somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

Project Calculator

২৯ শে এপ্রিল, ২০১৮ রাত ৯:৩৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সকাল ৮ টা থেকে ১ টা পর্যন্ত ক্লাস করে আর মন চায় না ৪ টায় আবার ল্যাব ক্লাসে যাই। যদিও এমন নির্যাতন সহ্য করেই জীবন চলতেছে বহু বছর ধরে। কিন্তু এবারের বিষয়টা একটু ভিন্ন। বর্তমান পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে প্রোগ্রামিং না জানা বা কোডিং না পারা টা একটা উচ্চমাধ্যমিক অপারগতা। তাই সুযোগ পেয়ে সেটা আর হাত ছাড়া না করে মন ভরা অনিচ্ছাসত্ত্বেও সময় মতো ল্যাবে চলে আসি।
যাই হোক অনেক অজানার ভিড়ে আসতে আসতে কোডিং এর ABC থেকে শিখতে শুরু করেছি।
প্রথম দিকের প্রজেক্ট গুলো যেমন হয় আর কি!
তো আমরা ভিজুয়াল ব্যাসিকে ক্যালকুলেটর বানালাম। দেখি সে ক্যালকুলেটর কাজ ও করে। অনেক ভুলভ্রান্তির পরে এমন ক্ষুদ্র সফলতা রীতিমতো আনন্দ দেয়।
কাজ শেষ করে নিজেই নিজেকে বলতেছি, "ক্যালকুলেটর তো বানালাম, হিসাব করবো কি! টাকাই তো নাই।"
তৎক্ষণাৎ, পাশে বসে থাকা দবির বলে উঠলো পাশেই তো ব্যাগভর্তি টাকা, বের করে হিসাব করা শুরু করে দে।
প্রথমে বুঝতে না পারলেও পরে ওর ইশারায় পিছনে তাকিয়ে দেখি দুইটা সাইড ব্যাগ। অবশ্য সেগুলো আপুদের। মানুষ যেমন নিজের কলিজা সবসময়ই সাথে সাথে রাখে, তেমনি ব্যাগ গুলোর ক্ষেত্রে তারা একই কাজ করে। তাই মনে হলো ব্যাগভর্তি টাকা থাকলেও থাকতে পারে। প্রথমে দবিরের কথায় কান না দিলেও, পরে অন্য পাশে থাকা নিঠু গুরুর যোগানো ইন্ধন আর উপেক্ষা করতে পারলাম না।
এবার ঠিক করে ফেললাম, "কি আছে ব্যাগের ভিতর সেটাই দেখবো।"
শুরু হলো আমাদের ফন্দি আর্ট করা, প্লান করা, অভিযানে নামার বিশেষ প্রয়াস। অভিযানের নাম রাখলাম "Project Calculator"!

ব্যাগের পিছনেই ব্যাগের মালকিনরা বসে।
যা করতে হবে, সাবধানে!
যেহেতু ব্যাগগুলোর কাছাকাছি আমিই ছিলাম, তাই সেগুলো তে অনুসন্ধান চালানোর গুরু দায়িত্ব এসে পড়লো আমার ঘাড়ে।
মাশাল্লাহ্! আল্লাহ দিছে দুইটা লম্বা লম্বা হাত।
ক্লাসভর্তি শিক্ষার্থীর মাঝে এখন আমার নজর শুধুই ব্যাগগুলোর দিকে।
অবশেষে বুকভরা সাহস নিয়ে হাত দিলাম ব্যাগের ভেতর।
কিন্তু এ কি?
টাকা কই?
প্রথমে হাত পড়লো একটা পানির বোতলে, তবে বোঝা যাচ্ছিলো তার ৯৫% ই খালি।
বুকের ভেতর হতাশা পাখা ঝাপটিয়ে উঠলো। হাত টা আর একটু সরিয়ে দিলাম।
আউচ!
কি যেনো একটা আঙ্গুলে বিঁধেছে।
শুধু চিৎকার দিতে পারলাম না। ব্যথায় আমার কুনুই পর্যন্ত কাঁপতে শুরু করলো।
.
এই পর্যায়ে হাত টা বের করে, এসে আগে নিঠু কে ঝারি মারা শুরু করলাম। শালার গুরু, কি সব অভিযানে পাঠায় আমায়।
যাই হোক, নিঠু আর দবির আবার আমার উৎসাহ জোগালো। আবার মিশনের ২য় ধাপের অভিযানের উদ্দেশ্যে এগিয়ে যাচ্ছি।
ক্লাস জুড়ে সবাই তখন কম্পিউটারের মনিটরে নজর দিতে ব্যস্ত। শুধু আমি অভাগা আছি "ব্যাগতত্ত্ব" আবিষ্কারে।
.
আবার হাত দিলাম ব্যাগে। এবার মনে হচ্ছে চুলের ব্যান্ডে হাত পরেছে। কিন্তু তা দিয়ে আমি কি করবো, ব্যান্ড দেওয়ার মতো চুল তো আমার মাথায় নাই।
তাই হাত সরালাম আবার। এবার মনে হচ্ছে কাঙ্খিত কিছু একটাতে হাত পরেছে।
স্পর্শের অনুভূতি টা স্লিপি, মসৃণ! বুঝে উঠতে পারলাম না কি সেটা। তাই আসতে করে বের করে আনলাম। কিন্তু কষ্ট লাগলো যখন দেখলাম আসলে সেটা আর কিছু না, চকলেটের প্যাকেট ছিলো।
ধ্যাৎ! মন টাই খারাপ হয়ে গেলো। ব্যাগে তো দেখি কিছুই থাকেনা।
বুক ভরা হতাশা নিয়ে আমি আমার কম্পিউটারের মনিটরে তাকিয়ে পরবর্তী প্রজেক্টের কাজে মনোনিবেশ করলাম।
.
.
তবে "Project Calculator" থেকে এটা বুঝলাম, একই শ্রেণীকক্ষে ক্লাস করা আপুরা রাগী হতে পারে, সুন্দরী হতে পারে, অনেক রক্ষণশীল হতে পারে, ঝগড়ুটেও হতে পারে।
আর হ্যাঁ, টোকাই ও হতে পারে।
(নইলে কি আর চকলেটের খোসা ব্যাগে নিয়ে কেউ ক্লাস করে!)
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে এপ্রিল, ২০১৮ রাত ৯:৩৮
২টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা: (দ্বিতীয় পর্ব)

লিখেছেন মৃত্যুঞ্জয়, ২৯ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ২:০০

কোথায় হারিয়ে যাচ্ছে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম?

দ্বিতীয় পর্ব: মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার বিভাজন এবং অসম প্রতিযোগিতা

একটি শিশুর শিক্ষাজীবন শুরু হয় প্রাথমিক স্তর থেকে। কিন্তু মাধ্যমিক পর্যায়ে পৌঁছানোর পর থেকেই শুরু... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেবদাস, কালজয়ী উপন্যাস এবং চিত্রনাট্যের পটভূমি

লিখেছেন মেহবুবা, ২৯ শে জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:২৮


প্রথম ১৯২৮ সনে নির্বাক "দেবদাস" মুক্তি পায় ফনী বর্মা এবং তারকবালা অভিনীত ছিল সেটি। এরপর প্রমথেশ বড়ুয়া এবং যমুনা বড়ুয়া অভিনীত সবাক দেবদাস মুক্তি পায় ১৯৩৫ সনে। তারপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে হৃদয় বিলিয়ে দেয়, বিশ্ব চরাচরে

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ২৯ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১:৪৩




যে হৃদয় বিলিয়ে দেয়, বিশ্ব চরাচরে
শান্ত গৌরবে, সেই আত্মারা কোথায় বেঁচে রয়।
দয়ার প্রতিটি বীজ সর্ন্তপণে বপন করা হয়,
সপ্তাকাশে উজ্জ্বল ফসল তবে অবধারিত রয়।

সাত আকাশের চরাচরে , ছায়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কেমনের দিনে

লিখেছেন শাওন আহমাদ, ২৯ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৫



মাঝেমধ্যেই মনের ক্যানভাসটা কেমন যেন বিবর্ণ হয়ে যায়। পৃথিবীর সমস্ত রং হারিয়ে যায় অচেনা পথের বাঁকে। কোনো সংকেত ছাড়াই একরাশ এলোমেলো বিষণ্ণতা এসে জেঁকে বসে মনের কার্নিশে। চারপাশের চেনা জগৎটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

"দুষ্টের দমন শিষ্টের পালন"- হলো একটি সনাতন নীতি...

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৯ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



"দুষ্টের দমন শিষ্টের পালন"- হলো একটি সনাতন নীতি, যার অর্থ খারাপ বা অন্যায়কারীকে শাস্তি দেওয়া এবং ভালো বা সৎ মানুষকে রক্ষা করা। এটি মূলত সমাজে শান্তি ও ন্যায়বিচার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×