somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অভিযোগহীন অপরাধ

২৪ শে এপ্রিল, ২০১৮ সন্ধ্যা ৬:২৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কয়েকদিন ধরে তোমার জিদ বেড়েই যাচ্ছে। এমন কেন করতেছো? একটু সময় দেও আমায়। (কথা গুলো বলতে বলতে ফোনের ওপাশেই ফুঁপিয়ে কাঁদছে তুষ্টি)
শুনে একটু মায়া হলো।
কিন্তু কেনই বা তার এতো অসম্মতি! আবারো জেকে বসলাম।
_শোন তুষ্টি, আমি কিছু শুনতে চাইনা। কালকে আমাদের মিট হচ্ছে এটাই ফাইনাল।
.
=আচ্ছা। (কিছুক্ষণ নিরব থেকে)
.
ফোন টা রাখলাম।
চেয়ারেই বসে আছি।
মেয়েটা ভালই আছে।
ফিরোজ দোস্ত আমার ভালোই মেয়ে খুঁজে পাইছিলো।
তাতে আর কি এখন তো সে শুধুই আমার। আর কালকের পর থেকে তো সব ইচ্ছাই পূরণ হতে যাচ্ছে।
.
.
পরদিন বিকেল।
আমি রুমটা যতোটুকু পারছি গুছিয়ে নিছি। এমনিতে তো গোয়াল ঘর হয়ে থাকে।
.
সে আসলো।
নরমাল হায়, হ্যালো করে বসতে বললাম তাকে। আমার এই ভদ্রতা চরম শেখরে উঠেছে আজ।
.
পাশাপাশি বসে দুজনে।
তাকে একটু বিস্মিত লাগছে।
আমিও একটু ভীতি প্রদর্শন করতেছি।
আরও কাছে বসলাম ওর।
বক্সে হালকা সাউন্ডে আতিফ আসলামের গান বাজতেছে।
তুষ্টির একটা হাত আমার হাতে নিয়ে ওর চোখে চোখ রেখে নিজের মধ্যে থাকা এক স্বাভাবিক গোপনীয় আকাঙ্খাকে তার সামনে প্রদর্শন করতেছি।
বিকেলের প্রায় শেষ ভাগ।
পশ্চিম আকাশে ঢলে পড়া সূর্যরশ্মি এখন তির্যক ভাবে আলো ছড়াচ্ছে আর সেই আলো জানালার কাচ ভেদ করে ওর গালে এসে পরছে।
.
একটা শান্ত বিকেল,
মানবশূন্য অবস্থান,
চিরায়ীত আকাঙ্ক্ষা,
একজোড়া যুবক-যুবতীর অন্তরঙ্গতা!
খুব সহজেই একটা পরিচিত গোপনীয়তা কে উপস্থাপন করে। যাতে প্রদর্শিত হয় কারো বাধ্যবাধকতা, অসহায়ত্ব আর কারো স্বৈরাচারীতা, বিলাসিতা।
.
(কয়েক ঘন্টা পর)
যাই হোক।
আজকের বিকেল টা খারাপ ছিলো না, আই ওয়াজ ইনজয়েড।
এসব ভাবতেছি আর টিভি দেখি।। তখনি আমার সেই বন্ধুর ফোন কল।
বন্ধুঃ কিরে? আমার দান করা খাবার খাইলি অথচ কোন খবরই জানালি না।
.
আমিঃ ভাবছিলাম একটু পরে কল দেবো তোরে। তার আগে তুই দিলি।
.
->তো, কেমন ছিলো সে?
.
_জোস! তোর পছন্দ আছে বন্ধু।
.
->তাই? মুভি কবে দেখবো? পার্টি কবে দিচ্ছিস?
.
_খুব শিগ্রই।
.
->তুই আসলেই একটা জিনিস দোস্ত। কেমনে পারিস! কেমনে দোস্ত!
.
_লাক! বুঝলি? সব লাক! আচ্ছা, মেয়ে টা তো সুন্দর ছিলো। তুই আমার পিক দিয়ে চ্যাট করলি কেন? তুই চাইলে নিজেই সিস্টেম করতে পারতি।
.
->ধুর, যে মেয়ে এতো সহজে এসব করে সে তো পঁচে যাওয়া মেয়ে।
.
_না রে। মেয়ে টা যথেষ্ট ভালো। এটা তার ফার্স্ট টাইম।
.
->হাহাহাহাহাহা....
.
_হাসিস কেন?
.
->তো তুই বলতি যে এটা তোর ১৯তম।
.
_হাহাহাহাহা.....
.
->হাহাহাহাহাহাহা......
.
দুইজন পুরুষের পৈচাসিক অট্টহাসি তে একটা মেয়ের নিরব মানহানি।
অসতর্কতা ও উষ্কানীতে নিজস্বতার বলিদান।

.
.
.
Off Topic: কাহিনী তে একটা পঁচে যাওয়া মেয়ের কথা বলা হয়েছে। হ্যাঁ, সে পঁচে যাওয়া। কিন্তু তার এই পঁচনের পিছনে কিন্তু ব্যাক্টেরিয়া হিসেবে একটা ছেলেই ভূমিকা রেখেছে। কিন্তু দিনশেষে তো তাকেই সকল অপমান আর লাঞ্চনা সইতে হবে। এতে কি শুধুই মেয়েটার অপরাধ!
.
.
ব্যক্তিগত মতামতঃ "দুনিয়াতে লাখো-কোটি অসতী মেয়ে থাকতে পারে, কিন্তু একজনও অপবিত্র মা নেই।"
তাই সম্মান রক্ষা করুন।
নিজের।
অপরের।
সবার!তো, কেমন ছিলো সে?
.
_জোস! তোর পছন্দ আছে বন্ধু।
.
-
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে এপ্রিল, ২০১৮ সন্ধ্যা ৬:২৯
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা: (দ্বিতীয় পর্ব)

লিখেছেন মৃত্যুঞ্জয়, ২৯ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ২:০০

কোথায় হারিয়ে যাচ্ছে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম?

দ্বিতীয় পর্ব: মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার বিভাজন এবং অসম প্রতিযোগিতা

একটি শিশুর শিক্ষাজীবন শুরু হয় প্রাথমিক স্তর থেকে। কিন্তু মাধ্যমিক পর্যায়ে পৌঁছানোর পর থেকেই শুরু... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেবদাস, কালজয়ী উপন্যাস এবং চিত্রনাট্যের পটভূমি

লিখেছেন মেহবুবা, ২৯ শে জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:২৮


প্রথম ১৯২৮ সনে নির্বাক "দেবদাস" মুক্তি পায় ফনী বর্মা এবং তারকবালা অভিনীত ছিল সেটি। এরপর প্রমথেশ বড়ুয়া এবং যমুনা বড়ুয়া অভিনীত সবাক দেবদাস মুক্তি পায় ১৯৩৫ সনে। তারপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে হৃদয় বিলিয়ে দেয়, বিশ্ব চরাচরে

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ২৯ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১:৪৩




যে হৃদয় বিলিয়ে দেয়, বিশ্ব চরাচরে
শান্ত গৌরবে, সেই আত্মারা কোথায় বেঁচে রয়।
দয়ার প্রতিটি বীজ সর্ন্তপণে বপন করা হয়,
সপ্তাকাশে উজ্জ্বল ফসল তবে অবধারিত রয়।

সাত আকাশের চরাচরে , ছায়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কেমনের দিনে

লিখেছেন শাওন আহমাদ, ২৯ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৫



মাঝেমধ্যেই মনের ক্যানভাসটা কেমন যেন বিবর্ণ হয়ে যায়। পৃথিবীর সমস্ত রং হারিয়ে যায় অচেনা পথের বাঁকে। কোনো সংকেত ছাড়াই একরাশ এলোমেলো বিষণ্ণতা এসে জেঁকে বসে মনের কার্নিশে। চারপাশের চেনা জগৎটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

"দুষ্টের দমন শিষ্টের পালন"- হলো একটি সনাতন নীতি...

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৯ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



"দুষ্টের দমন শিষ্টের পালন"- হলো একটি সনাতন নীতি, যার অর্থ খারাপ বা অন্যায়কারীকে শাস্তি দেওয়া এবং ভালো বা সৎ মানুষকে রক্ষা করা। এটি মূলত সমাজে শান্তি ও ন্যায়বিচার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×