somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

শিক্ষার জাতীয়করন অপরিহার্য

১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ রাত ৮:৪৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমাদের বাংলাদেশের মতো জগাখিচুড়ি মার্কা শিক্ষা ব্যবস্থা মনে হয় পৃথিবীর আর কোনো দেশেই নেই। সাধারণ শিক্ষা, মাদরাসা শিক্ষা, কারিগরি শিক্ষা, কওমি শিক্ষা, ইংলিশ মিডিয়াম শিক্ষা সবগুলোই সরকার স্বীকৃত শিক্ষা ব্যবস্থা। আর সরকারের স্বীকৃতির বাইরে আর কতটা রকমের শিক্ষা প্রচলিত আছে যারা চালাচ্ছেন তারাই জানেন। শিক্ষার মাধ্যমেই ব্যক্তির চেতনা গড়ে উঠে। একই পরিবারের একছেলে কওমিতে, একছেলে আলিয়ায়, একছেলে কলেজে,একছেলে ইংলিশ মিডিয়ামে লেখা পড়ার পর তাদের চেতনা একরকম হবে না এটা বুঝতে গবেষণার দরকার নেই। এরকম বহুমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা চালু রেখে জাতীয় চেতনা গঠন করা সম্ভব নয়। তাই শিক্ষার ক্ষেত্রে সকল প্রকার বহুমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা বাদ দিয়ে মাধ্যমিক পর্যন্ত একমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করা জরুরী। যদিও বাস্তব কিছু বাধা আছে তারপরও অন্যান্য দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার সাথে সামঞ্জস্য রেখে নতুন শিক্ষা ব্যবস্থা দরকার। মধ্যপ্রাচ্যে কতটি আলিয়া মাদরাসা আরও কতটি কওমি মাদরাসা আছে তা খোজ নিলেই অনেক কিছুই অনুমান করা সহজ হবে। চীন কিংবা জাপানে কতটি ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল কলেজ আছে তারও খোজ নিলেই ইংলিশ মিডিয়াম শিক্ষার উপযোগিতা বুঝা যাবে। সকল শিক্ষাই হবে সরকারি। বিশেষকরে মাধ্যমিক লেবেল পর্যন্ত সরকারি ছাড়া বেসরকারি উদ্দ্যোগ বন্ধ করতে হবে। উচ্চ শিক্ষার ক্ষেত্রে বেসরকারি উদ্যোগকে অনুমোদন দেয়া যেতে পারে। প্রাইমারি থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত সকল শিক্ষকের জাতীয়করন করতে হবে। শিক্ষার পিছনে বিনিয়োগ করলে দৃশ্যমান লাভ না পেলেও এর ফলাফল অবশ্যই আছে। মৌলিক শিক্ষা বিশেষ করে ভাষাগত দক্ষতা, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, ধর্ম ও নৈতিকতা, শারীরিক শিক্ষা ও খেলাধুলা, কারিগরি শিক্ষার মৌলিক অধ্যায়গুলো সকলের জন্য বাধ্যতা মুলুক করে বিভাজনমুখিতা বাদ দিয়ে মাধ্যমিক পর্যন্ত একমুখী শিক্ষা ব্যবস্থা চালু করা অপরিহার্য। মাধ্যমিক পর্যন্ত সাধারণ, কারিগরি, মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থা বিলুপ্ত করে একমুখী জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থা চালু না করলে জাতীয় ঐক্য ও চেতনা অর্জন করা সম্ভব নয়। আমরা জাতিগত ভাবে বিভেদের বীজটা প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়েই রোপণ করে দিচ্ছি শিশু কিশোরদের মননে।
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই সেপ্টেম্বর, ২০২১ রাত ৯:৫৯
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দুর্ঘটনা নয়, এগুলো আগে থেকেই তৈরি করা মৃত্যু

লিখেছেন শরৎ চৌধুরী, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৮:০৫

চারপাশ থেকে কালো ধোঁয়া ঘিরে ধরছে। দুই চোখ প্রচণ্ড জ্বলছে । সুন্দর করে সাজানো হলরুমের প্লাস্টিক, ফোম, সিনথেটিক সবকিছু পুড়ে বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে বিষাক্ত গ্যাসে। ঘরের অক্সিজেন প্রতি সেকেন্ডে... ...বাকিটুকু পড়ুন

সব কিছু চলে গেছে নষ্টদের দখলে

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৩ রা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১১:৫৭


সংসদ ভবনের লাল ইটের দেয়ালগুলো যদি কথা বলতে পারত, তবে হয়তো তারা লজ্জায় শিউরে উঠত অথবা স্রেফ অট্টহাসি হাসত। আমাদের রাজনীতির মঞ্চটা ইদানীং এক অদ্ভুত সার্কাসে পরিণত হয়েছে, যেখানে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইরান যুদ্ধ: স্বাধীনতা নাম দিয়ে শুরু, এখন লক্ষ্য ইরানকে প্রস্তরযুগে নিয়ে যাওয়া

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৪ ঠা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৮:২৩


আমার আট বছরের ছেলে ফোনে ফেসবুক পাতার দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করল, "বাবা, এটা কিসের ছবি"? আমি তার মনোযোগ অন্যদিকে সরানোর বৃথা চেষ্টা করে অবশেষে বললাম, এটা আমেরিকা- ইসরায়েলের ইরানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিএনপি কেন “গুম সংক্রান্ত অধ্যাদেশ” বাতিল করতে চায় ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৪ ঠা এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৫:৫৮


"গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশ বাতিলের বিরোধিতা করলাম। এই অধ্যাদেশ বাতিলের সিদ্ধান্ত আমাদের এমন ধারণা দেয় যে বিএনপি গুমের মতো নিকৃষ্ট অপরাধের বিলোপ করতে উৎসাহী নয়। তারা কেন এটা বাতিল করতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

নিখোঁজ সংবাদ

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৪ ঠা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১১:৫২



কাজকর্ম, রোজা, ঈদ, ছুটি, গ্রামের বাড়ি - সকল কিছুর পরেও আমি মাঝে মাঝেই ব্লগ পড়ি, পড়ার মতো যা লেখা ব্লগে প্রকাশিত হচ্ছে কম বেশি পড়ি। এখন তেমন হয়তো আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

×