একবার চিন্তা করুন, যাঁর বাবা-মা, ভাই, ভাইয়ের স্ত্রী, চাচা, ফুফা, ৭বছরের শিশু ভাই সহ পরিবারের প্রায় সবাইকে খুন করা হয়েছে। খুনীরা সবাই বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়ায় দেশে বিদেশে শহরে বন্দরে। রাষ্ট্র আইন করেছে সেই হত্যাকান্ডের বিচার করা যাবে না, খুনীদের কিছু বলা যাবে না। আর সেই খুনীদের হাতে তখন তাদের নির্বাচনী প্রতীক হিসাবে তুলে দেয়া হয়েছে ভয়ংকর মারণাস্ত্র 'কুড়াল'। সেই খুনীরা সারা দেশে কুড়াল নিয়ে ঘুরে বেড়ায়। যাকে তাকে ভয় দেখায়, হত্যা করে। আর্মি পুলিশ সবাই সেই খুনীদের পক্ষে। এই পরিস্থিতিতে একজন নারী, যার বয়স মাত্র ৩৪, রিফিউজি হিসাবে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, দেশে দেশে। যাকে দেশে ফিরতে দিতে চায় না শাসকগোষ্ঠি, ভয় দেখায় খুন হওয়ার। তবু সেই নারী স্বদেশের পথে পা বাড়ায়। স্বদেশ তার শ্মশানভূমি। তার চেয়েও আশ্চর্যের বিষয় ছিল শ্মশানের পোড়া হাড়গোড় থেকে লক্ষ লক্ষ মানুষ ছুটে আসে পুলিশের গোয়ান্দা তদারকী ভেদ করে, খুনীদের রক্ত চক্ষু উপেক্ষা করে। জড়ো হয় উন্মুক্ত আকাশের নীচে, আকাশ থেকে বৃষ্টি নামে। গর্জনে বর্জ্রপাতে বর্ষণে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকে লক্ষ লক্ষ মানুষ। বৃষ্টির ধারা মাথার চুল বেয়ে চোখের জলের সাথে মিশে বয়ে যায় বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, শীতলক্ষা হয়ে পদ্মা-মেঘনা-বঙ্গোপসাগরে। সৃষ্টি হতে থাকে ইতিহাসের নতুন অধ্যায়। এর পরের কাহিনী সবাই জানে। আমি সেই সমবেত জনতার মাঝে ছিলাম না, কিন্তু আমি বুঝতে চেষ্টা করছি মানুষের শক্তি। সমবেত সেই জনতা কারো রক্ত চাইতে আসে নি,
তারা এসেছিল তাদের ভালোবাসার কথা জানাতে, সমবেত সেই জনতা তার ক্ষুধার অন্ন চাইতে আসে নি, সমবেত শ্রমিক মজুরী-শূন্য উপবাসের বদলেও সেদিন কিছু চায় নি। পৃথিবীর শ্রেষ্ঠতম ভালোবাসা হলো জনতার ভালোবাসা!
সেই ভালোবাসা ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইলের। প্রতিটি শষ্যকণা ভালোবাসা;
সেই ভালোবাসা উঠে এসেছিল রেস কোর্সের ৭ই মার্চের জনসভা থেকে,
সেই ভালোবাসা উঠে এসেছিল মুক্তিযুদ্ধের অজানা কোন রণক্ষেত্র থেকে,
সেই ভালোবাসা উঠে এসেছিল ত্রিশলক্ষ শহীদের অতৃপ্ত অন্তর থেকে, সেই ভালোবাসা অগণিত নির্যাতিত মা-বোনের বিদীর্ণ হৃদয়ের ভালোবাসা! সমবেত জনতা তাদের ভালোবাসার কথা জানিয়ে ঘরে ফিরে গেছে ৩৬ বছর আগে। এখন সেই মেয়েটির বয়স ৭০। তারুণ্যের সঙ্কল্প, উত্তরাধিকারের সাহস আর দৃঢ়তা, অভিজ্ঞতা, প্রজ্ঞা আর নেতৃত্বের শক্তি দিয়ে সেই অশ্রুসজল ভালোবাসার কতটা সে ফিরিয়ে দিতে পেরেছে বা পারে নি তা বিচার করবে মহাকাল। কিন্ত এই বাঙলায় গণমানুষের এমন ভালবাসার উন্মাতাল প্রকাশ আর কখনোই দৃশ্যমান হবে না। শেখ হাসিনার সফলতা ব্যর্থতা নিয়ে লিখবে ইতিহাস, আমি নিজে আমজনতার একজন হিসাবে শুধু এতটুকু বলতে পারি, শেখ হাসিনার প্রতি গণমানুষের সেদিনের সেই ভালোবাসায় কোন সংশয়-সন্দেহ ছিল না, এখনো নেই! এটাও একটা ইতিহাস বটে, তবে তা কোথাও লেখা থাকবে না! এটা কোন আওয়ামী লীগারের কথা নয়, গণমানুষের কথা!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


