somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একজন জিয়া, ভিশনারী জিয়া এবং খাল কাটা কর্মসূচী, পুনরুদ্ধারও বলা চলে

২৬ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১০:৩০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

যে কোন কিছুরই পরিচর্যার প্রয়োজন হয়। হোক সেটা মানুষ, হোক পশুপাখি, হোক রাস্তাঘাট, হোক খাল-নদী-বিল।

আমরা কৃষকের প্রয়োজনে, বিশেষ করে সেচের প্রয়োজনে, খাদ্য উৎপাদন দ্বিগুণ করার লক্ষ্য নিয়ে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের খাল কাটার কর্মসূচীর কথা জানি, বহুলভাবে এটা প্রচার হয়েছে। বলা চলে জিয়াউর রহমানের আইকনিক কর্মসূচী ছিল এটি।



যদিও আমাদের দেশে খাল অনেক আগে থেকেই কাটা হয়েছে অনেক, যখন নৌ যোগাযোগ ছিল, নদীমাতৃক বাংলাদেশে নদীপথে যাবার পরে গ্রামাঞ্চল পর্যন্ত পৌঁছাতে খালই প্রয়োজন হতো। এরকম একটি খাল আমার পূর্বপুরুষরা কেটেছিলেন আমাদের গ্রামের বাড়ির চারপাশ ঘিরে, যেটার বিস্তৃতি মেঘনা নদী পর্যন্ত, কুমিল্লার বিভিন্ন খালের সাথেও এর কানেকশান আছে, নাম রমুঠাকুর খাল।

আমাদের ছোটবেলায়ও এ খালকে অনেক সচল দেখেছি, প্রায় ৩০০/ ৪০০ বছর আগের খাল। অনেক উচুঁ উঁচু পোল/ ব্রীজ ছিল এর উপরে, যার নিচ দিয়ে নৌকা যেত, বিবাহিত মেয়েরা নাইওরি আসতো, জমিদাররা চলাচল করতো ময়ূরপঙ্খী নাওয়ে, ব্যবসায়ীরা গঞ্জে মালামাল পৌঁছাতো, খালের পাশ দিয়ে মাটির রাস্তা দিয়ে চলে গেছে।

সেই রাস্তাগুলো আজ পাকা হয়েছে, রিকশা হয়েছে অটোরিকশা। রিকশাগুলো অনেক উঁচু পোল-এ উঠতে গেলে আমাদের রিকশা থেকে নামতে হতো, কালের বিবর্তনে পোলগুলো নামানো হয়েছে, মালামালবাহী পাল তোলা নৌকা আর নেই!

খালও অনেক জায়গায় দখল হয়ে গেছে। সবার মনে একটা বিবেচনা, সেচের জায়গায় খাল আছে, সেখানে পানি আছে। রাস্তার পাশে খাল আর দরকার নেই! দোকানপাট উঠে গেছে, অনেক জায়গায় কালভার্ট নির্মাণ না করেই মাটির রাস্তা তৈরী করা হয়েছে বাড়ি ঘরে যাবার জন্য, অনেক জায়গায় বাড়ির উঠান তৈরী করা হয়েছে। খাল শুধু জমির পাশ দিয়ে বহমান।

এসব দেখে যা বোঝা গেল খালের প্রয়োজন বলতে এখন শুধু সেচই ভাবা হচ্ছে। বর্ষাকালে যে জলাবদ্ধতা তৈরী হয়, অতিবৃষ্টি বা বন্যার সময় দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থাও যে এই খাল, সেই বিবেচনা আর রাখাই হয়নি! দুই বছর আগে ফেনীর আকস্মিক বন্যায় এর কুফল দেখা গিয়েছিল। আবার, অনেক জমির আইল উঁচু করে দেয়া থাকে, সেচের পানি ধরে রাখার জন্য। বন্যার পানি সরতে না পারার এটাও একটা বড় কারণ।

তাই প্রতিটি জমিতে বর্ষাকাল আসার আগেই আইল কিছুটা কেটে জাল দিতে বেঁধে রাখলে ভাল, অনেকে সেই মাছ চাষও করে, এটা বর্ষার আগে আগে করলে ভাল।

আর খাল যে পরিচর্যা করতে হবে, এটা যেন কেউ চিন্তাও করতে পারে না! এই সরকার এসে এবার সেটাই শুরু করেছে। খাল পুনঃখনন!
এর সাথে সাথে খালের পাড় দিয়ে ঘাস লাগাতে হবে, যাতে মাটি ধুয়ে আবার খালে না পড়ে। পাড়ে ছোট ছোট গুল্ম জাতীয় গাছ লাগাতে হবে, একসময়ে প্রচুর ধইঞ্চা গাছ লাগানো হয়েছিল। এবার অবশ্য আমরা ভাবছি অনেক অনেক ঔষুধি গাছ লাগানো যেতে পারে, বাসক, তুলসী, নিম ইত্যাদি ইত্যাদি। একসময়ে রাস্তা বা খাল পাড়ে ছোট ছোট বন্য ফুল গাছও লাগানো হতো, সেরকম ঔষধি জবা বা অন্যান্য দৃষ্টিনন্দন ফুল গাছও লাগানো যেতে পারে। ফল গাছও হতে পারে, বা এরকম যেকোন গাছ। হতে পারে প্রজাতি হারিয়ে যাচ্ছে, এমন সব গাছ লাগানো, হারানো ঐতিহ্য ফিরে পাবার মতো!

মিঠামইন অষ্টগ্রাম ভ্রমণে গিয়ে দেখলাম, খাল পাড়েই বাড়ির পেছন সাইড, মানে টয়লেটের পেছন সাইডের আউটলেট খালেই পড়ছে! টিউবওয়েলের ব্যবহৃত পানির ড্রেনও তাই! এটা গতকাল মেঘনার পাড়েও দেখলাম! নদী বা খালের দূষণ এভাবেই চলমান!

ঢাকার বুড়িগঙ্গার দূষণের চিত্রের কথা নতুন করে আর নাই বা বললাম! বিস্তর বলা হয়েছে এই নিয়ে! কিছুতেই কিছু হচ্ছে না!

ঢাকার খালগুলো পরিষ্কার করা হচ্ছে, দেখে ভাল লাগে! তবে পানিশোধনের কিছু উপায় প্রয়োগ করতে হতো। বাপার এক কনফারেন্সে দেখলাম গুলশান লেকের পানির কি পরিমান দূষণ পরিস্থিতি!

সবশেষ কথা হলো, জিয়াউর রহমানের এই শ্যাডো উপস্থিতি, আমরা যারা জিয়াকে দেখিনি, তাঁকে অনুভব করছি। উনার প্রতি মানুষের যে ভালোবাসা, শ্রদ্ধা, আস্থা, আশা, সেটারই ঝিলিক দেখছি কৃষকের চোখে মুখে!

আর টেকসই উন্নয়নের নতুন ধারার আমরা যারা তরুণ প্রজন্ম, তারাও এতে আশার আলো দেখতে চাই!

সবাই ঈদ পরবর্তী স্বাধীনতা দিবসের শুভেচ্ছা!
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১০:৩৩
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ট্রাম্প কি ভেবেছিল? "সর্দার খুশ হোগা? সাবাশি দেগা?"

লিখেছেন মঞ্জুর চৌধুরী, ২৫ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৫৮

ইরান যুদ্ধ নিয়ে কিছু বলি।
আমি সাধারণ সত্য যা ঘটছে সেটাই বলি। মিথ্যা প্রোপাগান্ডা, সেটা যে পক্ষেরই হোক, আমার শেয়ার করতে ভাল্লাগে না।
একটা সময়ে আমেরিকা নিজের এয়ারফোর্স এবং নেভি... ...বাকিটুকু পড়ুন

মিত্রের তালাশ ও মিত্রতা তৈরিঃ প্রসঙ্গ আমাদের জাতীয় ও রাজনৈতিক জীবন

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ২৫ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১০:৩৩



বাঙলায় পাওলো কোয়েলহোর সর্বাধিক বইয়ের অনুবাদক হিসেবে দেখেছি তিনি তাঁর প্রায় সকল বইয়ে একটা জিনিসকে খুব গুরুত্ব দিয়েছেন। সেটা হলোঃ মিত্র তালাশ করা বা তৈরি করা। এই জিনিস আমাদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইউনুস সাহেব আমেরিকার কাছে দেশ বিক্রি করে দিয়েছেন ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৬ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১২:৫০


রমজান মাসের শেষ দিককার কথা। আব্বা-আম্মার সঙ্গে ইউনাইটেড হাসপাতালে গেলাম নানাকে দেখতে। মায়ের দিকের এই আত্মীয়র হার্টে চারটা রিং বসানো হয়েছে, কিন্তু কেবিনে ঢুকে বুঝলাম তার জবান এখনো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আল কোরআনের ১১৪ সূরায় হানাফী মাযহাবের সঠিকতার অকাট্য প্রমাণ (পর্ব-১)

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২৬ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ৮:০৪



সূরাঃ ১ ফাতিহা, ১ নং থেকে ২ নং আয়াতের অনুবাদ-
১। সমস্ত প্রশংসা জগৎ সমূহের প্রতি পালক আল্লাহর।
২। যিনি অনন্ত দয়াময়, অন্তহীন মেহেরবান।

সূরাঃ ১ ফাতিহা,... ...বাকিটুকু পড়ুন

সর্বনাশ

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৬ শে মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১:৫২



আমি কবিতা লিখতে পারি না।
আসলে আমি কোনো কিছুই সাজিয়ে গুছিয়ে লিখতে পারি না। আমার লেখা মানেই এলোমেলো এবং অগোছালো বিশ্রী রকম। মাঝে মাঝে লোভ হয়, কবিতা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×