somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

অনিকেত বৈরাগী তূর্য্য
বাড়ির কাছে আরশিনগর সেথা পড়শি বসত করে, একঘর পড়শি বসত করে আমি একদিনও না দেখিলাম তারে।

ধনী-গরিবভেদে সমাদর?

১০ ই মে, ২০২২ রাত ১০:৪৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

একবার এক মামাত বোন এল আমাদের বাড়িতে। ওর চেহারা দেখে মনে হলো কোনো ঝামেলা হয়েছে।
তখন বিকেল। আমি বাইরে থেকে বাড়িতে এসেছি মাত্র। ভাত খেতে বসব। বোনকে বললাম, হাতমুখ ধোও। ভাত খাই।

সে হাতমুখ ধুয়ে আমার সাথে খেতে বসল। শুকনো হাসি হেসে বলল, এসেছি অনেকক্ষণ। খিদে পেয়েছে। তুমি বুঝতে পারলে অথচ নিজের রক্তের ফুফু বুঝতে পারল না।

জিগ্যেস করলাম, ঘটনা কী?
সে বিস্তারিত বলল। অন্য এক মামাত বোনের সাথে ঝামেলা হয়েছে। মামার সাথেও টাকা-পয়সা নিয়ে সমস্যা। ওর বর একটু সমস্যায় আছে। মামার কাছে কিছু টাকা ধার চেয়েছিল। টাকা থাকা সত্ত্বেও ওনি দেন নি।

বরের সঙ্গে অভিমান করে ওনি শ্বশুরবাড়ি যাবেন না। আমি বললাম, এক-দু’দিন থাকো। সব ঠিক হয়ে যাবে। তাকে বোঝানোর চেষ্টা করলাম যে বাপের বাড়ি অপেক্ষা শ্বশুরবাড়ি কত গুরুত্বপূর্ণ। তার ওপর তার বড়ো বড়ো দুজন ছেলে।
আমার কথায় মনপুত হলো তার। রাতে তার বড়ো ছেলে এলো। সে চলেও গেল।
.
ঝামেলায় ছিলাম। যোগাযোগ ছিল না কয়েকদিন। একদিন হঠাৎ ওর কথা মনে পড়ল। কিন্তু মোবাইল নাম্বার নেই যে কথা বলব।
সমবয়সী এক ভাতিজাকে সাথে নিয়ে কিছু উপহার নিয়ে তার বাড়ি গেলাম।
বাড়ি চিনি না। অনেক আগে গিয়েছিলাম। ভাতিজা অবশ্য বাড়ি চেনে। কিছুদিন আগে গিয়েছিলও। বোনজামাই এর সাথে ভাতিজার বাবা সৌদি ছিল অনেকদিন। সখ্য বেশ।

.
বোন তখন কাপড় সেলাই করছিল। আমাদের দেখে বসতে দিল। চানাচুর-মুড়ি মাখা খেতে দিল। কিছুক্ষণ পর বোনজামাই এলেন। তারপর অনেক আলাপ।
সন্ধ্যা নেমে এসেছে। বিদায় নিয়ে চলে আসছি। ভাতিজা বলল, কী ব্যাপার? তোমার বোন কিছু রেঁধে খাওয়াল না? কয়েকদিন আগে আমি যখন এলাম, রান্না করে খাইয়েছিল।

বললাম, হয়ত ব্যস্ত হয়ে পড়বে, তাই...
পরক্ষণে মনে হলো ভাতিজারা তো বড়োলোক। বোন কি তাহলে ধনী-গরিব ব্যবধান করল?
মনটা খারাপ হলো। এরপর আর কখনো ওই বোনের বাড়ি যাই নি।
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই মে, ২০২২ রাত ১০:৪৯
৭টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সব হারিয়েও বেঁচে থাকা: একজন রোকসানা রুমার নিঃসঙ্গ গল্প

লিখেছেন ওয়াদুদ সোহেল মোল্লা, ০৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫৬


জীবন আসলে বড় অদ্ভুত এক গোলকধাঁধা। আমরা ভাবি মেধা, ডিগ্রি আর সাফল্য দিয়ে পুরো জীবনটা সাজিয়ে ফেলা যাবে। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস মানুষকে কোথায় এনে দাঁড় করায়, তা কেউ জানে... ...বাকিটুকু পড়ুন

মিটারে টাকা ভরতে গিয়ে এ কি হলো আমার সাথে। না পড়লে চরম মিস।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ০৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:১২

বিদুৎ মিটার, দুই প্রকার। এক হচ্ছে প্রিপেইড আরেকটি পোস্ট পেইড। আমার কাছে পোস্ট পেইড ভালো লাগে। কারন এখানে বিলের কপি দিয়ে যায়। ও বিলের কপি নিয়ে ব্যাংকে গিয়ে জমা দিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

=নীলাম্বরী সেজে আছি=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:৩৮



এই এসো না কাছে এসো,
নীল শাড়ীতে নীলাম্বরী
ঠায় দাঁড়িয়ে অপেক্ষাতে
এসে ভাসাও প্রেমের তরী।

নীল সমুদ্দুর ডেকেছে আজ
তাই দাঁড়িয়ে আছি একা
এসো তুমি হাওয়ায় উড়ে
এসে করো একটু দেখা।

হাঁটতে ইচ্ছে বালিচরে,
তুমি আমার - পাশে হাঁটবে?
মনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মূল্যস্ফীতি বাড়লে বা কমলে আমরা টের পাই না কেন ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:৫১


গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের কারণে বাংলাদেশে এখন কয়টা ঋতু আছে তা কেউ বলতে পারে না। আমার মনে হয় গ্রীষ্ম আর বর্ষার একটা মিশ্র ঋতু আছে, আর আছে শীত। এই গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মুহাম্মদ আলি জিন্না

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:৩৫



১৮৭৬ সালে করাচিতে এক দুষ্ট বালকের জন্ম হয়।
এবং ৭৬ বছর বয়সে দীর্ঘদিন যক্ষা রোগে ভূগে- দেশ ভাগের পরের বছর মারা যান। এই দুষ্ট বালক'ই পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা। নাম তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×