somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

অনিকেত বৈরাগী তূর্য্য
বাড়ির কাছে আরশিনগর সেথা পড়শি বসত করে, একঘর পড়শি বসত করে আমি একদিনও না দেখিলাম তারে।

ইতিহাস আশ্রয়ী ও শিক্ষামূলক গল্প (একের ভেতর ছয়)

২৩ শে জুলাই, ২০১৭ সকাল ১০:১০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

১২১৯ সালে চেঙ্গিস খান তৎকালীন পারস্যের (ইরান) শাসকের কাছে তিন জন রাষ্ট্রদূত পাঠিয়েছিলেন শান্তি আলোচনার জন্য, যাদের একজন চাইনিজ এবং দুইজন মুসলিম ছিলেন। পার্সিয়ানরা তাদের মাথা কেটে শুধু দেহটা ঘোড়ার পিঠে বেঁধে চেঙ্গিস খানের কাছে ফেরত পাঠায়। চেঙ্গিস খান পারস্যের এক কোণা দিয়ে যুদ্ধ আর ধ্বংস শুরু করেন, ঠিক আরেক কোণায় গিয়ে ক্ষান্ত দেন। পুরো পারস্যতে কয়েক কোটি মানুষ নিহত হয়েছিলো শুধুমাত্র এই সামান্য ভুলটার জন্য। গোয়ার্তুমিও বলা চলে অবশ্য।
০২
ফরাসি সম্রাট নেপোলিয়ন ভেবেছিলেন তিনি শীত কালে রাশিয়া আক্রমণ করে পুরো রাশিয়া দখল করে নিতে পারবেন। পরবর্তীতে তিনি স্বীকার করেছিলেন এটা ছিল তাঁর জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ ভুল। অর্ধেক সৈন্য প্রচন্ড ঠান্ডায় মারা যায় আর বাকি অর্ধেক খাবারের অভাবে অভূক্ত থেকে প্রচন্ড খারাপ অবস্থায় ফ্রান্সে ফিরে আসে।
০৩
এক সহকর্মী আইনস্টাইনের কাছে একবার তাঁর টেলিফোন নম্বরটা চাইলেন। তখন আইনস্টাইন একটা টেলিফোন বই খুঁজে বের করলেন এবং সে বইতে তাঁর নম্বরটা খুঁজতে লাগলেন। তখন সহকর্মীটি বললেন,‘কী ব্যাপার, নিজের টেলিফোন নম্বরটাও মনে নেই আপনার?’ আইনস্টাইন বললেন, ‘না। তার দরকারই বা কী? যেটা আপনি বইতে পাবেন, সে তথ্যটা মুখস্থ করে মস্তিষ্ক খরচ করবেন কেন?’
০৪
ব্যাংক ডাকাতির সময় এক ডাকাত সবাইকে বললো, 'কেউ নড়াচড়া করবেন না, মাটিতে শুয়ে পড়ুন। ব্যাঙ্কের টাকা আপনার নয়, কিন্তু আপনার জীবন আপনার, যা বলছি তাই চুপচাপ মেনে নিন'। এটাকে বলে 'মাইন্ড চেঞ্জিং কনসেপ্ট'। সাধারণ চিন্তাকে বিপরীত দিকে ঠেলে দেয়া। হঠাৎ এক মহিলা টেবিলের উপর শুয়ে পড়লো। ডাকাত সর্দার বললো, 'এই যে ম্যাডাম, এখানে শুটিং হচ্ছে না; ডাকাতি হচ্ছে। আমার কথামতো মাটিতে শুয়ে পড়ুন, নইলে গুলি করে দেবো"। এটাকে বলে 'প্রফেশনালিজম'। যে জন্য ট্রেইন করা হয়েছে সেটাতে মনোযোগ দেয়া। ডাকাতির পর বাসায় ফিরে শিক্ষানবিশ ডাকাত বললো, 'বস, চলেন টাকাটা গুনে ফেলি। সর্দার বললো, 'আরে গাধা, এখানে অনেক টাকা; গুনতে সময় লাগবে। রাতের খবর দেখ; তাহলেই বুঝতে পারবি কয় টাকা চুরি হয়েছে'। এইটাকে বলে 'অভিজ্ঞতা'। বর্তমানে তাই শিক্ষাগত যোগ্যতার চেয়ে অভিজ্ঞতার মূল্য অনেক বেশি। ডাকাতরা চলে যাওয়ার পর ব্যাংক অফিসার ম্যানেজারকে বললো, 'পুলিশকে খবর দেই।' ম্যানেজার বললো, 'ওকে। যা টাকা আছে, সেখান থেকে আমরা আগে পঞ্চাশ লক্ষ টাকা সরিয়ে নেই। তারপর যে টাকা চুরি হয়েছে, সেটার সাথে এই টাকা যোগ করে পুলিশ রিপোর্ট করবো।' তারা দুজনে পঞ্চাশ লক্ষ টাকা সরিয়ে রাখলো। একে বলে 'স্রোতের সাথে তাল মেলানো'। প্রতিকূল অবস্থা নিজেদের অনুকূলে আনা। ম্যানেজার আফসোস করলো, 'ইশ! প্রতি মাসেই যদি ডাকাতি হতো!' এই অবস্থাকে বলে 'হতাশাকে আশায় রূপ দেয়া'। বাধ্যগত চাকুরীটাকে ব্যক্তিগত সুবিধাতে পরিণত করা। রাতে নিউজ হলো ব্যাংক থেকে এক কোটি টাকার ডাকাতি হয়েছে। দুই ডাকাত বারবার গুনেও দেখে মাত্র পঞ্চাশ লক্ষ টাকা তারা আনতে পেরেছে। একজন আরেকজনকে বললো, 'আমরা নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পঞ্চাশ লক্ষ টাকা ইনকাম করলাম, অথচ ম্যানেজার কোনো কিছু না করেই পঞ্চাশ লক্ষ টাকা রোজগার করে ফেললো। তাহলে তো ডাকাতি করার চেয়ে পড়াশোনা করাই ভালো।' এজন্যই বলে 'শিক্ষা/জ্ঞান স্বর্ণের চেয়েও দামী'। ম্যানেজার মুচকি হেসে মাথা নাড়লো। ডাকাতির কারণে তাদের যে লস ছিলো; সেটা রিকভার হয়ে গেছে। একেই বলে 'ঝোপ বুঝে কোপ মারা'। এখন প্রশ্ন হলো, 'বড় চোর কে বা কারা? শিক্ষিত লোকেরা নাকি অশিক্ষিত লোকেরা? যারা এক দেড় হাজার টাকা ছিনতাই করে তারা, নাকি যারা কলমের খোঁচায় কিংবা আইনের মারপ্যাঁচে এক দেড় হাজার কোটি টাকা মেরে দেয়? (বিদেশি গল্প অবলম্বনে- সংগৃহীত)
০৫
পর্ব_১
একদল ডাকাত ব্যাংকে ঢুকলো ডাকাতির
জন্য। উপস্থিত গ্রাহক আর কর্মচারীরা
বাধা দেবার চেষ্টা করলো।
ডাকাতেরা বললো, "ভাইসব, টাকা গেলে
সরকারের যাবে, আর প্রাণ গেলে যাবে আপনার। আপনারাই বুঝুন কোনটা বাঁচাবেন।" এই কথা শুনে সবাই বসে গেলো। ডাকাতরা নির্বিঘ্নে টাকা নিয়ে চলে গেলো!
শিক্ষণীয়ঃ মানুষের মাঝে স্বার্থ ভিত্তিক
বিভাজন সৃষ্টি কর। তাহলে তারা তোমার অন্যায় কাজ প্রতিরোধ করার সামর্থ্য হারিয়ে ফেলবে।
পর্ব_২
ডাকাতেরা তাদের নিয়ে আসা বস্তা ভর্তি করে যতদূর সম্ভব টাকা নিয়ে আস্তানায়
ফিরে গেলো । যে ডাকাতের MBA ডিগ্রি
ছিলো, সে বললো, "এবার আমাদের দরকার আমরা কতো টাকা লুট করলাম; তা গুনে দেখা।"
সবচেয়ে প্রবীণ ডাকাত বললো, "ধুর, এতো টাকা গুনতে তো অনেক কষ্ট হবে। একটু পরে টিভিতে বলবে কতো টাকা লুট হয়েছিলো। আমরা তখন জেনে যাবো।"
শিক্ষণীয়ঃ অনেক ক্ষেত্রেই কাগজে
ডিগ্রির চেয়ে অভিজ্ঞতার মূল্য বেশী।
পর্ব_৩
ঘটনা শুনে মন্ত্রী মহোদয় ব্যাংক
পরিদর্শনে গেলেন। তিনি বললেন,
"ডাকাতেরা শুধু কয়েক বস্তা টাকাই তো
মাত্র নিয়েছে। বেশিরভাগ টাকাই তো রয়েই গেছে, আর সেফ ডিপোজিট
বক্সগুলোও তো আছে। আসুন ভাইসব
আমরা ওগুলো নিজেদের মাঝে ভাগ করে নেই। কেউ বুঝতেও পারবে না।"
শিক্ষণীয়ঃ যে যতো উপরে, তাঁর চুরিও ততো বড়ো এবং তা ধরা ছোঁয়ার বাইরে।
পর্ব_৪
রাতে টিভিতে সংবাদ এলো, ব্যাংক থেকে ২০ কোটি টাকাসহ হাজার ভরি স্বর্ণালঙ্কার লুট। ডাকাতরা হাজারবার গুনেও তাদের বস্তায় ১কোটি টাকার উপর পেলো না। আর স্বর্ণালঙ্কার তো তারা নিতেই পারে নি। যাহোক, অবশেষে ডাকাত দল ধরা পড়লো। রিমান্ডে গিয়ে স্বীকারও করতে হলো তারাই সব ডাকাতি করেছে। সবার যাবজ্জীবন সাজাও
হয়ে গেলো।
শিক্ষণীয়ঃ চুরি ডাকাতি করার ইচ্ছা
থাকলে ভোটে দাঁড়িয়ে ক্ষমতায় গিয়ে
করাটাই বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত নির্ভুল পদ্ধতি।
০৬
একদিন এক ১৮/১৯ বছর বয়সের তরুণী গভীর রাতের বেলায় (আনুমানিক রাত ৩/৪ টার দিকে) ড্রিংকস করে হেলতে হেলতে তার গাড়ীতে গিয়ে বসলো। চাবি দিয়ে গাড়ি স্টার্ট দিয়ে এক্সেলারেটরে চাপ দিতেই গাড়িটা চলতে শুরু করলো! পথিমধ্যে চার-পাঁচজন পুলিশের টহল দল গাড়িটা থামাতে বললো। তরুণী গাড়ি থামাতেই একজন পুলিশ অফিসার এগিয়ে এসে বললো, "ম্যাম, আপনার লাইসেন্সটা, প্লিজ !" তরুণী লাইসেন্স বের করে পুলিশ অফিসারটির হাতে দিতেই তিনি পকেট থেকে তার চশমাটা বের করে পড়তে লাগলেন! পড়া শেষ করে বললেন, "ঠিক আছে, ম্যাম। আপনি যেতে পারেন।"








সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে জুলাই, ২০১৭ বিকাল ৪:১৯
৭টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাঁশি

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৫ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:০৪



হিম শীতল মাঘ মাসের রাত। ঘন কুয়াশার কারণে পাঁচ হাত সামনেও কিছু দেখা যায় না আর খালপাড়ের বাঁশঝাড়টা তো অনেক দূরে, বাতাস নেই তারপরও বিচিত্র কারণে বাঁশপাতার শব্দ শোনা যাচ্ছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

হুলো বেড়াল

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ১৫ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১:২৮


গ্রামের কাঁচা রাস্তা দিয়ে হাঁটছি। কোথাও মানুষের কোনো সাড়া-শব্দ নেই। মাঝেমধ্যে অবশ্য ঝিঁঝিঁ পোকা ডেকে যাচ্ছে। শব্দে কান ঝালাপালা। এত ঝিঁঝিঁ পোকা কোথা থেকে এলো?

দুটো জঙ্গল পেরিয়ে মূল সড়কে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের এই দিনে ১৯৭৫-এর শোকাবহ আগস্ট/ রক্তাক্ত দিবস॥

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১৫ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:১১



“আজ থেকে অনেকদিন পরে হয়ত কোন পিতা তার শিশুপুত্রকে বলবেন, জানো খোকা! আমাদের দেশে একজন মানুষ জন্ম নিয়েছিল যাঁর দৃঢ়তা ছিল, তেজ ছিল আর ছিল অসংখ্য দুর্বলতা। কিন্তু... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্য ঘাটতি : ভারসাম্যের লক্ষ্যে বাংলাদেশে উৎপাদন ও রপ্তানি কৌশল

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৫ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:০২


ভারত বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ ও নিকটতম বাণিজ্য অংশীদার। ভৌগোলিক নৈকট্য, দীর্ঘ সীমান্ত, পরিবহন সুবিধা এবং পরস্পর-নির্ভরশীল উৎপাদনব্যবস্থার কারণে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্কের গুরুত্ব অস্বীকার করার উপায় নেই। কিন্তু এই... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকাণ্ডের পর কারা মিষ্টি বিতরণ করেছিল?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৫ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ২:১৬


যদি কোনোদিন টাইম ট্রাভেল মেশিন আবিষ্কার হয়, পঁচাত্তরের ঘটনা নিজের চোখে দেখার চেষ্টা করতাম। সে সময় কিছু মানুষ মিষ্টি বিতরণ করেছিল বলে শোনা যায় । আমি তাদের কাছ থেকে মিষ্টি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×