হঠাৎ একটা কুকুর, কুৎসিত ও নোংরা, ভয়ংকর ভাবে আমার পথ আগলে দাঁড়ালো। থেমে গেলো আমার চলতি পথের গুনগুনানি। ঘেউ..ঘেউ...., ঘেউ...ঘেউ....। আমি বিব্রত, ভীত ও অসহায়। আমার মাথায় শুধু প্রশ্ন আর প্রশ্ন, কোথা থেকে এলো এ কুকুর? কেন আমাকে তাড়া করতে চাইছে? এটা কি যৌথ বাহিনীর কুকুর? বা কোনো রাজনৈতিক পাতি কুকুর? বা........!!!! আমি হাফ ছেড়ে বাঁচলাম, হঠাৎ একলোক এসে কুকুটিকে তাড়িয়ে দিল। লোকটার হাতে লাঠি জাতীয় কিছু ছিলো। এবার লোকটি অবাক করলো, অদ্ভুত একটা প্রশ্ন ছুড়ে দিলো আমাকে।
- কি করছিলেন কুত্তার সাথে?
আমি নিজেও বুঝলাম না আমি আসলে কি করেছি। আমি বিব্রত ভাবটি মুখ থেকে সরিয়ে লোকটিতে প্রতুত্তরে বললাম, কিছু না।
লোকটি মনে হয় খুশি হতে পারেনি , কিন্তু মুচকি মুচকি হাসছে। লোকটি চলে গেলো, আমি ও গন্তব্যের দিকে এগুলাম । প্রতিদিনের চেনা পথের এই উদ্ভট ব্যাপারটা আমাকে কুকুর সমন্ধে নতুন করে ভাবতে শেখালো। আমি তারপর থেকে অযাই কুকুর দেখে ভয় পেতাম।
দূরে একটা রিক্সা দেখতে পেলাম। আমার দিকেই আসছে। আসুক। কিন্তু দূর্ভাগ্য! যাত্রী সহ রিক্সা। মনটা ভেঙ্গে গেলো। তখন ঘড়িতে দশটা। এই আভিজাতিক এলাকার খাবার দোকান গুলো আমি খুব বেশি চিনি না। তবে ফাহিম আমাকে বলছিলো কস্তুরীর কথা। মৃগনাভি। যদি কস্তুরী বন্ধ হয়ে যায়, আমার নাভির বারোটা!! রিক্সাটা আমাকে পাস করছে। এক ঝলক দেখে নিলাম, রিক্সার যাত্রী একজন মহিলা অথবা নারী অথবা তরুণী। কিন্তু আমাকে অবাক করে দিয়ে, যাত্রী সহ রিক্সাটি কিছুদূর গিয়ে থেমে গেলো। একটা বনেদী বাড়ির সামনে। আমি এগুলাম। যদি রিক্সাওয়ালাটাকে পাওয়া যায়!!
রিক্সার হুড নামলো। এবার কাছ থেকে দেখলাম । উনি মধ্য বয়স্কা একজন নারী। ফর্সা , লম্বা ও সুন্দরী। পরনে লাল রঙ্গের শাড়ি। জামদানি। রিক্সা ওয়ালাকে বলছিলো, হ্যা এ বাড়িই হবে।
আমি একটু দূরে সরে গিয়ে দাঁড়ালাম। উনি ভাড়া মিটিয়ে চলে গেলেন বনেদি বাড়িটির ভিতরে।
আমার রিক্সা যাচ্ছে। আমি প্রায় বয়স্ক রিক্সা চালকটিকে বললাম, আপনি যেকোনো খাবারের দোকানে আমাকে নিয়ে যান। আমি সকাল থেকে কিছু খাই নি। রিক্সা চালক সজোরে প্যাডাল ঘুরাতে শুরু করলো। যেন তিনি নিজেই ক্ষুধার্ত।
আমি তন্বী কে ফোন দিলাম। তখন মিটিং এ ও বার বার ফোন দিচ্ছিলো। ধরতে পারি নি।
-হ্যালো , কি রে কি হইছে?
-কোথায় তুই?
-অফিসে, না মানে, বাইরে, ক্ষুধা লেগেছে, খাবো।
-আচ্ছা খা, তোরা পুরুষ মানুষরা তো কেবল খাই খাই করিস।.....শোন........কাল টুম্পার বার্থ ডে, বিকেল পাঁচটায় বুমার্সে। ওকে?
- ও কে।
তন্বী হলো আমার সেই নারী বাদী বন্ধু যে কিনা প্রতি বছর মার্চ মাসের 8 তারিখে ফোন করবে এবং বলবে, সাবধানে থাকিস , আজকে কিন্তু ওমেনস ডে। রিক্সা ওয়ালার কথা শুনে সম্বিৎ ফিরে পেলাম।
- মোবাইল মানুষের খারাপও করে আবার ভালোও করে।
-কেন?, আমি জিজ্ঞেস করলাম।
- না.......... যে মহিলাডারে নামাইয়া আপনারে উঠাইলাম, মহিলাডা 2 নম্বর।
- মানে?
-মানে খারাপ?
- আপনে কি কইরা বুঝলেন?
- সে মোবাইলেই সব কইতাছিলো!!
-কি কইতাছিলো?
- 500 টাকা, পরে 300 টাকায় রাজি হইছে।
- এটা থেইকা খারাপ ভাইবা লইছেন?
-না আরো অনেক কথা কইছে........!!
আমি রিক্সাওয়ালার কথায় কান দিলাম না। কি বুঝতে কি বুঝেছে। আমার ক্ষুধা বাড়ছে, কস্তুরী কোথায়? পেটে খেলে সব কিছুই পিঠে সইবে। আমার কানে শুধু বাজতে থাকে বন্ধু তন্বীর কথা- তোরা শুধু খাই খাই করিস.................!! হায়রে পেট!!
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



