হুমায়ূন আহমেদের মৃত্যুতে শোকে মুহ্যমান দেশবাসী। তারা অপেক্ষা করছেন প্রিয় লেখককে শেষবারের মত দেখতে, শেষ বিদায় জানাতে। কিন্তু রিপোর্টটিং করতে গিয়ে জানলাম, হুমায়ূন আহমেদের মরদেহ নিয়ে শুক্রবারই রওনা হওয়া যেত। সেক্ষেত্রে রোববারই দেশবাসী সুযোগ পেতেন হুমায়ূন আহমেদকে শেষ শ্রদ্ধা জানানোর। কিন্তু তার স্ত্রী ও অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওন এয়ারলাইন্সের বিজনেস ক্লাস ছাড়া যাবেন না।
যদিও হুমায়ূন আহমেদের মরদেহ এবং স্ত্রী ও দুই পুত্রের দেশে ফেরার খরচ বহন করছে বাংলাদেশ সরকার। জাতিসংঘ বাংলাদেশ মিশন হন্যে হয়ে টিকিট খুঁজেছে গত দুদিন ধরে। কিন্তু কোথাও একসঙ্গে টিকেট পাওয়া যাচ্ছিল না। মরদেহ বহন করার ব্যবস্থা হলেও পরিবারের সদস্যদের একসঙ্গে টিকেট মেলেনা। অবশেষে এমিরেটস-এয়ারলাইন্সে শনিবার রাতের টিকেট মিলেছে। কিন্তু সমস্যা হয়েছে, এরমধ্যে চারটি বিজনেস ক্লাস এবং বাকিগুলো ইকোনমি। কিন্তু ইকোনমি ক্লাসে যাবেন না মেহেরআফরোজ শাওন।
চারটি বিজনেস ক্লাসের টিকেটে মা সংসদ সদস্য তহুরা আলী এবং দুই ছেলের ব্যবস্থা হয়। কিন্তু অন্যপ্রকাশের মাযহার আর শাওনেরেএক বোনকে তাহলে যেতে হবে ইকোনমি ক্লাসে।আর এখানেই যত আপত্তি শাওনের। তিনি বাংলাদেশ মিশনের কর্মকর্তাদের কাছে তার আপত্তির কথা জানিয়েছেন। এখন এ বিষয়টি শাওনকে বোঝানো হচ্ছে। শাওন রাজি না হলে সোমবারও পৌঁছবে না হুমায়ূন আহমেদের মরদেহ।
এ বিষয়টি নিয়ে এই মুহূর্তে লিখতে চাচ্ছি না। কারণ কোটি কোটি হুমায়ূন ভক্ত শোকাহত। তাদের মনে এই মুহূর্তে কোনো প্রশ্নের উদ্রেগ হোক তা চাই না বলেই রিপোর্ট না লেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তবে একটি প্রশ্ন থেকেই যায়, অর্থ সাশ্রয়ের জন্য যদি বিশেষায়িত ক্যান্সার হাসপাতাল ছেড়ে যদি সাধারণ হাসপাতালে হুমায়ূন আহমেদের অপারেশন হয় তাহলে এখন বিজনেস ক্লাসের অজুহাতে কেন হুমায়ূন আহমেদের লাশ তার কোটি কোটি ভক্তদের কাছে পাঠানো হচ্ছে না। কেন মার্কিন মুল্লুকের শবাগারে পড়ে আছে এই প্রিয় লেখকের মরদেহ?
এখানে টাকার প্রশ্ন আসবে কেন? স্লোয়ন কেটারিং হাসপাতাল তো কারো কাছে টাকা চায়নি। টাকা পরে না হয় দিতে হতো। পুরো দেশবাসী কিন্তু পাশে ছিল। যুক্তরাষ্ট্রপ্র বাসী সকল বাংলাদেশী হুমায়ূন আহমেদের পাশে ছিল। কিন্তু কাউকেউ তো কোনো সুযোগ দেননি হুমায়ূন আহমেদের স্ত্রী শাওন এবং কথিত পারিবারিক বন্ধু মাযহার। আপনি দুর থেকে উপলব্ধি করতে পারছেন না বলেই আপনার এমনটি মনে হচ্ছে। জ্যামাইকা হাসপাতালে কিন্তু বলেই দিয়েছিল তার অপারেশনে ত্রুটি আছে। এরপরই তো আবার অপারেশন হল।
আরো শুনবেন? প্রথম অপারেশনের পর বাসায় চেয়ার থেকে পড়ে গিয়েছিলেন হুমায়ূন আহমেদ। শাওন এ কথাটি ডাক্তারের কাছে গোপন করেছিলেন। চেয়ার থেকে পড়ে যাওয়ায় তার অপারেশনের সেলাই কেটে গিয়েছিল। এসব কিন্তু নিউজে এসেছে। আপনি পুরনো নিউজগুলো পড়ুন। একটি কথা মনে রাখবেন, ডাক্তার আর উকিলের কাছে কোনো কথা গোপন রাখতে নেই।
কেন তাকে বিশ্বখ্যাক স্লোয়ন কেটারিং সেন্টার হাসপাতাল থেকে বেলভ্যু হাসপাতালে নিয়ে অপারেশন করা হল সেই প্রশ্নের খোঁজার চেষ্টা করছি। এমনও উত্তর পেয়েছি যে অর্থ সাশ্রয়ের জন্য এ সিদ্ধান্ত নিয়েছিলে তার পরিবার, অর্থাৎ মেহের আফরোজ শাওন এবং বন্ধু মাযহার। অথচ আমরা সবাই জানি, এই মার্কিন মুল্লুকে যে কোনো হাসপাতালে সবার আগে রোগীর চিকিৎসা। বিল নিয়ে হাসপাতাল কখনো মাথা ঘামায় না।
হুমায়ূন আহমেদের বিল তার যত সম্পদ তা থেকে পরিশোধ করা যেত। না পারলে দেশবাসী অবশ্যই দিতেন। এমনকি বিল মওকুফ করারও সুযোগ আছে এখানে। যত হাজার ডলার বিল হোক না কেন। আগে তো প্রিয় লেখককে বাঁচানো দরকার ছিল। এখন লেখক নেই, কিন্তু তিনিতো অঢেল সম্পদ রেখে গেছেন। কি হবে এই সম্পদ দিয়ে?
একটি বই বেরুলে কোটি টাকার ওপর রয়্যালটি পেতেন হুমায়ূন আহমেদ। শত শত বই লিখেছেন। নিজের টাকায় চিকিৎসা ব্যয় বহন করতে চেয়েছিলেন। ইত্তেফাকে আমার সহকর্মীযিনি একজন চিকিৎসকও। তিনি আজ লিখেছেন‘ইনফেকশনের জন্য দায়ী কে? আমি যদি আজপ্রশ্ন করি ক্যান্সার হাসপাতাল রেখে কেন তাকে সাধারণ হাসপাতালে নেওয়া হল, এই উত্তর কে দেবেন? আজ হোক, কাল হোক এই প্রশ্ন সামনে আসবেই...আসবে।
-ইত্তেফাকের বিশেষ প্রতিনিধি ,
শহীদুল ইসলামের স্ট্যাটাস থেকে
হুমায়ুন স্যারের দাফন নিয়ে যে ঘটনা গুলো ঘটছে তা সবার জানা দরকার। আশা করব আপনারা সবাই একটা মিথ্যা আবেগকে পাত্তা না দিয়ে সত্যটা জানবেন। আমি যা বলব তা একান্তই হুমায়ুন আহ্মদে স্যারের একদম কাছের একজন মানুষের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য। প্রথম কথা হলো আপনারা সবাই শাওনের বর্তমান অবস্থ্যাকে দেখছেন... অথচ আপনারা এটা জানেন না হুমায়ুন স্যারের মায়ের অবস্থ্যাই সবচেয়ে খারাপ। উনি তার ছেলের শোকে অভিনয় করেননি...তাই হুইল চেয়ারে চড়ে ছেলেকে দেখতে আসার দরকার মনে করেননি।
আপনাদের এটাও জানা প্রয়োজন, শুধুমাত্র বিজনেস ক্লাসে চড়ে আসতে পারবেন না বলে শাওন এবং তার পরিবার একদিন অপেক্ষা করেছে... অথচ জাফর ইকবাল স্যার এবং তার স্ত্রী একদিন আগেই দেশে এসেছেন। এখানে একটা জিনিষ বুঝতে হবে জাফর ইকবাল স্যারও সরকারের দেয়া সুবিধাকে কাজে লাগাতে পারতেন.. তিনি তা নেননি। হুমায়ুন স্যার কোন জায়গাতেই লেখে জাননি তাকে নুহাশ পল্লীতে কবর দেয়া হোক...বরং প্রথম আলোতে তিনি পরিস্কার বলে গেছেন নুহাশ পল্লীকে যেন মাজার বা কবর স্থানে পরিণত না করা হয়।
হুমায়ুন স্যারের অসুস্থ্য মায়ের দাবী তার ছেলেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বা বুদ্ধিজীবি কবরস্থানে দাফন করা হোক... যেন চাইলেই তিনি ছেলের কবর দেখতে যেতে পারেন... অথচ এটা সম্ভব হচ্ছেনা শাওনের ক্ষমতাশীল পরিবারের একান্ত ইচ্ছার কারনে। যেখানে এগেই দাফন হয়ে যাবার কথা ছিলো... সেখানে জোর করে বন্ধ করে লাশ বারডেমের হিমঘরে রাখা হয়েছিল। লাশের রঙ নীল হয়ে গেলেও... সেটার চাইতে এখানে ক্ষমতার জোরটাই বেশি।
জাফর ইকবাল স্যার, তার পরিবার, হুমায়ুন স্যারের মেয়ে নোভা, শীলা বা ছেলে নুহাশ...এই কথাগুলো মিডিয়াতে বলবেন না এটাই বাস্তবতা...তারাবাবা থাকতেও পায়নি। এমনকি শেষ সময়ে বাবার সাথে যোগাযোগের অন্যতম বাধা ছিলেন স্বয়ং শাওন। এটা কোন মনগড়া গল্প নয়... হুমায়ুন স্যারের সবচেয়ে প্রিয় মেয়ের কাছ থেকেই প্রাপ্ত তথ্য। আশা করব সস্তা আবেগ দিয়ে বিচার না করে এই পরিবারে পাশে দাড়াবেন... এবং জোরালো দাবী জানাবেন যেন হুমায়ুন স্যারের মায়ের ইচ্ছাটাই পুরন হয়...নাহলে খুব অন্যায় হয়ে যাবে এই পরিবারের সাথে।
এসব দেখে একটা গল্প মনে পড়ে গেল। একবার কাজীর কাছে এক ছোট বাচ্চা নিয়ে হাজির হলো দুই মহিলা। দুইজনেই দাবী করছে বাচ্চা তার, সেই আসল মা। কাজী পড়লেন বিপদে তিনি কিভাবে নির্ধারণ করবেন কে আসল মা। শেষে এক বুদ্ধি আটলেন। ডাকলেন জল্লাদকে। বললেন বাচ্চাটাকে দু'ভাগ করে দুই মহিলাকে দিয়ে দিতে। এই কথা শুনে এক মহিলা যুকরে কেঁদে উঠলেন। আর্তনাদ করে বললেন তার বাচ্চা লাগবে না। ঐ মহিলাই বাচ্চাটা নিক, তবুও বাচ্চাটা বেঁচে থাক। কাজী বুঝলেন এই হলো আসল মা।
লেখক হুমায়ূন আহমেদ এর দাফন নিয়ে যে বেহুদা নাটক হলো তার বর্তমান স্ত্রী শাওন আর আগের ঘরের সন্তানদের মাঝে এবং শেষ পর্যন্ত শাওনের ইচ্ছারই জয় হলো - আমরা বেহুদা পাবলিক কিন্তু বুঝতে পারলাম কে বা কারা তার আসল সুহৃদ।
নোভা, শিলা, বিপাশা আর নূহাস - জয় তোমাদেরই হয়েছে - অকৃত্রিম ভালবাসার জয়।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


