ছোট্টবেলায় শুনতাম গান-বাজনা হারাম কিন্তু মানতে পারতাম না। সব বাধা সত্ত্বেও গান শুনতাম, ছবি দেখতাম। বুঝতে পারতাম না কেন পাপ হয়? এগুলোর মাধ্যমে কী ক্ষতি হয়? দোযখে যাব এই আশঙ্কাতে অবশ্য ভয় পেতাম খুব। তবুও গান শোনা বাদ দিতাম না। প্রাণের আকুতি কেউ কি কখনো অস্বীকার করতে পারে?
পয়লা বৈশাখ নিয়েও এরকম একটা কথা প্রচারিত হত; এখনো হচ্ছে। এটা নাকি হিন্দুদের উৎসব। হিন্দুদের উৎসব হলেই সমস্যাটা কী বোধগম্য হত না। আমি তো আমার হিন্দু বন্ধুদের কখনো আলাদা করে দেখি নি; তারা তো আমার মতই রক্তমাংসে গড়া মানুষ। তারাও আমার মত ভাত খায়, বিছানায় ঘুমায়। যদিও পরে জেনেছিলাম সম্রাট আকবর বৈশাখের সূচনা করেছিলেন রাজস্ব আদায়ের স্বার্থে; এর সাথে ধর্মের কোন সম্পর্ক নেই। ধর্মের সাথে সম্পর্ক থাকলেও সমস্যা কী ছিল? আমার কি জাত চলে যেত?
সমস্যাটা পেঁচার মুখোশ নিয়ে, মঙ্গল শোভাযাত্রা নিয়ে! বলা হচ্ছে, একটা জন্তুর কাছে কী নাকি চাওয়া হচ্ছে। আসলেই কি কিছু চাওয়া হচ্ছে? মানুষ উৎসবের সাজে সজ্জিত হয়ে নাচানাচি করছে, আনন্দ-উল্লাস করছে; এখানে ধর্মবিরোধী কী হচ্ছে আমার বোধে আসে না। যারা অহেতুক বিতর্ক তৈরি করছে, এদের উদ্দেশ্যটা আসলে কী? দেশ-জাতিকে বিভক্তির দিকে ঠেলে দেওয়া?
এসব কুচক্রীমহল সবসময়ই ছিল; এদের উদ্দেশ্য সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করা। দেশের মানুষ নিশ্চয়ই এদের অশুভ পাঁয়তারাকে রুখে দেবে।
সর্বশেষ এডিট : ০৮ ই জুন, ২০১৮ রাত ৯:৪৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




