
আজকে কত তারিখ? ১৫ আগস্ট। কার জানি জন্মদিন আজ? তাঁর দল ক্ষমতায় তাও বিশেষ কোনো পোস্ট দেখেছেন ফেসবুকে? তাঁর দলের লোকজনও কি সেভাবে পোস্ট দিয়েছে? এর আগেও আরো অনেক বড় বড় মানুষের জন্মদিন-মৃত্যুদিন গেছে। তেমন পোস্ট দেখেছেন কারও টাইমলাইনে? আমার চোখে তেমন পড়েনি।
আজকে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৫১তম মৃত্যুবার্ষিকী। এটা তার শত্রুরাও জানে। গালমন্দ করে হলেও তারা তাকে মনে রেখেছে। ১৬ বছর যে আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে কুক্ষিগত করে রেখেছিল, সেই বঙ্গবন্ধু এখন উন্মুক্ত। দালালেরা গর্তে, আসল মুজিবপ্রেমীরা তাঁকে শ্রদ্ধা জানাচ্ছে।
যদিও সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখা যাচ্ছে, জাতির পিতা বলতে ইব্রাহীম (আঃ)-কে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করছে। ৫ আগস্ট পরবর্তীতে একটা সেতুর নাম জাতির পিতা শেখ মুজিব থেকে জাতির পিতা ইব্রাহীম (আঃ) হয়ে গেছে। যিনি হয়তো জানতেনও না কয়েক হাজার বছর পর বাঙালি নামে কোনো জাতি হতে পারে। ওদের কে বোঝাবে ইব্রাহীম (আঃ) সমগ্র মুসলিম সম্প্রদায়ের পিতা, নির্দিষ্ট নৃতাত্তিক জনগোষ্ঠীর নন। পাকিস্তান, সৌদি আরব, তুরস্ক, ইন্দোনেশিয়ারও জাতির পিতা আছে, তাতে তাঁদের ধর্মে সমস্যা হয় না।

পাকিস্তান আমলে জাতির পিতা জিন্নাহ পর্যন্ত ঠিক ছিল, বর্তমানে সমস্যা আসলে শেখ মুজিবে। যেহেতু আমরা ঔপনিবেশিক শাসনে ছিলাম অনেক বছর, আমাদের বিদেশি লাগবে, দেশি চলে না।
অবশ্য আরো কারণ আছে। সেসব দেশে স্বাধীনতাবিরোধীরা রাজনীতি করার সুযোগ পায় না, বাংলাদেশে পায়। এদেশে দুয়েকজন মুক্তিযোদ্ধাকে রাজাকাররা খুব পছন্দ করে। কয়েকজনকে নিজেদের দলেও ভাগিয়ে নিয়েছে।
গত বছর বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন, মৃত্যুদিনে অনেকে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন, এবারও জানাচ্ছেন। যারা জানাচ্ছেন, এমন অনেককে দেখেছি আওয়ামীবিরোধী। আওয়ামী লীগের এই খারাপ সময়ে তাদের আওয়ামী প্রীতি অবাক লাগে।
মিডিয়ার লোকজন শ্রদ্ধা জানানোর পর অনেকে তাদের কালচারাল ফ্যাসিস্ট বলেছে। মানে কাকে শ্রদ্ধা জানাবে, তারা তা ঠিক করে দেবে। এরাই আবার গণতন্ত্র-বাক-স্বাধীনতার সবক দেয়। আবার বলে, শেখের মৃত্যুতে মানুষ উল্লাস করেছে। কিন্তু তারা দেখছে না কীভাবে বাধা দেওয়া হচ্ছে। দুয়েকজনকে সবাই মিলে পিটিয়ে বীরত্ব দেখাচ্ছে।
শেখের ৭২-৭৫ শাসনামল নিয়ে অনেক কথা হয়। গোছানো দেশে হামে ৮০০ শিশু মারা গেলেও সরকারপ্রধানের কোনো দোষ হয় না, গ্যাস-বিদ্যুৎ না থাকলেও সরকারপ্রধানের দোষ হয় না, বাসা ভাড়া না দিতে পেরে মহিলার চুল কাটলেও সরকারপ্রধানের দোষ হয় না। কিন্তু স্বাধীনতাপরবর্তী যুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশে দুর্ভিক্ষ নামলেও দোষ শেখের। তাঁর সম্পর্কে এত বদনাম করার পরও দেখা যাচ্ছে, কাজের কাজ হচ্ছে না।
যাক, কথা সেটা না, যার যেটা মূল্যায়ন তাকে তা করতেই হবে। গালমন্দ করে তাকে পেছানোর সুযোগ নেই। তাতে আরো জীবন্তু হয়ে উঠে। ধানমন্ডি-৩২ ভাঙা হলো। মুজিব কি অপ্রাসঙ্গিক হয়ে গেছে? সেখানে বাধা দিয়েও তাকে ভুলিয়ে দেওয়া যাবে না। বরং রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় কারো কাল্ট তৈরির চেষ্টা করলেও ইতিহাস থেকে মুছে যেতে দুদিন লাগে না।
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ২:৩৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




