আগের পর্ব পড়ুন....
স্যার : বল তোমার ভাইয়ার কাছে কি শুনেছ?
ছাত্র : ভাইয়া ফেনী কলেজে পড়তো আপনি তো জানেন । কিন্তু ভাইয়া ঐ খানে ক্লাস করতো না। কারন ভাইয়ার সব বন্দুরা পড়তো দাগুনভূঞা ইকবাল মেমোরিয়াল কলেজে। আওয়ামীলীগ সরকারের সময় তখন , ইকবাল কলেজে একদিন ছাত্রলীগের মিছিলের পর সংসদে বসে সবাই কথা বলতেছে। আবার ঐ সময় জেলা ছাত্র লীগের নেতা এসেছে কলেজ , উনিও বসা ছিলো সংসদে । এমন সময় আলাইয়া পুর থেকে একটা ছোট ছেলে কলেজের পিছন দিয়ে এসে ওয়ালের বাহির থেকে একটা বোমা ছুড়ে মারলো ওয়ালের উপর দিয়া। একবারে সাংসদের জানালার পাশে পড়ে পাটলো । তার পর তো শুরু হলো যুদ্ধ । কেউ বলে এস.এল.আর. কোথায় ,কেউ বলে এল.এম.জি আবার কেউ বলে শার্টার গান লও ,কেউ বলে আমি থ্রি নট থ্রি , এল.জি, দোনালা বন্দুক, এক নালাতো আছেই, বোমা সহ আরো কথ নাম শুনেছে ঐ দিন ভাইয়ায় । কিন্তু এরা অস্র রেডি করার আগেই ঐ পিচ্চি ছেলেটা দৌঁড়ে পালিয়েছে । দরতে পারলে হ্য়তো মেরে পেলতো ।
স্যার : ঐ সময় তোমার ভাইয়া কোথায় ছিলো?
ছাত্র : ভাইয়ার বন্দু , সুমন ভাই কলেজ ছাত্র লীগের কি একটা পদে ছিলো, এবং হাজারীর স্টিয়ারিং কমিটির উপসচিব ছিলো, তাই ভাইয়াকে কেউ মিছিল মিটিং এ ডাকতোনা , মিছিলের আগে সুমন ভাই ,ভাইয়াকে কলেজের সামনের দোকানে বসিয়ে গিয়েছিলো । মিছিল শেষে একসাথে আসবে বলে, তাই সে এই সব দেখেছে। ভাইয়া ঐ দিন অনেক অস্র দেখেছে কিন্তু সে তো আগে আর কখনো দেখেনি এইসব আস্র তাই চিনতে পারেনি কোনটা কি অস্র ।
স্যার : আমি ও সুনেছি আনেক বড় বড় অস্রের ব্যবহার হয়েছে । তখন দাগুনভূঞায় আওয়ামী ও ছাত্রলীগের কেম্প তিনটা এবং সরকারী থানা একটা । কোন অপারেশানে যেতে চারটা থেকেই যেত । আলাইয়াপুর , বৈরাগীরহাট গিরাও করতে এসে মেইলের শ্রমিক মেরে পেললো । ঐ সরকারের আমলে কত না মানুষ অকালে প্রান হারিয়ে ছিলো , লিটন, ইউসুফ , খুরশিদ,মামুন ,ফারুক, আবু, জাকির এরাতো পরিচিত মুখ। আওয়ামী সরকারের আমলে দাগুনভুঞা থানায় সব ছাইতে মর্মান্তিক গঠনা হচ্ছে , বি.এন.পি. মারতে যাইয়া চন্ডিপুরে একটা গ্রামকে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিয়েছিলো ঐ খানে একটা কোলের শিশু আগুনে পুড়ে মারা গিয়েছিলো। অনেকে বলে, ঐ পাপেই হাজারীর বর্তমানে এই আবস্তা । ঐ সরকারের আমলে অত্যাচার অবিচার যা হয়েছে তা আমাকে ৭১এর কথা মনে করিয়ে দেয় ।
ছাত্র : আসলে স্যার এদের অত্যাচার এতো জগন্য ছিলো মনুষ বুলতে পারবে না । ইকবাল কলেজের ছাত্র লীগ নেতা কি করতো জানেন স্যার। আমার,হয়তো আপনার সাথে বলাটা মানায় না । তার পরও বলতেছি, ভুল হলে ক্ষমা করবেন স্যার ।
।
স্যার : তুমি বলো অসুবিদে নেই ।
ছাত্র : কলেজে প্রথম বর্ষের যে ছাত্রী , সব চাইতে সুন্দরী অথ্যাৎ যাকে তার পছন্দ হতো, কলেজ ছাত্র লীগ নেতা তার সাথে , প্রেমের অভিনয় করে, মেয়েটির জীবন ধ্বংস করে দিয়ে, এক বছর পর নতুন বর্ষের ছাত্রীর দিকে নজর দিত । শেষ পযন্ত একটা মেয়েকে তার খুব পছন্দ হয়। নেতা তার মা বাপকে না পাঠিয়ে নিজে পস্তাব দিয়েছিলো মেয়ের বাবার কাছে কিন্তু মেয়ের বাবা ছেলেটিকে উঃ বললো, আমি আমার মেয়ে কেটে নদীতে বাঁসিয়ে দিলেও কোন সন্তাসী বদমাইস ছেলের সাথে বিয়ে দিবোনা । তারপর নেতা দুই দিন পর বন্দুরা সহ দুইটা মোটরসাইকেল নিয়ে এসে , মেয়েটিকে উঠিয়ে নিয়ে যায়, দুই দিন পর আবার মেয়েদের বাড়িতে দিয়ে যায় বিয়ে না করে, কিন্তু তার পরও মেয়ের বাবা রাজি হলোনা মেয়েকে নেতার সাথে বিয়ে দিতে। তার পর এক দিন এসে একেবারে উঠিয়ে নিয়ে যায় । কিন্তু মেয়ের বাবার এতো অমত থাকা সত্বেও থানা পুলিশকে জানাতে পরেনি এবং জানানোর সাহস পায়নি । স্যার এই রকম গঠনার অভাব ছিলোনা তখন ।
স্যার : এদের উপর থেকেইতো খারাপ , হাজারী যা করেছে, এরা হাজারীর শির্ষ না ! এরা হায়নাদার দের পুনরাবৃত্তি করেছে , এবং করতেছে।
ছাত্র : স্যার আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে আমাদের ফেনীর যে এই রকম আবস্তা গিয়েছিল, কিন্তু পেপার পত্রিকা নিরব ভুমিকা পালন করেছে কারন কি?
স্যার : তুমি হয়তো জান,না । পত্রিকা লেখা লেখি করতে চেয়েছিলো । কিন্তু তেমন বেশি লেখতে দেওয়া হ্য়নি । ফেনীতে সাংবাদিক মেরে পেলেছে তুমি শুন,নাই ।
ছাত্র : স্যার দুর্নীতি , নারী নির্যাতন , সন্ত্যাসী, কি ভাবে এই সব বন্দ করা যাবে ?
স্যার : এই সব বন্দ করেতে হলে স্কুল কলেজে ধর্ম শিক্ষা আরো বাড়াতে হবে। মনুষ যখন পরকালের কথা চিন্তা করবে , আইনকে পাকি দিয়ে , গায়ের জোরে এইকালে বাঁচতে পারলেও ,পরকালে শাস্তি ভোগ করতে হবে, যখন এই সব বুঝতে পারবে অন্যায় করলে কেউ দেখতে পাক আর না পাক আল্লাহ দেখতেছেন এবং এর বিচার এক দিন হবে। তারপর এই গুলা বন্দ করা যাবে। দুই এক জন সয়তানের আর্কমনে অন্যায় করলেও , তখন তা গননায় আসবেনা ।
ছাত্র : স্যার আপনি কি ইসলামিক শাসন ব্যবস্তার কথা বলতে চাচ্ছেন ? ইসলামিক শাসন হলে হিন্দুরা যাবে কোথায় ? স্যার আপনি একজন মুক্তিযুদ্ধা দেইখেন রাজাকার হয়ে যাইয়েন ,না , হা.. হা..হা..
স্যার : আমি মুসলমান ইসলামের কথা বলবোনা কেন ? আল্লাহর কাছে হাজার হাজার শুকরিয়া আদায় করি , আল্লাহ আমাকে একটি মুসলিম সংখ্যা গরিষ্ট দেশে পাঠিয়েছেন । আর হিন্দু দের কথা বলতেছো , ইসলামিক শাসন ব্যবস্তা চালু হলে সব হিন্দু বর্তমানের চাইতে আরামে থাকবে । তুমি দেখ আমাদের থানায় সব চাইতে হিন্দু বেশি কোন এরিয়ায় , বৈরাগীর হাটের পাশে তাই না। কিন্তু ঐ খানে আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে কি আবস্তা হয়েছিলো। হিন্দুরা দাগুনভূঞায় এসে চাঁদা দিয়ে যেত। বি.এন.পির ছেলেরা যখন শুনেছে । তারও হিন্দুদের কাছে চাঁদা দাবি করে। এক সময় এলো হিন্দুরা টিকতে না পেরে দাগুনভূঞায় বাসা ভাড়া করে থাকতে চাইলো । কিন্তু ঐ খানে সব তাদের প্রিয় দলের লোক, তারপর ও নির্যাতন বেশি। এখন শুধু চাঁদা দিলে হয়না , ভাত ও খাওয়াইতে হয় এবং ঘরে বৌ জ্বি যাদের ছিলো তারা তো সব চাইতে বেশি বিপদে ছিলো । তার পরের সরকারের সময় কাউকে বাড়ি চেড়ে কোথায় ও যেতে হয়েছে আমি শুনিনি। এবং কাউকে চাঁদা দিতেও সুনিনি। ইসলামিক শাসন কায়েম হলে তারা আরো শান্তিতে থাকবে। বৈরাগীরহাটের সাইড়ের হিন্দুরা কিন্তু এইটা বুজতে পেরেছে । দেখেছ ঐ ইউনিয়নে এখন চেয়ারম্যান কিন্তু একটা ইসলামিক দলের নেতা । এবং তাকে হিন্দুরাই নির্বাচন করেছেন। অনেক হিন্দু এরিয়ায় ইসলামিক দলের নেতারাই নির্বাচনে পাশ করে থাকেন।
ছাত্র : স্যার ইসলামিক দলের কথা বললেইতো সবাই বলে রাজাকার।
স্যার : বাংলাদেশে ইসলামিক দল অনেক আছে । তুমি যে দলের সাথে কোরান সুন্নাহর মিল পাবে সে দল করবে। ইসলাম মানব জীবনের পরিপূর্ন জীবন বিধান । রাজনীতি তোমার আমার জীবনের একটা অংশ । আমরা আমাদের জীবনে যত কিছু করি সবি ইসলামের বিধিনিষেদ মেনে করতে হবে। অনেক ধর্ম আছে তুমি একটা নিয়ম মানলা আরেকটা মানলা না , কিন্তু তার পরও তুমি ঐ ধর্মেরই থাকবে। কিন্তু ইসলাম এমন একটা ধর্ম আমি জেনে শুনে একটা মেনেছি আরেকটা মানিনাই , তা হলে আমি কিন্তু ইসলাম ধর্মের রইলাম , না । কারন আমার ঈমান নষ্ট হয়ে যাবে । হঁা বাংলাদেশে ইসলামিক বড় দল জামায়াত ইসলামী, ঐ দলের বড় দুই নেতা গোলাম আযম এবং মতিউর রহমান নিজামি কে নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তুলেন ,গোলাম আযম এবং মতিউর রহমান নিজামি সহ যাদের বিরুদ্ধে রাজাকারের অভিযোগ আনা হয়। সরকারের উচিৎ যত দ্রুত সম্ভব এদের কে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে। সঠিক বিচার কাজ সম্পর্ন করা। রাজাকার নিয়ে জেন কেউ রাজনীতি করতে না পারে । এবং ইসলামের কথা বললে , কেউ জেন রাজাকার বা আজেবাজে কথাবলে কারো মুখ বন্দ করতে না পারে। ইসলাম শান্তির ধর্ম , ইসলামী শাসন ব্যবস্তা ছাড়া বাংলাদেশে নয় পৃথিবীর কোথও দুর্নীতি, সহিংসতা, অবিচার, ইত্যাদি দুর করা সম্ভব নয় । ইসলামই পারে ন্যায় বিচার প্রতিষ্টা করতে । যারা দুর্নীতি, সহিংসতা, অবিচার, ইত্যাদি বন্দ করতে ছায়না তারা ইসলামীক শাসন ব্যবস্তা কামনা করেনা। তারা ছায়না বাংলাদেশে ইসলামীদল থাকুক। বাংলাদেশের মানুষ ইসলাম প্রিয় মুসলমান , যারা ইসলামকে বাংলাদেশ থেকে ধ্বংস করতে ছায় এখন তারা আবার ইসলামের নাম দিয়ে বোমা পাঠিয়ে, মানুষের মনে আতঙ্ক সৃষ্টি করতেছে । মানুষ যেন ইসলামের নাম সুনলেই বোমার কথাবলে, মুখপিরিয়ে নেয় , তারা ছায় এইটা। যুগে যুগে ইসলামের বিরুদ্ধে অনেক ষড়যন্ত্য হয়েছে । কেউ কখনো সফল হতে পারে নাই এরা ও পারবেনা । বাংলাদেশের মানুষ আগের থেকে অনেক সচেতন, মানুষ বুঝতে পারে ইন্ডিয়ার বোমা ইসলামের নামে পাঠে কেন ? আল্লাহ আমাদের বাংলাদেশের মানুষকে আরো সচেতন করে দিন, এই দোয়া করি ।
পরে অন্য কখনো আবার আলাপ করবো । আল্লাহ হফেজ। ভালো থেকো ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

