আমি মোটামুটি সব ক্ষেত্রেই ব্যর্থতা সহ্য করে আসা একজন মানুষ। কেউ কোন সহজ বিষয় বুঝতে না চাইলে তাকে আমি যুক্তিতর্ক দিয়ে বুঝাতে যাই, বেশীক্ষন বুঝাতে পারিনা, মাথা গরম হয়ে যায়।
একুশে ফেব্রুয়ারীতে আমার ভাগ্নাকে নিয়ে গিয়েছিলাম শহীদ মিনার দেখাতে। প্রচন্ড ভীড়ের চাপাচাপিতে দাঁড়িয়ে আছি। আমার পাশে আমার ভাগ্নার চেয়েও ছোট বাচ্চাকে নিয়ে তার বাবা দাড়িয়ে। পেছন থেকে একলোক তাকে বলল, ভাই, বাচ্চা নিয়ে এত কস্ট করছেন কেন?
সেই বাবা তাকে বলল, ভাষার জন্য যারা এত কস্ট করে প্রাণ দিয়ে গেল তাদের জন্য এই কস্টটুকু করবনা।
শুনে আমার এত ভাল লাগল মনে হল লোকটার পা ছুঁয়ে সালাম করে আসি। আমার অত্যন্ত প্রিয় একজন মানুষ আমাকে বলে ভাষার জন্য প্রাণ দেয়াটা কোন মহৎ কাজ না। আমি শুনে একেবারে প্লুটো থেকে মাটিতে পরেছি। প্রচন্ড ব্যথা পেয়েছি গায়ে নয় মনে। তারই ভাই একাত্তরের মুক্তিযোদ্ধা, সে আমাকে গালাগালি করে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে আমার ফিলিংস গুলো বেশী না বলে। সে আমাকে গালাগালি করে আমি ক্রিকেট খেলায় পাকিস্তানকে সাপোর্ট করি বলে। আমি তাকে কি বলব? তিনিতো সকল যুক্তিতর্কের উপর চলে গেলেন। তিনিতো মৃত। তাকে প্রাণ ভরে গালাগালি করেছি সেদিন কিন্তু তা একমাত্র ইমন ছাড়া আর কেউ শোনেনি।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



