুর্নীতি প্রতিরোধে তারা দৃষ্টান্তমূলক সফলতা দেখিয়েছে। ২০১২ সালে মায়ানমারের স্কোর ছিল মাত্র ১৫। এবং র‍্যাংকিং ছিল ১৭২। ২০১৩ সালে এই স্কোর বেড়ে হয় ২১। আর র‍্যাংকিং ১৫৭।
নেপাল দেশটি রাজতন্ত্র থেকে গণতন্ত্রের দিকে পা বাড়িয়েছে গত দশকে। নানা ধরনের রাজনৈতিক অস্থিরতা বিরাজ করছে সেখানে। ২০১২ সালে স্কোর ২৭ এবং র‍্যাংকিং ১৩৯ ছিল। ২০১৩ সালে সেই স্কোর বেড়ে দাঁড়ায় ৩১ এ। আর র‍্যাংকিং ১১৬। অভূতপূর্ব উন্নতি.......!
তাছাড়া জঙ্গি-সন্ত্রাসবাদ আর নানা অভ্যন্তরীণ সমস্যায় জর্জরিত পাকিস্তানও এই তাদের উন্নতি ধরে রেখেছে। আরও আছে মালয়শিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন।
তবে ভারত যেমন অবস্থার উন্নতি করতে পারে নি, তেমনি অবনতিও ঘটতে দেয়নি।
এখানে একটি মজার তথ্য তুলে ধরতে চাই। আমাদের দেশের দুর্নীতির জন্য আমরা সাধারণত দেশের রাজনৈতিক দলগুলোকেই দোষ দিয়ে থাকি। বা বিভিন্ন সমালোচনায় দুর্নীতির দায়টুকু রাজনৈতিক দলগুলোর উপর চাপিয়ে দেই।
TI থেকে প্রকাশিত Global Corruption Barometer 2013 এর ৮নং ফিগারে দেশভিত্তিক সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠান এর তালিকা দেয়া হয়েছে।
জনগণের মতামতের ভিত্তিতে তুলে ধরা এই সমীক্ষায় দেখা যায়- প্রতিষ্ঠান হিসেবে কোনটি সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত? এমন প্রশ্নের জবাবে অধিকাংশ বাংলাদেশী- ‘পুলিশ’ এর দিকে আঙ্গুল তুলেছেন, রাজনৈতিক দল গুলোর উপর নয়।
{Ref- ‘Global Corruption Barometer 2013’ , page- 17, TI Publication}
তবে এমন মতামতের উপর তাত্ত্বিক আলোচনা বা বিতর্কের বেশ সুযোগ আছে বলে আমি বিশ্বাস করি।
নিম্নে ‘রাজনৈতিক দল’ ও ‘পুলিশ’ সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠান, এমন কিছু উল্লেখযোগ্য দেশের তালিকা তুলে ধরা হল।
রাজনৈতিক দল (৫১টি দেশে সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত)—
উল্লেখযোগ্য হল- কম্বোডিয়া, ভারত, নেপাল, সেনেগাল, তাইওয়ান, থাইল্যান্ড, তিউনেশিয়া, ইয়েমেন।
তবে কয়েকটি দেশ রয়েছে, যাদের আমরা ‘আইডল’ বলে মনে করি, তাদের অনুকরণ- অনুসরণ করার চেষ্টা করি, এমন কিছু পশ্চিমা বা সাদা চামড়ার দেশেও রাজনৈতিক দল গুলো সবচেয়ে বেশি দুর্নীতিগ্রস্ত। সেরকমই কিছু ‘উন্নত দেশ’ এর কথা তুলে ধরছি—
দেশের নাম-------- অবস্থান---------- স্কোর
বেলজিয়াম-----------১৫------------ ৭৫
কানাডা--------------৯------------- ৮১
সাইপ্রাস-------------৩১------------ ৬৩
ফিনল্যান্ড------------৩------------- ৮৯
ফ্রান্স-----------------২২----------- ৭১
জার্মানি--------------১২------------ ৭৮
হাঙ্গেরি---------------৪৭----------- ৫৪
ইতালি---------------৬৯----------- ৪৩
জাপান--------------১৮------------ ৭৮
নিউজিল্যান্ড----------১------------- ৯১
নরওয়ে--------------৫------------- ৮৬
সুইজারল্যান্ড----------৭------------ ৮৫
ইংল্যান্ড--------------১৪------------ ৭৬
ইউ এস এ-----------১৯------------ ৭৩
অস্ট্রেলিয়া------------৯------------- ৮১
লুক্সেমবার্গ------------১১------------ ৮০
সাউথ কোরিয়া --------৪৬------------ ৫৫
{Ref- ‘Global Corruption Barometer 2013’ , page- 17, TI Publication}
উপরোক্ত সব গুলো দেশেরই জনগণ মনে করে – তাদের দেশের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠান হল ‘রাজনৈতিক দল’। তা যে মাত্রায়ই দুর্নীতি হোক না কেন।
‘পুলিশ’ (৩৬টি দেশে সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠান)
দেশগুলো হল- বাংলাদেশ, ইথিওপিয়া, মিশর, ঘানা, ইন্দোনেশিয়া, মালয়শিয়া, কেনিয়া, মেক্সিকো, মরক্কো, পাকিস্তান, ফিলিপাইন, দক্ষিণ আফ্রিকা, শ্রীলংকা, থাইল্যান্ড, ভেনিজুয়েলা, ভিয়েতনাম।
মজার ব্যাপার লক্ষ্য করুন- উন্নত বিশ্বের দেশ গুলোতে ‘রাজনৈতিক দল’ গুলো বেশি দুর্নীতিগ্রস্ত, আর অনুন্নত বা উন্নয়নশীল দেশগুলোতে ‘পুলিশ’ সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত।
মজার ব্যাপার............!
সবটুকু পড়ার পর যদি এদেশের দুর্নীতির অবস্থা নিয়ে আপনি সন্তুষ্ট থাকেন, তবে এই অংশটুকু পড়তে হবে না আপনাকে। আর যদি আপনি কিছুতা হতাশ হয়ে থাকেন, তাহলে বলবো- ‘হতাশ হবেন না’।
TI থেকে প্রকাশিত Global Corruption Barometer 2013 এর ১০নং ফিগারে দেখানো হয়েছে যে, বাংলাদেশের মানুষকে প্রশ্ন করা হয়েছিল- ‘আপনি কি মনে করেন- ব্যক্তি পর্যায়ে সচেতনতা দুর্নীতি কমাতে পারে?’
এমন প্রশ্নের উত্তরে ৮১% এরও বেশি মানুষ ‘হ্যাঁ’ সুচক উত্তর দেন। সুতরাং হতাশ হবেন না।
{Ref- ‘Global Corruption Barometer 2013’ , page- 21, TI Publication}
আমরাই পারি সবকিছু বদলাতে.................
জনগণই রাষ্ট্রক্ষমতার উৎস.................
লাল সালাম..................................
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমার মনের ঘোর গেলো না (উৎসর্গঃ প্রিয় ব্লগার ইমন জুবায়ের)

লিখেছেন চারাগাছ, ২৭ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩১




আমার মনের ঘোর গেলো না


উৎসর্গ

প্রিয় ব্লগার ইমন জুবায়েরের স্মৃতির প্রতি।

তিনি নেই। অনেক বছর হলো।

তবু তাঁর ব্লগে ঢুকলে মনে হয়, কোথাও যেন কিছুই থেমে নেই। লেখাগুলো আছে, শব্দগুলো... ...বাকিটুকু পড়ুন

জঙ্গল পরিষ্কার করে সাপ তাড়ানাে...

লিখেছেন অপলক , ২৭ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪১

নেট দুনিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে: পাকিস্তান এবং বাংলাদেশে বসবাসকারী স্থায়ী হিন্দু অধিবাসীরা চাইলে খুব সহজে তাদের নাগরিকত্ব দেবে ভারত। যদি এই খবরটা সত্য হয়, তবে বাংলাদেশের জন্য সেটা মারাত্মক ভয়ঙ্কর ঘটনা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিএনপি’কে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের দল বলার কোনো কারণ নাই!!

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:২৩



জাতীয় সন্মাননা কি কোনো গোপন বিষয় । একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা’কে গার্ড অফ অনার দিতে এত অনীহা কেনো বর্তমান সরকারের ‼️

আজ বারবার আমার গোআ’র কুপুত্রের একটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

সাড়ে হাজার বিজ্ঞানী এবং একটি স্ক্যামের গল্প

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:২৮


জুলাইয়ের কোটা আন্দোলনের পর বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সম্পর্কের উন্নতি হয়েছে। সেই সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের অংশ হিসেবে পাকিস্তান বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের জন্য ‘নলেজ করিডোর’-এর আওতায় আল্লামা ইকবাল বৃত্তি চালু করে। ২০২৫... ...বাকিটুকু পড়ুন

হাসিনা-বিভ্রাট: এটা ট্রল নয়, কূটনৈতিক সতর্কসংকেত

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:৫৮


হাসিনা-বিভ্রাট: এটা ট্রল নয়, কূটনৈতিক সতর্কসংকেত

জাপানের এক প্রভাবশালী সংসদ সদস্যের একটি পোস্ট নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে হাসাহাসি চলছে। আমার মনে হয়, হাসির আড়ালে আসল প্রশ্নটা চাপা পড়ে যাচ্ছে।

ঘটনাটা কী
প্রধানমন্ত্রী... ...বাকিটুকু পড়ুন

×