somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পাপ !!!

১২ ই আগস্ট, ২০১১ রাত ৩:০৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


পাপ নাকি বাপকেও ছাড়ে না। তার মানে কি একটা পাপকে একটা বীজের সাথে তুলনা করতে পারি। যেই বীজ থেকে গাছ হবে গাছ থেকে আবার ফল ধরবে। এক কথায় চলতেই থাকবে। আমাদেরতো পাপের কোন শেষ নাই। জন্ম থেকে মৃতু পর্যন্ত পাপের সাথে জড়িত .............
.
প্রকাশে-গোপনে, আলোতে-অন্ধকারে সবাই কোন না কোন পাপের কাজ করে আসছি। যার প্রায়শ্চিত করতে হয় জীবনের পরবর্তী সময়ে। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম হতে পারে। সমাজে অনেক ভাল মানুষ আছে। যাদের জীবনে তেমন পাপের কোন চিহ্ন নেই। যাদের জন্য দুনিয়াকে সুন্দর লাগে। যাদের ভাল কাজের বরকতে সমাজটা এখনও দাড়িয়ে আছে। এমনিতেই দেশটা ধ্বংসের দিকে। তবুও চলছে। শুধুমাত্র কিছু ভাল মানুষের ভাল কাজের গুণে।

খারাপ কাজের দরুন প্রতিটি মুহুর্ত একটা অভিশপ্ত জীবন নিয়ে ঘুরে বেড়াতে হয়। ধরুন, একজন বড় সন্ত্রাসী। তার জীবনের যত অর্জন সবকিছুর মুলে কোন না কোন পাপের কাজ। ছোট্ট একটা অপরাধ থেকে যার জীবনটা শুরু হয়েছে। ধীরে ধীরে সে বড় সন্ত্রাসী হিসাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে। লতা চুরি, পাতা চুরি করতে করতে কিন্তু এক সময় বড় কিছু চুরি করা সম্ভব হয়। এছাড়া অল্প পরিমান ঘুষ অথবা অবৈধ ইনকাম থেকেই বড় দূর্নীতিবাজ হয়ে যায়। যার প্রমাণ সমাজে অহরহ।

বড়দের সাথে বেয়াদবী করতে করতে মস্তবড় বেয়াদব হিসাবে চিহ্নিত হয়। মিথ্যা কথা বলতে বলতে সেরা মিথ্যাবাদী প্রমাণিত হয়। এভাবে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে খারাপ কাজের যেকোন চিহ্ন লেগে গেলে এবং তা যদি অব্যাহত থাকে তাহলেই সর্বনাশ।



আমরা অনেক সময় বলি, ওমুক ব্যক্তির পাপ বাতি হয়েছে। ফলে সে ধরা পড়েছে। ভিকারুন্নেছার পরিমল স্যার কিন্তু একদিনেই ছাত্রী নির্যাতন করেনি। তার চরিত্রে হয়ত: আরো অনেক নির্যাতনের দাগ রয়েছে। ফলে চুড়ান্ত জায়গায় এসে পরিমল স্যার ধরা পড়েছে। তার মানে পাপ বাতি হয়েছে। নেশার সাথে জড়িত ব্যক্তি কিন্তু হঠাৎ করেই বড় নেশার সাথে জড়ায়নি। ধীরে ধীরে বিভিন্ন স্তর অতিক্রম করেই কিন্তু নেশাগ্রস্থ হয়ে যায়। যেখান থেকে আর মুক্তি সম্ভবপর হয় না। এভাবে প্রত্যেকটা সেক্টরে এবং জীবনের প্রত্যেকটা মুহুর্তে কেউ যদি পাপের সাথে জড়িয়ে পড়ে। এই পাপের প্রায়শ্চিত করতে হবে জীবনের কোন না কোন সময়ে।

পাপের শুরু :
১. লোভ কিন্তু একটা মানুষের জীবনকে ধ্বংস করতে যথেষ্ট। কারন লোভের বিন্দুমাত্র ইচ্ছা থাকলে এই লোভ তাকে পাপের দিকে ধাবিত করে।
২. হিংসা থেকে জন্ম নেয় রেষারেষি। লোভের কারনে মানুষ কোন না কোন ভাবে ধ্বংসাত্মক কাজে লিপ্ত হওয়া।
৩. মিথ্যাকে যতক্ষণ পর্যন্ত জীবন থেকে মুছে ফেলতে না পারবো ততক্ষণ পর্যন্ত জীবনটা মিথ্যার সাথেই জড়িয়ে থাকবে।
৪. সকল চাহিদাকে নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে রাখতে পারলেই কিন্তু জীবনটা নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে। ছোট্ট একটা ইচ্ছা পূরণ করতে গেলেই অনেক সময় অবৈধ পন্থা অবলম্বন করতে হবে।
৫. যে ধর্মের হোক না কেন ধর্মীয় নিয়ম কানুন পালন করার মানসিকতা না থাকা। এইচআইভি'র ক্ষেত্রে যেমনটি পালন করা হয়।

সর্বশেষে একটা কথাই বলব, যেকোন খারাপ কাজ হোক সবসময় দূরে থাকতে হবে। পাপের সাথে জড়িয়ে গেলে কিন্তু আর ফেরার কোন উপায় থাকবে না। বিনষ্ট হবে যেকোন সুন্দর ভবিষ্যৎ। অর্থ কিন্তু সব কিছুর মানদন্ড নয়। অর্থ প্রাচুর্য কিন্তু অশান্তিরও কারন। তাছাড়া কেউ না কেউ পিতা-মাতার দোয়ায় পাপের কাজ থেকে দূরে থাকে। তাই চেষ্টা করতে হবে মান সম্মান নিয়ে বেঁচে থাকতে। পাপের ঘ্রাণও কিন্তু পাপের দিকে ধাবিত করে।



অনেক গল্পের মাঝে একটা ............... এক ব্যক্তির বিচার কার্য শুরু হয়েছে। তার আইনজীবি অনেক চেষ্টা করছে তাকে মুক্ত করতে। হত্যা মামলার আসামী হওয়ায় তার মক্কেলকে মুক্ত করতে ব্যর্থ হয়। যথারীতি ফাঁসির ঘোষনা হয়ে যায়। ফাঁসির রায় কার্যকর করার কয়েকদিন আগে উক্ত আইনজীবি আসামীর সাথে দেখা করতে যায়। আইনজীবি তার আপসোস আর কষ্ট নিয়ে বলে, আমি অনেক চেষ্টা করেও আপনাকে বাঁচাতে পারলাম না। আসলে বলেনতো আপনি কি সত্যি এই হত্যা করেছেন কিনা? আসামী তখন বলে ভাই আমি সত্যি করে বলি আমি এই হত্যা করিনি। তবে কেন যে আমি দোষী প্রমাণিত হলাম। হিসাবে মিলছে না এবং আপনিও আমাকে মুক্ত করতে পারছেন না। আসামী তখন তার আইনজীবিকে বলে, আমি আমার জীবনের একটা সত্য ঘটনা আপনাকে বলব। আমি এই হত্যা করিনি এটা সত্যি। তবে আমি জীবনে একবার একজনকে হত্যা করেছি কিন্তু সেই সময় আমি পার পেয়ে যাই। আমাকে হত্যাকারী প্রমাণ করতে পারেনি কেউ। আল্লাহর এটা বিচার যে, ঐ মামলায় হত্যাকারী হয়েও বেঁচে যাই। কিন্তু এখন হত্যাকারী না হয়েও আমি অভিযুক্ত, ফলে আমার ফাঁসি হবে।

কাজেই সত্য সবসময় সত্য। পাপ করা মানে হচ্ছে একটা বীজ রোপন করার সমান। যেই বীজ থেকে গাছ হবে, ফুল হবে, ফল হবে এবং নিজের ধ্বংস ঢেকে আনবে। পাপের শাস্তি ভোগ করতেই হবে ......... তাই সবসময় পাপকে ঘৃনা এবং পাপকে এড়িয়ে চলা উচিত।


সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে মার্চ, ২০১২ রাত ৯:৪২
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমার ডক্টর যেন বাঁচে ১৫০ বছর.....

লিখেছেন শায়মা, ১১ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪



ডক্টরস, হসপিটাল এবং ওষুধ এসব নিয়ে আমার তিক্ত অভিজ্ঞতার শেষ নেই। এ কারনে আমি একদম এদের কাউকেই পছন্দ করি না। তবে কিছু তো করার নেই। জীবনের নানা সময়ে ইচ্ছের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলা সাহিত্যে জায়গা পাচ্ছেন ওসমান হাদী

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১২ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:১৭


সংবাদপত্র যা বলছে
জাগো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১০ জুন ২০২৬ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যবই পরিমার্জন-সংক্রান্ত কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেকসহ... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, ক্রাউড ফান্ডিং-এর সুযোগ তৈরি করে সরকারী লাভজনক প্রজেক্টে জনগণের বিনিয়োগ নিন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১২ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:৩১

বাংলাদেশের বর্তমান সরকার বিনিয়োগ পরিস্থিতি নিয়ে চিন্তিত, তা বুঝা যাচ্ছে। নাহলে, খোদ প্রধানমন্ত্রী দেশে বিনিয়োগ নিয়ে আসতে জনগণকে অনুরোধ করতেন না। আমার মন হয়, দেশের মানুষের কাছেই অনেক সম্পদ আছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিএনপির আবালীপনা।

লিখেছেন তানভির জুমার, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮

বিএনপি ৫০ হাজার নাচের শিক্ষক নিয়োগ দিতে যাচ্ছে। যার পেছনে ১০ বছরে ব্যায় হবে ১৫ হাজার কোটি টাকা। যা দিয়ে ফুল প্যাকেজ ৩০ টি জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

×