'শ্রী আপনাকে একটা স্কেচ করতে হবে।প্লিজ একটু করে দিন না।'
মিনটি এমন ভাবে বলে যে শ্রী ভ্যাবাচ্যাকা খায়। মিনটি কি করে জানলো যে শ্রী স্কেচ করে। শ্রী নিজের ওপর বেশ বিরক্ত হয়। কখন যে কাকে সে দেখায়, কি বলে কিচ্ছু খেয়াল থাকে না। এখনই এ অবস্থা, বয়স হলে কি হবে!
বয়সতো একদিন হবেই। চুলে পাক ধরবে, মুখের চাপ দাড়িতে পাক ধরবে। চামড়ায় ভাজ পড়বে। কি করে আড়াল করবে এসব? ফেয়ার এন্ড হ্যান্ডসাম মেখে? শ্রী মিনটি কে জিজ্ঞেস করে-
- কি স্কেচ?
- একটা ছেলে মেয়ে ক্যাফেতে মুখোমুখি বসে কফি খাচ্ছে?
- বয়স?
- ছেলে ২৫ , মেয়ে ২০!
- ওরা কি প্রেমিক প্রমিকা?
- হ্যাঁ হতে পারে!
- কিসের স্কেচ এটা?
- হার্টবিট লেমন জুসের!
- আমিতো স্কেচ করিনা। কেন নিখিল আসে নি?
- নিখিল ভাইতো ছুটিতে। আপনিতো সুন্দর স্কেচ করেন, প্লিজ দেন না একটু!
- আমি পারবো না, আমার হাতে নিজস্ব কিছু কাজ আছে এগুলো সেরে তারপর যদি সময় হয়...
- থাক, আপনার আর সময় হয়েছে?
- তুমি কিন্তু করতে পারো, এটা এমন কোনো আহামরি স্কেচ না যে শিল্পি রফিকুন্নবী কে দিয়ে করাতে হবে।
- কি করবো এখন? ক্লায়েন্ট এক ঘন্টা পরই চলে আসবে!
- আচ্ছা দাঁড়াও..
শ্রী সেলফোনটা কানে গুঁজলো।
- কে, মানিক না রতন?
- ভাইয়া আমি রতন!
- কি খবর? মানিক কোথায়?
- আছে , ভাইয়া!
- আচ্ছা শোনো, তোমরা এক্ষুণি চলে আসো আমার অফিসে। একটা স্কেচ করতে হবে। পারবে?
- আসছি ভাইয়া, পারবো!
শ্রী মিনটির অসহায় মুখ টার দিকে তাকায়। ফোন টেবিলে রাখতে রাখতে বলে-
- ওকে , মানিক রতন আসছে, এলে ওদের দিয়ে যা যা লাগে করে নিও।
মিনটি শ্রীর কোওপারেশান দেখে স্বস্তি পায়। একটা কোলগেট টাইপের মুচকি হাসি দিয়ে চলে যায় সে।
শ্রী বসে তার ডেস্কে। ফেইক প্লাস্টিক সুপার হিরোর গিটারিস্ট আকাশের জন্য একটা লিরিক লিখে দিতে হবে। খুব করে ধরেছে ছেলেটা। অবশ্য বিনিময়ে শ্রী আকাশের কাছে মজার একটা জিনিস আবদার করেছে। আকাশের মায়ের হাতের রান্না। টিভি অনুষ্ঠানে ওনার রেসেপি দেখতে দেখতে শ্রী একবার সিদ্ধান্ত নিয়েই ফেলেছিলো যে, রান্না শিখবে। তবে আপাতত রান্না নয়, কেকা ফেরদৌসির বাসায় গিয়ে ওনার হাতের রান্না খাওয়া বড়ো একটা সুযোগ। আকাশ রাজি এ শর্তে। ছেলেটা পাগল, শ্রী'র খুব পছন্দের একজন।
হঠাত ফোন। রিসিপশান থেকে নিলা আপা।
- শ্রী কি ব্যস্ত আছেন?
- কেন নিলা আপা কি হয়েছে?
- আপনার কাছে একজন ভদ্রমহিলা এসেছেন।
- কে , নি?
- না, অপর্না ।
- অপর্না কে? আচ্ছা আমি আসছি।
শ্রীর মাথায় আসছেনা কে এই অপর্না। অচেনা অপর্না। শ্রী কিউবিক্যল ছেড়ে উঠে দাঁড়ায়।
আলোচিত ব্লগ
রুবা

রুবার সাথে আমার বিয়েটা ওঠ ছেড়ি তোর বিয়ের মতোই হয়েছে । একদম সাধারন কোনরকম অনুষ্ঠান নাই । সেইদিন অফিসে অনেক কাজ ছিলো । চোখে তারা ফারা দেখছিলাম । বসের... ...বাকিটুকু পড়ুন
প্রথম .........।

আন্ডারগ্রাউন্ড শোতে এটাই আমার প্রথম ড্রামস বাজানোর একটা মুহূর্ত।
কিছু গল্প আসলে পরিকল্পনা করে শুরু হয় না।কিছু গল্প হঠাৎ করে একটা মুহূর্ত থেকে জন্ম নেয় আর তারপর... ...বাকিটুকু পড়ুন
সমুদ্রের নীল খাম
এই শহরে থাকি প্রায় সাতাশ-আটাশ বছর ধরে। তিন প্রেমিকার মায়া ছেড়ে যাওয়া যায় না এমন এক অদ্ভুত সুন্দর এই শহর। যার এক হাতে নদী, অন্য হাতে সমুদ্র, আর কপালে জায়গা... ...বাকিটুকু পড়ুন
আওয়ামী দুঃশাসনের পতন অনিবার্য ছিল, জুলাই তো স্রেফ উছিলা মাত্র!

জুলাই নিয়ে অনেক বিতর্ক, সমালোচনা আছে। কিন্তু, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই যে জুলাই গণঅভ্যূত্থান না হলে আমরা দীর্ঘদিনের স্বৈরশাসন থেকে মুক্তি পেতাম না। জুলাই ঘিরে যত বিতর্ক, সমালোচনাই... ...বাকিটুকু পড়ুন
দুমুখোচিন্তা
সব মৃত্যু গণনায় আসে না। রাজনৈতিক সহিংসতার একটি পুরনো নিয়ম আছে। মৃত্যু সমান মৃত্যু নয়। কোনো মৃত্যু পত্রিকার প্রথম পাতায় যায়, কোনো মৃত্যু জয়পুরহাটেই থেকে যায়। এই বাছাইটা দৈবাৎ হয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।