স্কুল জীবনের কথা বলি। বলার মত না হলেও বলি। সকাল বেলা স্কুলে যাওয়া, বাড়ি ফিরে পড়তে বসা, পরদিন আবার স্কুলে যাওয়া, একেবারে একঘেঁয়ে লাগলেও আমার কাছে আমার স্কুল জীবনটাই সবচেয়ে রঙীন। হা..হা..হা..স্যামসাং এর মত 65000 কালার ডিসপ্লে। এজন্যই টেস্ট পরীক্ষার পরের জানুয়ারী মাসের 1 তারিখে হঠাৎ সবকিছু কেমন ফাঁকা মনে হল। আর স্কুল নাই। আর কখনও স্কুল যেতে হবে না।
আমার মা'র খুব শখ ছিল তাঁর ছেলে গান গাইবে, ছবি আঁকবে, আবৃত্তি করবে। আমি আমার বয়সের তুলনায় একটু বেশী লম্বা ছিলাম। এজন্য আমি আমার সমবয়সীদের সাথে কখনও পরতাম না। বড়দের সাথে আমার জায়গা হত। আমার আর ভাল লাগে না। মনে হত কেন যে হাড় জিরজিরে হলাম না। আমি গানও শিখতাম। আসলে শিখতাম না শেখানো হত। রোজ রোজ প্যান প্যানে সা..রে..গা..মা..পা..ধা..নি..সা.. কার ভাল লাগে। তার চেয়ে জেমসে "লিখতে পারিনা কোন গান তোমাকে" ছাড়া কত ভাল।
এসব করতে করতে আমার দূরন্তপণার উপকরণ গুলোর মাঝে সাইকেল কোনদিনও আনি নাই। আমি বেশ অনেক বড় হওয়ার পরও সাইকেল চালাতে পারতাম না। আমার একটা বিরাট সৌভাগ্য ছিল যে আমার স্কুলটা বাড়ী থেকে মাত্র 5 মিনিটের পথ। একটা নিষিদ্ধ পথ দিয়ে গেল 3 মিনিটেই যাওয়া যেত। যা বলছিলাম, আমি সাইকেল চালানো শিখেছি আমার বল্যবন্ধু সুমনের কাছ থেকে। ক্লাশ নাইন কিংবা টেনে ওঠার পর কোন এক ফেব্রুয়ারী মাসে।
সাংস্কৃতিক আচার অনুষ্ঠান গুলো কখনোই আমাকে আকৃষ্ট করতে পারেনি।বরং খে আমাকে আকৃষ্ট করত বহুগুণে। একটা সময় ছিল আসরের আযান দেওয়ার পর ইমনকে আর কখনও বাড়িতে পাওয়া যায় নি। পাওয়া গেছে পিটিআই স্কুলের মাঠে। আশেপাশে পরিবেশটা খারাপ হয়ে এলে (আমি অবশ্য কোন খারাপ দেখি নাই। মা কি বুঝেছিলেন জানিনা। তবে যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তাতে আমি তাঁর কাছে চির কৃতজ্ঞ) আমাকে মা স্থানীয় লনটেনিস ক্লাবে ঢুকিয়ে দিলেন। খেলাটাকে বেশ উপভোগ করতাম সে সময়। স্বপ্ন ছিল একদিন পিট সাম্প্রাসের খেলার সময় মাঠের বল বয় হব। টেনিসে এদের বলা হয় পিকার। কিন্তি বিধিবাম একটা ছোট্ট অপারেশন কেড়ে নিল ইমনের লনটেনিস ঘেরা স্বপ্ন গুলোকে।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



