পাপ নাকি বাপকেও ছাড়ে না। তার মানে কি একটা পাপকে একটা বীজের সাথে তুলনা করতে পারি। যেই বীজ থেকে গাছ হবে গাছ থেকে আবার ফল ধরবে। এক কথায় চলতেই থাকবে। আমাদেরতো পাপের কোন শেষ নাই। জন্ম থেকে মৃতু পর্যন্ত পাপের সাথে জড়িত .............
.
প্রকাশে-গোপনে, আলোতে-অন্ধকারে সবাই কোন না কোন পাপের কাজ করে আসছি। যার প্রায়শ্চিত করতে হয় জীবনের পরবর্তী সময়ে। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম হতে পারে। সমাজে অনেক ভাল মানুষ আছে। যাদের জীবনে তেমন পাপের কোন চিহ্ন নেই। যাদের জন্য দুনিয়াকে সুন্দর লাগে। যাদের ভাল কাজের বরকতে সমাজটা এখনও দাড়িয়ে আছে। এমনিতেই দেশটা ধ্বংসের দিকে। তবুও চলছে। শুধুমাত্র কিছু ভাল মানুষের ভাল কাজের গুণে।
খারাপ কাজের দরুন প্রতিটি মুহুর্ত একটা অভিশপ্ত জীবন নিয়ে ঘুরে বেড়াতে হয়। ধরুন, একজন বড় সন্ত্রাসী। তার জীবনের যত অর্জন সবকিছুর মুলে কোন না কোন পাপের কাজ। ছোট্ট একটা অপরাধ থেকে যার জীবনটা শুরু হয়েছে। ধীরে ধীরে সে বড় সন্ত্রাসী হিসাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে। লতা চুরি, পাতা চুরি করতে করতে কিন্তু এক সময় বড় কিছু চুরি করা সম্ভব হয়। এছাড়া অল্প পরিমান ঘুষ অথবা অবৈধ ইনকাম থেকেই বড় দূর্নীতিবাজ হয়ে যায়। যার প্রমাণ সমাজে অহরহ।
বড়দের সাথে বেয়াদবী করতে করতে মস্তবড় বেয়াদব হিসাবে চিহ্নিত হয়। মিথ্যা কথা বলতে বলতে সেরা মিথ্যাবাদী প্রমাণিত হয়। এভাবে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে খারাপ কাজের যেকোন চিহ্ন লেগে গেলে এবং তা যদি অব্যাহত থাকে তাহলেই সর্বনাশ।
আমরা অনেক সময় বলি, ওমুক ব্যক্তির পাপ বাতি হয়েছে। ফলে সে ধরা পড়েছে। ভিকারুন্নেছার পরিমল স্যার কিন্তু একদিনেই ছাত্রী নির্যাতন করেনি। তার চরিত্রে হয়ত: আরো অনেক নির্যাতনের দাগ রয়েছে। ফলে চুড়ান্ত জায়গায় এসে পরিমল স্যার ধরা পড়েছে। তার মানে পাপ বাতি হয়েছে। নেশার সাথে জড়িত ব্যক্তি কিন্তু হঠাৎ করেই বড় নেশার সাথে জড়ায়নি। ধীরে ধীরে বিভিন্ন স্তর অতিক্রম করেই কিন্তু নেশাগ্রস্থ হয়ে যায়। যেখান থেকে আর মুক্তি সম্ভবপর হয় না। এভাবে প্রত্যেকটা সেক্টরে এবং জীবনের প্রত্যেকটা মুহুর্তে কেউ যদি পাপের সাথে জড়িয়ে পড়ে। এই পাপের প্রায়শ্চিত করতে হবে জীবনের কোন না কোন সময়ে।
পাপের শুরু :
১. লোভ কিন্তু একটা মানুষের জীবনকে ধ্বংস করতে যথেষ্ট। কারন লোভের বিন্দুমাত্র ইচ্ছা থাকলে এই লোভ তাকে পাপের দিকে ধাবিত করে।
২. হিংসা থেকে জন্ম নেয় রেষারেষি। লোভের কারনে মানুষ কোন না কোন ভাবে ধ্বংসাত্মক কাজে লিপ্ত হওয়া।
৩. মিথ্যাকে যতক্ষণ পর্যন্ত জীবন থেকে মুছে ফেলতে না পারবো ততক্ষণ পর্যন্ত জীবনটা মিথ্যার সাথেই জড়িয়ে থাকবে।
৪. সকল চাহিদাকে নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে রাখতে পারলেই কিন্তু জীবনটা নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে। ছোট্ট একটা ইচ্ছা পূরণ করতে গেলেই অনেক সময় অবৈধ পন্থা অবলম্বন করতে হবে।
৫. যে ধর্মের হোক না কেন ধর্মীয় নিয়ম কানুন পালন করার মানসিকতা না থাকা। এইচআইভি'র ক্ষেত্রে যেমনটি পালন করা হয়।
সর্বশেষে একটা কথাই বলব, যেকোন খারাপ কাজ হোক সবসময় দূরে থাকতে হবে। পাপের সাথে জড়িয়ে গেলে কিন্তু আর ফেরার কোন উপায় থাকবে না। বিনষ্ট হবে যেকোন সুন্দর ভবিষ্যৎ। অর্থ কিন্তু সব কিছুর মানদন্ড নয়। অর্থ প্রাচুর্য কিন্তু অশান্তিরও কারন। তাছাড়া কেউ না কেউ পিতা-মাতার দোয়ায় পাপের কাজ থেকে দূরে থাকে। তাই চেষ্টা করতে হবে মান সম্মান নিয়ে বেঁচে থাকতে। পাপের ঘ্রাণও কিন্তু পাপের দিকে ধাবিত করে।
অনেক গল্পের মাঝে একটা ............... এক ব্যক্তির বিচার কার্য শুরু হয়েছে। তার আইনজীবি অনেক চেষ্টা করছে তাকে মুক্ত করতে। হত্যা মামলার আসামী হওয়ায় তার মক্কেলকে মুক্ত করতে ব্যর্থ হয়। যথারীতি ফাঁসির ঘোষনা হয়ে যায়। ফাঁসির রায় কার্যকর করার কয়েকদিন আগে উক্ত আইনজীবি আসামীর সাথে দেখা করতে যায়। আইনজীবি তার আপসোস আর কষ্ট নিয়ে বলে, আমি অনেক চেষ্টা করেও আপনাকে বাঁচাতে পারলাম না। আসলে বলেনতো আপনি কি সত্যি এই হত্যা করেছেন কিনা? আসামী তখন বলে ভাই আমি সত্যি করে বলি আমি এই হত্যা করিনি। তবে কেন যে আমি দোষী প্রমাণিত হলাম। হিসাবে মিলছে না এবং আপনিও আমাকে মুক্ত করতে পারছেন না। আসামী তখন তার আইনজীবিকে বলে, আমি আমার জীবনের একটা সত্য ঘটনা আপনাকে বলব। আমি এই হত্যা করিনি এটা সত্যি। তবে আমি জীবনে একবার একজনকে হত্যা করেছি কিন্তু সেই সময় আমি পার পেয়ে যাই। আমাকে হত্যাকারী প্রমাণ করতে পারেনি কেউ। আল্লাহর এটা বিচার যে, ঐ মামলায় হত্যাকারী হয়েও বেঁচে যাই। কিন্তু এখন হত্যাকারী না হয়েও আমি অভিযুক্ত, ফলে আমার ফাঁসি হবে।
কাজেই সত্য সবসময় সত্য। পাপ করা মানে হচ্ছে একটা বীজ রোপন করার সমান। যেই বীজ থেকে গাছ হবে, ফুল হবে, ফল হবে এবং নিজের ধ্বংস ঢেকে আনবে। পাপের শাস্তি ভোগ করতেই হবে ......... তাই সবসময় পাপকে ঘৃনা এবং পাপকে এড়িয়ে চলা উচিত।
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে মার্চ, ২০১২ রাত ৯:৪২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



