somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জীবনের প্রথম বিড়ি-সিগারেট খাওয়ার গল্প

২৮ শে ডিসেম্বর, ২০১৮ দুপুর ১:৪৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বিড়ি
কোন এক ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সময়ের কথা অথবা জাতীয় সংসদ নির্বাচনও হতে পারে। সময়টা ঠিক মনে করতে পারছি না। তখন বয়স কম, শুধু এদিক-সেদিক ছোটাছুটি করি। ছোটাছুটি বলতে গাছে উঠা, পুকুরে সাঁতার কাটা, খেলাধুলা এসব আর কী!

নির্বাচন উপলক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মিছিলে যাই। স্লোগান দেই। তারপর প্রার্থীদের বাড়িতে গিয়ে চানাচুর-মুড়ি খাই। বাজারে চায়ের স্টল ফ্রি করে দেওয়া। যে যত ইচ্ছে চা খেতে পারে। মিছিলে যাওয়ার আগে চা খেতে ভুলি না।

একদিন বাড়িতে একা বসে আছি। মামাত ভাইয়ের সাথে দিনের পরিকল্পনা শেয়ার করছি। এমন সময় কয়েকজন লোক এল পান-বিড়ি নিয়ে। বাড়িতে বড় কেউ না থাকায় তারা আমাদের কাছেই ওসব রেখে গেল। আর বলে গেল, অমুক মার্কায় ভোট দিতে বলো।

পাটকাঠিতে আগুন ধরিয়ে অনেক টেনেছি, কাগজ মুড়িয়ে চুরুট বানিয়েও কম টানি নি। হাতে বিড়ি পাওয়ার পর দুষ্টু বুদ্ধি চাপলো মাথায়। হেঁশেল থেকে দেয়াশলাই নিয়ে দূরের জঙ্গলে ছুটলাম। আমার সঙ্গী মামাত ভাই।

বাড়িতে বিড়ি টানতে দেখলে মার খাওয়ার সমূহ সম্ভাবনা। তাই এই লুকিয়ে টানার বুদ্ধি। বিড়ির প্যাকেট কয়েকটা। ওগুলো খুব সম্ভব আকিজ বিড়ি ছিল। গ্রামাঞ্চলে এ বিড়ির খুব চাহিদা ছিল তখন। এখন তো সিগারেট এর দাপটে বিড়ির বাজার কমে গেছে।

বিড়িতে অগ্নিসংযোগ করে টান দেওয়া শুরু করলাম, মামাত ভাইকেও দিলাম। ধুঁয়া ভেতরে ঢুকতেই খুল্লুর খুল্লুর কাশি শুরু হলো। এ তো মহা বিপদ! লোকজন যদি এসে দেখে ফেলে! পরিচিত কেউ দেখলে লঙ্কাকাণ্ড বেঁধে যাবে তো। জঙ্গলের আরও গভীরে প্রবেশ করলাম।

একটা-দুটো টানার পর ধীরেধীরে ধাতস্থ হলাম। মামাত ভাইকে নিয়ে মনে হয় এক প্যাকেট শেষ করেছিলাম। যদিও ইচ্ছে ছিল কয়েক প্যাকেট শেষ করবো, ইচ্ছেটা আর পূরণ হয় নি। প্যাকেটে তো অনেক বিড়ি থাকে। এত বিড়ি টানলে কাশির ঠেলায় গলা দিয়ে রক্ত এসে যেত। এমনিতেই চোখ লাল হয়ে গিয়েছিলো।

সিগারেট

স্কুলে বোর্ডিং খোলা হলো। পড়ালেখা করতে হয় রাত বারোটা-একটা পর্যন্ত। ঘিঞ্জিমারা পরিবেশ, এমন পরিবেশে এত পড়তে ভালো লাগে? একেবারে দমবন্ধ অবস্থা। যে কোন মুহূর্তে মরে যাবো এমন মনে হয়।

এর মধ্যে দশম শ্রেণির বড় ভাইয়েরা এক মহা পরিকল্পনা করলো। সবাই মিলে সিনেমা দেখতে যাবে। আমাদের ক্লাসের কয়েকজনকেও সাথে নিলো। যদিও আমরা ভয়ে ছিলাম স্যার জানতে পারলে পিঠের চামড়া থাকবে না আর বাড়িতে জানলে তো খবরই আছে।
আমাদের আশ্বস্ত করা হলো, দিন থাকতেই চলে আসা হবে। কেউ কিছু জানতেই পারবে না।

তখন অশ্লীল সিনেমার যুগ। যত্রতত্র অশ্লীল পোস্টার টানানো থাকত। হলের সামনে গিয়ে দেখি মারাত্মক রকমের পোস্টার। আমরা তো এতকিছু জানতাম না।
চলেই যেহেতু এসেছি, না দেখলে কেমনে হয়। সাহস করে দেখেই এলাম (রগরগে দৃশ্যগুলো দেখার সাহস হয় নি)। সিনেমার নাম ছিল "অ্যাকশন লেডি"।

আসতে আসতে সন্ধ্যে। আতঙ্ক আমাদের মনে! যদি স্যারের হাতে ধরা পড়ি! মার একটাও মাটিতে পড়বে না।
পা টিপে টিপে লুকিয়ে লুকিয়ে স্কুলে প্রবেশ করলাম। কপাল ভালো ছিল যে কেউ দেখে নি। পরেও কেউ জানতে পারে নি।

সন্ধ্যের পর পড়তে বসলাম। কিছুক্ষণ পড়ার পর দেখি মাথা ঘোরায়। সারাদিন ধকল তো কম গেল না, মাথা আর সহ্য করতে পারছে না। নিজেকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে চেষ্টা করলাম।
কিছুক্ষণ পর দেখি ঘুম পাচ্ছে। এই সাতটার সময়ই যদি ঘুম পায় বারোটা পর্যন্ত জাগবো কেমনে?
চা খাওয়া যেতে পারে। কিন্তু চা পাবো কোথায়? বাজার তো এখান থেকে প্রায় দশমিনিট এর পথ। সবাই একসাথে গেলে তো ধরা পড়ে যাবো। এমনিতে এক পাপ করে আতঙ্কে আছি।

ঠিক করলাম বাজার থেকে এক দৌড়ে সিগারেট কিনে আনতে হবে। এটা টানলে নাকি ঘুম চলে যায়। দৌড় প্রতিযোগীতায় বিজয়ী একজনকে এই বিশেষ দায়িত্ব দেওয়া হলো।

তখন সবে শেখ সিগারেট বাজারে এসেছে। দাম মাত্র এক টাকা করে। সেটাই আনা হলো। আমরা স্কুলের পেছনে গিয়ে একজন একজন করে টেনে আসবো- এটাই ঠিক হলো।

কেউই সিগারেট টানায় অভ্যস্ত নয়। একটা গোলমাল শুরু হলো। কাশতে কাশতে গলা ব্যথা শুরু হয়ে গেল। ঘটনা কী দেখতে স্যার লাঠিসমেত উপস্থিত। বাকিটা ইতিহাস।
সর্বশেষ এডিট : ২৮ শে ডিসেম্বর, ২০১৮ বিকাল ৩:০৬
৭টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অন্ধের হাতি দেখা ও আধুনিক ব্লগারির এক করুণ রম্যকাব্য

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৪ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১:২১


মানুষের জ্ঞানচর্চার ইতিহাসে একটি প্রাচীন উপকথা যুগে যুগে নতুন অর্থে ফিরে এসেছে অন্ধের হাতি দেখা। কয়েকজন অন্ধ মানুষ হাতির ভিন্ন ভিন্ন অঙ্গ স্পর্শ করে প্রত্যেকে নিজেকে সত্যের একমাত্র অধিকারী... ...বাকিটুকু পড়ুন

চাঁদগাজীর বয়ানে সত্যিকারের দেশপ্রেমিক!

লিখেছেন মাথা পাগলা, ১৪ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ২:৩৭



গাজী সাহেব বলেছেন, এই ছবির একদম পেছনে যাকে দেখছেন, তিনি ৭১-এর যুদ্ধে শহীদ হয়েছেন। একই পরিবারের আত্নীয়সহ আরও পাঁচজন ৭১-এর যুদ্ধে শহীদ হয়েছেন। পরিবারের যিনি কোনোভাবে বেঁচে আছেন, তাঁর... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিশুতোষ কবিতাঃ মিষ্টি খাবো

লিখেছেন ইসিয়াক, ১৪ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ৭:৩৬




"মিষ্টি খাবো, মণ্ডা খাবো"—
বায়না ধরলো খোকা।
"চেঁচাস নে আর, বড্ড জ্বালাস,
তোর যে দাঁতে পোকা!"

খোকা বলে, "কোথায় পোকা?
দেখি না তো চোখে!
মাঝে মাঝে ব্যথা তবে
ওঠে থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসুন দেখে আসি, রাজাকার, লালবদর,ছাত্রদল ও শিবিরের উত্তরাধিকারীরা পাকিস্তানে কেমন আছে‼️

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১৪ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ৮:০১



কেমন আছে পাকিস্তানে বসবাসরত ৪০ লক্ষ বাঙালী?

১৯৭২ সালে ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু রেসকোর্স ময়দানে দাড়িয়ে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী বিচার করার হুঙ্কার দিলেন। পাকিস্তানে বসে তখন খুনি জুলফিকার আলী... ...বাকিটুকু পড়ুন

কি করে কি করি, কি যে করি !

লিখেছেন মেহবুবা, ১৪ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ৯:০৫




আজ বেশ ক'দিন হোল আমার ব্লগবাড়িতে জ্বীন ভূতের কারসাজি চলছে! আধা পৃষ্ঠা জুড়ে কয়েকটি পোষ্ট আসছে, সব আসছে না।নিজ ব্লগবাড়িতে কত কি আয়োজন থাকে ; যেমন মন্তব্য,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×