somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আপনাদের পাড়ার রাজাদা (কাহিনী- ১৭)

১৭ ই জুলাই, ২০০৭ সকাল ১১:৫৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

স্বপনদা তখন সার্ভিসে কমিশন্ড অফিসার । স্বপনদার বিয়ে হয়েছে সবে । বৌদি পূববাংলার (তখন বাংলাদেশ হয়নি)মেয়ে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজীতে এম. এ করেছিলেন। বিদুষী এবং সুন্দরী। কিন্তু আকর্ষণীয় ব্যক্তিক্ত্ব ছিলেন বৌদির বাবা,স্বপনদার শ্বশুর মশায়। ঢাকা শহরে তার বিরাট ব্যবসা ছিল। তিনি মাঝে মাঝে আসতেন । তাঁর বাচনভঙ্গিতে আমরা খুব আকৃষ্ট হতাম।

তিনি ছিলেন বিরাট শিকারী । তিনি বলতেন - তাঁর মতো অমন বড় শিকারী তখন নাকি ঢাকা শহরে বিরল ছিল। অবশ্য মৎস শিকারী।

সেবার তিনি এসেছেন। সঙ্গে এনেছেন একটি জাপানি বর্শি - সে বর্শির অনেক কায়দা, সেন্সর লাগানো আছে । অটো হুইল । নানান রকম তৈরী করা টোপ । আলাদা কোনো টোপ দিতে হয়না । আশেপাশে মাছ এলে সে বর্শিতে উঠবেই উঠবে। তিনি সেটা তাঁর জামাইকে গিফ্ট করলেন । তিনি ভালো চারও বানাতে জানতেন। সে চার পুকুরে ফেললে মাছের মাথা নাকি ঘুরে যায়। মাছের কোনো দিশা থাকেনা ।

স্বপনদা সে বর্শি পেয়ে আনন্দে গদ গদ ।
আমাকে একদিন বললেন মাছ মারতে যাবি ?
আমি বললাম তোমার শ্বশুর মশায় কি যাবেন ?
না না তিনি যাবেন না । আমাকে চার বানানো শিখিয়ে দেবেন বলেছেন ।
আমি খুব একটা আগ্রহ দেখালাম না ।
আবার একদিন স্বপনদা বললেন, চলনা,মাছ মারতে যাই । শ্বশুর মশায় থাকতে থাকতে চার বানানোটা শিখে নিতে হবে ।
আমি বললাম - দেখি, যাবোখন । পুকুর ঠিক করি, তোমাকে জানাবো। আমি সরে পড়লাম ।

রাজাদা একদিন সকালে এসে বললো চল, তাড়াতাড়ি কর, মাছ মারতে যাবো । স্বপনের বর্শি নিয়ে স্বপন যাবে বলেছে । স্বপনের শ্বশুর মশায় চার বানিয়ে দেবেন ।
আমি বললাম, তুমিতো মাছ মারতেই জানোনা, তুমি মাছ মারতে যাবে? - আমি একটু অবাকই হলাম।
কি করবো বল, স্বপনটা রোজ ঘ্যান ঘ্যান করছে । নে তাড়াতারি কর - রাজাদা তাড়া দেয়।
আমরা রাজাদার নেতৃত্বে তিনজন মিলে একটা বড় পুকুরে মাছ মারতে গেলাম। স্বপনদার শ্বশুর মশাই চার বানিয়ে দিয়েছিলেন ।
পুকুরে গিয়ে স্বপনদা একটা জায়গা দেখে চার ফেললেন। রাজাদা বললেন, চারতো সবে ফেলা হলো, মাছ আসতে দেরী আছে, চল একটু ঘুরে আসি।

আমরা গ্রামটা ঘুরতে গেলাম ।
একটু পরে এসে ঠিক কোন জায়গায় চার ফেলা হয়েছিল তা আর খুঁজে পেলামনা।

রাজাদা বললো আমার ঠিক মনে আছে, ওই শাপলা ফুল গুলোর পাশে তুই চার ফেলেছিলি, ওখানেই বর্শি ফেল।
স্বপনদা ঠিক দুপুর নাগাদ বর্শি ফেললো । তারপর যায় যায়, মানে সময় যায়, মাছ আর ধরা পড়েনা । ধৈর্য্য আর মানেনা ।
স্বপনদার শ্বশুর মশায়ের তৈরী করা চারে মাছেরা দিশা হারিয়ে ফেলেছে- আমি বললাম । রাজাদা বললো, গান্ধীজি বলেছিলেন, কোনো কাজে সফল হতে হলে চরম ধৈর্য্যের পরীক্ষা দিতে হয়- জানিস তো?
তা জানিনা - তবে গান্ধীজি মাছ ধরছেন - এরকম একটা ছবি দেখেছিলাম আমি।

বিকেল । তখনো স্বপনদা কোনো মাছই পায়নি ।
একটা লোক এসে আমাদের থেকে একটু দুরে ছিপ ফেলে বসলো । শাপলা ফুলের পাশেই। বসার সঙ্গে সঙ্গেই একটা চার থেকে পাঁচ কিলো সাইজের মাছ ধরে নিলো।আমরা হতবাক । ঠিক তার পর পরই আরেকটা, এটা প্রায় সাত-আট কিলো।
স্বপনদার মুখটা দেখবার মতো। লোকটা দুটো মাছ মেরেই উঠে গেল। আমরা খেয়াল করিনি তেমনভাবে।

ঠিক সন্ধে নাগাদ স্বপনদা উঠল - নাঃ আর লাভ নেই, চল যাই এবার আমরা। শ্বশুর মশাইর চারটা কোনো কাজ দিলনা - স্বপনদার মনটা খুব খারাপ হয়ে গেল।
সব গুছিয়ে নেবার পর দেখি রাজাদা নেই। খোঁজ খোঁজ, রাজাদাকে পাওয়া গেলনা।
আমি বললাম, তুমি মাছ পাওনি তাই রাজাদা বোধহয় চলে গেছেন। চলো যাই আমরা। আমরা চলে এলাম।
স্বপনদার বাড়ীতে আসা মাত্রই হৈ চৈ ব্যাপার। স্বপনদার শ্বশুর মশাইর গলা পাচ্ছিলাম।
কি বেয়াই কইছিলাম না, আমার চারে মাছ দিশিহারা হইয়া যায়। মাছে টোপ গিলবোই গিলবো ।যাইবো কই । আর ছিপটা - হুঃ হুঃ জাপানি ছিপ। দুই-দুইডা - এক্কেবারে পাঁকাল । বেয়াই বঠি আনেন।
স্বপনদা হতবাক - মুখে কোনো কথাই নেই ।
বৌদি বললেন - তোমাদের স্বপনদা দুটোই ধরেছেন ? বাবার বানানো চারতো-মাছ যাবে কোথায়? তোমাদের স্বপনদাও ভাল মাছ ধরেন তাইনা? বড় বড় দুটো মাছ- বলো?
বৌদিকে খুব হাসি খুশি দেখাচ্ছিল।

আমি রাজাদাকে খুঁজে বের করলাম। রাজাদা বললো, স্বপনের শ্বশুর মশাই সত্যিই ভালো চার বানান। লোকটা স্বপনের ফেলা চারের জায়গায় বসেছিলরে।
আমি বললাম - লোকটার সঙ্গে কততে রফা করলে ?
দুশো টাকা । সবচেয়ে বড় কথা, স্বপনের শ্বশুর মশাইর মান রেখেছি।
আমি মনে মনে বললাম - রাজাদা তুমি গ্রেট।
৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড় আমি ভালোবাসি

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৫ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ২:৪৩

পাহাড় আমি ভালোবাসি
...........................................



চললাম তবে তোমার সাথে,
হাতটি রেখে হাত বাড়াতে।
পিছুটানের বাঁধন ছিঁড়ে,
হারাবো ওই মেঘের ভিড়ে।

পাহাড় চূড়ায় রোদের হাসি,
শুনছো ! তোমায় ভালোবাসি।
চলবে নদী আপন বেগে,
নতুন কোনো আশার মেঘে।

ইচ্ছেগুলো পাক না ডানা,
আজকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

পৃথিবীতে শ্রেষ্ঠ সম্পদ কি?

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৫ ই জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২১



এই মুহুর্তে আমি গাজীপুর যাচ্ছি।
সময় সকাল দশটা। রবিবার। রাস্তায় জ্যাম যেতে অনেক সময় লাগবে। লাগুক। সমস্যা নেই, হাতে অনেক সময় আছে। আজ আমার কোনো কাজ নেই। বউ বাচ্চা বাসায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

নির্বাসিত নক্ষত্রের শহর !

লিখেছেন দানবিক রাক্ষস, ০৫ ই জুলাই, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৯



রাতের শেষে যে শহর জেগে থাকে
তার ভাঙা নীয়ন আলোয়
আমি দেখেছি মানুষের মুখ—
অথচ দেখিনি মানুষ ।
দেখেছি ক্লান্ত আত্মারা,
ধীরে ধীরে আত্মহুতি দেয় প্রতিরাতে।

চারদিকে শব্দ ছিল,
হাজার কথার বিষাক্ত ভিড় ছিল,
কর্পোরেট... ...বাকিটুকু পড়ুন

"তোমরা আমাদের মানুষদের কেন খুন করলে?"

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৫ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ৮:০১

জাপানের মানুষেরা আজও বুঝতে পারে নাই, কেন তাঁদের ছেলেমেয়েদের এভাবে হত্যা করা হলো। সেই দেশের মুরুব্বীরা এখনো এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে ফেরেন। আক্ষেপ করেন। আমার বোনের জামাই জাপানে পোস্ট ডক... ...বাকিটুকু পড়ুন

শত্রুর শত্রু

লিখেছেন তানভীর রাতুল, ০৬ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ৯:১৪

উগ্রবাদী আর উদারবাদী, দুটি ইসলামই একই রাজনীতি করে। তাবলীগ জামাতের লোকটি মাঠে এসে বলে মেয়েদের ফুটবল হারাম। তারপর বিশ্বকাপে সৌদি আরবকে সমর্থন করে রাস্তায় নামে। এই দুটি আচরণ পরস্পরবিরোধী নয়।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×