somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রক্তিম সূর্যাস্ত

১৫ ই জানুয়ারি, ২০১৫ রাত ১১:০৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

Aolad Hossain Joy feeling রক্তিম সূর্যালোক লেগেছে মনে, ভালোবাসার অনুভূতি ছেয়ে আছে প্রাণে...


ভার্সিটি তে প্রথম দিন।
কেউ জানা শোনা নেই।
একা একা প্রথম দিন ক্লাস আসছি।

ভার্সিটির গেট দিয়ে ঢুকে আশেপাশে দেখে দেখে হাটছি।

কিছু বুঝে উঠার আগেই একটা মেয়ে আমার মুখে এক কাপ পানি ছুড়ে মারলো।
চোখ খুলে দেখি মেয়ে টা আমার দিকে তাকিয়ে আছে।

খুব রাগ হচ্ছে আমার।

মেয়ে টা চোখ দিয়ে ইশারা করে কয়েকজন সিনিয়র স্টুডেন্টস কে দেখিয়ে দিলো।

পরক্ষণেই সব বুঝে গেলাম।

মেয়েটা চাপা গলায় সরি বলল।
আমিও " it's ok" বলে চলে গেলাম।

সেদিনের মতো মেস এ ফিরে এলাম।
রাতে খাওয়া শেষে বসে আছি হঠাৎ মেয়ে টার কথা মনে পড়লো।

পরের দিন আবার মেয়ে টাকে দেখেছি তবে দূরে থেকে।

ইদানিং ওকে প্রাই ফলো করি।

আজ সোমবার। ক্লাস এ যাওয়ার জন্য বাহির হইছি।
একটু লেট হয়ে গেছে।
রিক্সাও পাচ্ছি না।
একটু মানুষিক চাপ লাগছে।

একটা একটা করে রিক্সা গুলো আসছে আর চলে যাচ্ছে।

সেরকমই একটা রিক্সায় সেদিনের ঐ মেয়ে টা আসছিলো।
আমি তাকিয়ে ছিলাম। কিছু বলার কোন ইচ্ছা ছিলো না।

রিক্সা টা আমার সামনে এসে দাঁড়ালো।

(মেয়েটা মিষ্টি কন্ঠে বলল)
_রিক্সার জন্য অপেক্ষা করতেছেন?

>জি।

_কিছু মনে না করলে, আমার সাথে আসতে পারেন।

>আমি একটু অবাক হলাম। আবার দেরিও হয়ে যাচ্ছিলো। তাই ঘার নারিয়ে সায় দিলাম।

(এবার সে একটু সরে বসে আমায় যায়গা দিল।
আমি নম্রতার সাথে উঠে বসলাম। কিছু বলছিনা।)

আবার সে বলল,
_আমি ঈশাত। BBA 1st year.

>আমি জয়। department of mathematics. same year.

_ওহ্।

>হুম।

(এভাবে কথা বলতে বলতে ভার্সিটি পৌছে গেলাম।)
আমার কোন ফ্রেন্ড ছিলনা। আসতে আসতে ঈশিতার সাথে নিয়মিত কথা হতে থাকে, দেখা হতে থাকে।
ফেসবুক এ ফ্রেন্ড হই।
রাত জেগে chat করি।
অনেক ভালো বন্ধুত্ব হই।

শরতের এক শান্ত বিকেলে আমি ওকে ফোন করি।

_হ্যালো,

>হ্যা, কই তুমি?

_বাসায়।

>একটু দেখা করতে পারবে?

_কোন কাজ আছে।

>আছেতো। ভাবছি,
আজ তোমায় নিয়ে ছুটে চলা মেঘের ভেলায় ভাসবো।
নীল আকাশে তোমায় নিয়ে অজানা পথে হারাবো।
দিনের শেষে উরতে উরতে
আপন গৃহে ফিরবো।

_কি বেপার? ম্যাথ ছেড়ে সাহিত্যে মননিবেশ করলে নাকি?

>আমি অপেক্ষা করছি। তাড়াতাড়ি আসো।

_কোথায়?

>কোথায় আবার? প্রতিদিন যেখানে দেখা করি।

(আমি ওর জন্য অধির আগ্রহে অপেক্ষা করছি।
কিছুক্ষণ পর ও আসলো।)

_কি বেপার? এতো তাড়া করে ডাকছো যে? বিশেষ কোন কারন?

>হুম। খুব স্পেসিয়াল।

_তো কি, শুনি!

(দূরে কাঁশবনের দিকে ওকে তাকাতে বললাম।)
>ঐ দেখো। আজকের দিনের সূর্যাস্ত হচ্ছে।

_হ্যাঁ, তো?

>আর, তুমি আমার পাশে আছো।

_ তুমি এটা দেখানোর জন্য আমায় এখানে ডেকে আনলে?

>না, একটা কথা বলার জন্য।

_কি বললে বলো।

>আমার জীবন সূর্য অস্তমিত হওয়ার পুর্ব মূহুর্ত পর্যন্ত এভাবেই আমার পাশে থাকবে?

(আমার চোখের দিকে তাকিয়ে ও কিছুক্ষণ নিশ্চুপ হয়ে থাকলো)

_তুমি কখনই সোজা কথা বলতে পারো না?

>অভ্যাস নাই। তুমি তো জানোই।

_এখন থেকে অভ্যাস করো।
তানাহলে ১০০ বার কান ধরে উঠা বসা করাবো।

>১০০ বার? অনেক কষ্ট পাবো।

_আচ্ছা করাবো না।

>তোমার হাত ধরি?

_কেনো?

>এমনিতেই?

_না, ধরবানা।

>ওহ, সরি। ঠিক আছে। ধরবোনা।

_পাগল! ধরো।
মেয়েদের হাত ধরার আগে জিজ্ঞেস করতে নেই।

.....আমি ঈশিতার হাত দুটো আমার হাতে নিলাম।
দুজনে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে আছি।
আর একটা সূর্যাস্ত হয়ে যাচ্ছে।
আর একটা দিন শেষ হয়ে যাচ্ছে।

আজ দুটো জীবন ঘনিভূত হচ্ছে। দুটি মন, মনের মানুষ খুঁজে পেলো।
সূর্যের লাল আভা এখনো সন্ধা আকাশে ভাসছে।

ভালোবাসার বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া দুটি হৃদয়ে সেই লাল ছুয়ে দিচ্ছে প্রতিটি পরতে পরতে।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বিয়োগের রূপকথা

লিখেছেন ইসিয়াক, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৩



মা বরাবরই পাতে ভাত কম নিতো , বলতো- ভাতে না-কি  বাত বাড়ে।
বিশেষ বিশেষ দিনে বাড়ি পোষা মোরগের ঝোল কিংবা রুই মাছের তরকারীর সবটুকু  আমাদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

দৃষ্টিকটু পোশাক ও দৃষ্টিকটু আচরণ

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৪



আপডেট - হাফপেন্ট আন্দোলন: ৩০/০৯/২০২৬
হাফপেন্ট পরে মেট্রো ট্রেন ও বাসে চলাচল বাংলাদেশের একটি নাগরিক চাহিদা হতে পারে। যেহেতু সমস্যা মেট্রোতে হয়েছে, আমি ধারণা করেছি বাংলাদেশে ফেসবুকে “হাফপেন্ট আন্দোলন” হওয়ার সম্ভবনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

কঠিনতম সব চ্যালেঞ্জের মুখে বিএনপির ভবিষ্যৎ কি অন্ধকার??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:১০



বিএনপির সামনে অনেক কঠিন সব চ্যালেঞ্জ...

তাদের মোকাবেলা করতে হচ্ছে দ্বিমুখী বিরোধী-দলীয় রাজনীতি বা কর্মকাণ্ড (যেটা কিনা বাংলাদেশের রাজনীতিতে আগে কখনো দেখা যায়নি)।

জামাত-এনসিপি যতই লীগের ফিরে আসার বিরুদ্ধে বিএনপির... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার নানা মরহুম শাহাবুদদীন মাহমুদ জায়গীরদার

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৯:২৫



আমার আম্মার সেঝ চাচা’র লেখা ‘My life is not mine’ বইটি পড়ছি। বইটিতে ‘মাইজম ভাই’ নামের একটি অধ্যায় আছে। এতে সেঝ নানা আমার নানার বিভিন্ন সত্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

মৃত্যু পেরিয়ে আবার ব্লগে------

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ৩০ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:০৬




প্রায় ০৩ মাস হয়ে গেলো ব্লগে আসনা হয় না, আসা হয়না মানে লিখা হয়না। প্রিয়জনের মৃত্যু শোক কাটিয়ে ব্লগে উকি দেওয়া হয় কিন্তু পোস্ট দেওয়া হয় না।


গত... ...বাকিটুকু পড়ুন

×