somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নারী দিবসের মাসে একটি শহুরে গল্প!!

২৯ শে মার্চ, ২০০৭ সকাল ৯:৩৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

রাত আটটার পর রাস্তা ঘাট ক্যামন যেন ফাঁকা ফাঁকা হয়ে যায়। এখন রাত পৌনে দশটা। আমি ফাইমের অফিস থেকে কাজ সেরে উঠলাম মাত্র। সারাদিন কিছু খাইনি এবং আমাকে প্রয়োজনীয় একটা কাজ সারতে আবার অফিসে যেতে হবে। ফাইমদের লিফট এ্যাকটিভ দেখে ভাগ্যটাকে সুপ্রসন্ন মনে হলো। নেমে এলাম লিফট বেয়ে। কিন্তু ভাগ্য আর সুপ্রসন্ন থাকলোনা। রাস্তা একদম ফাঁকা। আমার দরকার রিক্সা। কিন্তু কোথায় রিক্সা? একটু দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে রিক্সা খোঁজার ভান করলাম। ভান করলাম মানে, রিক্সা খোঁজার জন্য এগুতে ভয় পাচ্ছি। যদি কুকুর তাড়া করে!! আসলে কুকুরকে আমি ইদানীং ভয় পাচ্ছি। একদিন খুব সাধারণ ও চেনা পথ ধরেই হেঁটে বাড়ি ফিরছি। আবার একা হাঁটতে হাঁটতে গুনগুন করে গান গাওয়া আমার একটা সুঅভ্যাস।
হঠাৎ একটা কুকুর, কুৎসিত ও নোংরা, ভয়ংকর ভাবে আমার পথ আগলে দাঁড়ালো। থেমে গেলো আমার চলতি পথের গুনগুনানি। ঘেউ..ঘেউ...., ঘেউ...ঘেউ....। আমি বিব্রত, ভীত ও অসহায়। আমার মাথায় শুধু প্রশ্ন আর প্রশ্ন, কোথা থেকে এলো এ কুকুর? কেন আমাকে তাড়া করতে চাইছে? এটা কি যৌথ বাহিনীর কুকুর? বা কোনো রাজনৈতিক পাতি কুকুর? বা........!!!! আমি হাফ ছেড়ে বাঁচলাম, হঠাৎ একলোক এসে কুকুটিকে তাড়িয়ে দিল। লোকটার হাতে লাঠি জাতীয় কিছু ছিলো। এবার লোকটি অবাক করলো, অদ্ভুত একটা প্রশ্ন ছুড়ে দিলো আমাকে।
- কি করছিলেন কুত্তার সাথে?
আমি নিজেও বুঝলাম না আমি আসলে কি করেছি। আমি বিব্রত ভাবটি মুখ থেকে সরিয়ে লোকটিতে প্রতুত্তরে বললাম, কিছু না।
লোকটি মনে হয় খুশি হতে পারেনি , কিন্তু মুচকি মুচকি হাসছে। লোকটি চলে গেলো, আমি ও গন্তব্যের দিকে এগুলাম । প্রতিদিনের চেনা পথের এই উদ্ভট ব্যাপারটা আমাকে কুকুর সমন্ধে নতুন করে ভাবতে শেখালো। আমি তারপর থেকে অযাই কুকুর দেখে ভয় পেতাম।
দূরে একটা রিক্সা দেখতে পেলাম। আমার দিকেই আসছে। আসুক। কিন্তু দূর্ভাগ্য! যাত্রী সহ রিক্সা। মনটা ভেঙ্গে গেলো। তখন ঘড়িতে দশটা। এই আভিজাতিক এলাকার খাবার দোকান গুলো আমি খুব বেশি চিনি না। তবে ফাহিম আমাকে বলছিলো কস্তুরীর কথা। মৃগনাভি। যদি কস্তুরী বন্ধ হয়ে যায়, আমার নাভির বারোটা!! রিক্সাটা আমাকে পাস করছে। এক ঝলক দেখে নিলাম, রিক্সার যাত্রী একজন মহিলা অথবা নারী অথবা তরুণী। কিন্তু আমাকে অবাক করে দিয়ে, যাত্রী সহ রিক্সাটি কিছুদূর গিয়ে থেমে গেলো। একটা বনেদী বাড়ির সামনে। আমি এগুলাম। যদি রিক্সাওয়ালাটাকে পাওয়া যায়!!
রিক্সার হুড নামলো। এবার কাছ থেকে দেখলাম । উনি মধ্য বয়স্কা একজন নারী। ফর্সা , লম্বা ও সুন্দরী। পরনে লাল রঙ্গের শাড়ি। জামদানি। রিক্সা ওয়ালাকে বলছিলো, হ্যা এ বাড়িই হবে।
আমি একটু দূরে সরে গিয়ে দাঁড়ালাম। উনি ভাড়া মিটিয়ে চলে গেলেন বনেদি বাড়িটির ভিতরে।

আমার রিক্সা যাচ্ছে। আমি প্রায় বয়স্ক রিক্সা চালকটিকে বললাম, আপনি যেকোনো খাবারের দোকানে আমাকে নিয়ে যান। আমি সকাল থেকে কিছু খাই নি। রিক্সা চালক সজোরে প্যাডাল ঘুরাতে শুরু করলো। যেন তিনি নিজেই ক্ষুধার্ত।

আমি তন্বী কে ফোন দিলাম। তখন মিটিং এ ও বার বার ফোন দিচ্ছিলো। ধরতে পারি নি।
-হ্যালো , কি রে কি হইছে?
-কোথায় তুই?
-অফিসে, না মানে, বাইরে, ক্ষুধা লেগেছে, খাবো।
-আচ্ছা খা, তোরা পুরুষ মানুষরা তো কেবল খাই খাই করিস।.....শোন........কাল টুম্পার বার্থ ডে, বিকেল পাঁচটায় বুমার্সে। ওকে?
- ও কে।
তন্বী হলো আমার সেই নারী বাদী বন্ধু যে কিনা প্রতি বছর মার্চ মাসের 8 তারিখে ফোন করবে এবং বলবে, সাবধানে থাকিস , আজকে কিন্তু ওমেনস ডে। রিক্সা ওয়ালার কথা শুনে সম্বিৎ ফিরে পেলাম।
- মোবাইল মানুষের খারাপও করে আবার ভালোও করে।
-কেন?, আমি জিজ্ঞেস করলাম।
- না.......... যে মহিলাডারে নামাইয়া আপনারে উঠাইলাম, মহিলাডা 2 নম্বর।
- মানে?
-মানে খারাপ?
- আপনে কি কইরা বুঝলেন?
- সে মোবাইলেই সব কইতাছিলো!!
-কি কইতাছিলো?
- 500 টাকা, পরে 300 টাকায় রাজি হইছে।
- এটা থেইকা খারাপ ভাইবা লইছেন?
-না আরো অনেক কথা কইছে........!!
আমি রিক্সাওয়ালার কথায় কান দিলাম না। কি বুঝতে কি বুঝেছে। আমার ক্ষুধা বাড়ছে, কস্তুরী কোথায়? পেটে খেলে সব কিছুই পিঠে সইবে। আমার কানে শুধু বাজতে থাকে বন্ধু তন্বীর কথা- তোরা শুধু খাই খাই করিস.................!! হায়রে পেট!!
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জাতীয় জন্মসনদে ভুলের ভূত আর সাভারের জালিয়াতি চক্র: সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কি কোনোদিন থামবে না?

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:০০



আজ ৬ অক্টোবর, জাতীয় জন্ম ও মৃত্যুনিবন্ধন দিবস। এবারের প্রতিপাদ্য ঠিক করা হয়েছে—‘নির্ভুল নিবন্ধন, নিশ্চিত হবে সুশাসন’। অথচ বাস্তবতা যেন এই স্লোগানের একদম উল্টো! সরকারি নথিতে যখন সাধারণ... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশভাগ, উদ্বাস্তু এবং রোহিঙ্গা

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৪২



দেশভাগের অনেক পরে আমার জন্ম।
আমি দেশভাগের ইতিহাস জানি। দেশভাগের পরে যা হয়েছে, অতি মন্দ সব ঘটনা ঘটেছে। লাখ লাখ মানুষ প্রাণ হারিয়েছে এবং হাজার হাজার নারী নির্যাতনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

টারজান থেকে আইনস্টাইন

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:১৭



১৯৪৭ সালের ডিসেম্বর মাস। হাড় কাঁপানো ঠান্ডা।
প্রচন্ড শীতে এক বালক রাস্তা দিয়ে একাএকা হাঁটছে। বালক জানে না- তার বাবা কে, মা কে? ক্ষুধা পেলে একটা খাবার দোকানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

এদেশে এখন শেখ হাসিনা প্রয়োজন- নাকি আমরা তাঁর সময়ের কিছু বাস্তবতাকে নতুন করে অনুভব করছি?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৬ ই অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫৭


এদেশে এখন শেখ হাসিনা প্রয়োজন- নাকি আমরা তাঁর সময়ের কিছু বাস্তবতাকে নতুন করে অনুভব করছি?

একটা সময় ছিল- শেখ হাসিনার নাম উচ্চারণ করলেই কারও চোখে ক্ষোভ, কারও মনে শ্রদ্ধা,... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তার দৃষ্টিতে - 'ব্লগার ওমর খাই-আম' বনাম 'ব্লগার সত্যপথিক শাইয়্যান'

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:৩২



চ্যাটজিপিটিকে আমার এবং ওমর খাই-আমের ব্লগপেইজের লিংক দিয়ে বলেছিলাম মূল্যায়ন করতে। সে আমাদের রেটিং দিয়েছে এরকম -
সত্যপথিক শাইয়্যানঃ 8.0/10, আর ব্লগার ওমর খাই-আমঃ 7.8/10!!!

বিস্তারিত মূল্যায়ন শেষে সে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×