somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ডাক্তারের গায়ে হাত তোলার আগে নিজে কি করেছেন সেটা একবার ভাবুন!

২৫ শে মে, ২০১৫ রাত ৮:৫৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

স্বাস্থ্য; এমন একটি বিষয় যাতে সমাজের প্রতিটি খাত ও খাতের মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত।

অথচ, স্বাস্থ্যবিষয়ক যেকোন বাজে অকারেন্সের শিকার একমাত্র আমাদের ডাক্তারদেরই হতে হচ্ছে।
বাকি সবাই যে যার দায়িত্বে অবহেলা বা উদাসীনতা দেখিয়ে আমাদের কাঁধে দোষ চাপাচ্ছে, নিজে ও সাথে নির্লজ্জের মত মজা নিচ্ছে!

*আপনি একজন রাজনৈতিক নেতা।

আপনি আপনার এলাকার জনসভায় চিৎকার করে বলেন,"ঘরে ঘরে ডাক্তার পৌছে দিয়েছি, আপনারা সেবা পাবেন।"

তা জনাব, ডাক্তার দিয়েছেন, তার বসার জায়গা দিয়েছেন তো? কাজ করার পরিবেশ কেমন? নিরাপত্তা কি আছে তার?? থাকার জায়গা কি আছে, বাস করা কি যায়? যাতায়াতের কি ব্যবস্থা?? ঔষধ পর্যাপ্ত পরিমানে সাপ্লাই দিয়েছেন কি? প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যবস্থা কি করেছেন?

এগুলা কিছু নিয়ে আপনার মাথাব্যথা নাই। কারন বলদ জনগন আপনার বড় বড় বুলি শুনে সিল মেরে দিয়েছে, আপনাকে এখন পাওয়া যাবে অন্যকোথাও।

অথচ, বাস্তবসম্মতভাবে পরিকল্পনা প্রনয়ন করার কথা ছিল আপনার। ঘরের দরজায় ডাক্তার পাঠানোর প্রতিস্রুতি না দিয়ে আপনার বলা উচিত ছিল, আপনাদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে যা যা করা প্রয়োজন, আমি তাই করব।

*আপনি সরকারী আমলা?

বিভিন্নভাবে স্বাস্থ্যখাতের দুর্নীতিতে আপনার জড়াজড়ি। স্বজনপ্রীতি দেখিয়ে সুবিধামত নিয়োগ দেন, কাজ দেন কন্ট্রাকটারকে, আমাদের হাস্পাতালগুলো পড়ে থাকে ভাংগাচোরা, রুগ্ন। কোন বরাদ্দ পরিমানমত, ঠিকমত, সময়মত পৌছে না।

অথচ, এই খাতের সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাওয়ার কথা। আপনি নানাভাবে কোয়ালিটি কম্প্রোমাইজ করে, ডাক্তারদের কাছে দাবী করেন কোয়ালিটি সেবা! তা বাতুলতা মাত্র।

*আপনি বড় ব্যাবসায়ী।

পন্য আনছেন, টাকা কামাবেন। মেশাচ্ছেন ভেজাল, শিশুখাদ্য থেকে পশুখাদ্যে পর্যন্ত। কার কিডনী লিভার নস্ট হল এটা আপনার মাথাব্যথা না।

অথচ, এতগুলো মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি আপনি খেলতে পারেন না। মানুষকে আধমরা করে আমাদের হুংকার দেন, ব্যাটা বাচাতে পারলি না কেন? আপনার ৫ তারা হাসপাতালে নিয়ে ডাক্তারদের ঢাল হিসেবে ব্যাবহার করে অসুস্থ মানুষগুলোকে নি:স্ব করতে আপনার একটুও খারাপ লাগেনা!

ভারতের চিকিতসা সেবা ভাল, স্বল্পমূল্যে পাওয়া যায়, অনেকেই বলেন। ওখানকার সব বড় বড় হাসপাতালগুলো বড় বড় ব্যাবসায়ীরা চ্যারিটি হিসেবে করেছে। একটা পয়সা নেয় না সেখান থেকে। আর আমাদের ৫ তারা হাসপাতালগুলোর কথা তো বলাই বাহুল্য। বড় বড় বিজনেস ম্যাগনেটরা টাকা ঢালেন গানের আসরে, শাহরুখ-ক্যাটরিনাদের নাচ দেখতে।
জনগণের জন্য চ্যারিটি করার টাকা কই??

চ্যারিটি তো করে যাবে ডাক্তারগুলা। খেতে পারুক আর না পারুক, রোগীর ফি নিতে পারবে না। ন্যায্য ফি নিলেই সে কসাই।

আর আপনারা হলেন, "জাহান্নামের দেবতা!"

একটা পয়সা ইনভেস্ট করেন না দেশে সহজে চিকিতসা সরঞ্জাম তৈরীর, যাতে দাম কমে আসলে সেবার দাম কমে আসত।

*আপনি একজন মিডিয়াকর্মী।

সমাজের জন্য উপকারী, স্বাস্থ্যসেবার বিভিন্ন প্রয়োজনীয় তথ্য জনগণকে পৌছে দেবার দায়িত্ব আপনাদের ছিল। কোন হাসপাতালে নতুন রোগীবান্ধব কিছু চালু হলে বা কোন কাজ করলে সেটা আপনারা সচেতনভাবে চেপে যান। কিন্তু ঐ তথ্যটি জানা থাকলে হয়ত আরো হাজার জীবন বাচত।

অথচ, আপনার লিখবেন, প্রচার করবেন কিভাবে ডাক্তার তথাকথিত 'ভূল চিকিতসায়' রোগি মেরেছেন, দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার উপর মানুষের আস্থা কিভাবে নস্ট করতে হয়, তার চেস্টা আপনারা করে যান দিন-রাত। সত্যিকার ডাক্তার নয়, বরং ভূয়া ডাক্তার সেজে থাকা মানুষদের নিয়ে আপনারা স্বাস্থ্য বিষয়ক অনুসঠান করেন!

কি বিচিত্র চিড়িয়া আপনারা!!

*আপনি বাংলাদেশের নামকরা ব্যাংকের মালিক বা এম ডি।

উচ্চ হারে ঋন দেবেন চিকিতসা যন্ত্রাংশ কেনার জন্য। সুদের হার কমাবেন না। আপনার লস হয়ে যাবে। কিন্তু আশা করবেন হাসপাতালের বিল কম হবে! সহজ শর্তে স্বাস্থ্য ঋন দেবেন না আপনারা যাতে স্বল্প আয়ের নিম্নমধ্যবিত্ত থেকে মধ্যবিত্ত মানুষ চিকিতসা ব্যয় মেটাতে পারে। কিন্তু বলবেন বিল দিতে না পারায় রোগীর সাথে আমরা কসাইগিরি করেছি।আপনার লোনের ইন্সটলমেন্ট কি কয়েকটা মাফ করে দেবেন?

*আপনি আইন শৃংখলা বাহিনির সদস্য/বিচার বিভাগের হোমরা-চোমরা।

পথে পড়ে থাকা অজ্ঞান মানুষকে হাসপাতালে পৌছে দাতার প্রান ওসঠাগত হতে দেখেছি আপনাদের জেরায়, কেউ কেউ হয়রানিরো স্বীকার হয়েছে। এখন আর কেউ কাউকে আনতে চায় না, পড়ে থাকা মানুষটা পথেই মরে যায়।

হাসপাতালে ঝামেলা হলে আপনারা ঝামেলাকারীদের পক্ষ নেন। গ্রেফতার করেন ডাক্তার।

অথচ, ডাক্তারের ধর্ষক বা খুনীদের খুজে পাওয়া যায় না। গেলেও তারা আইনের ফাক গলে বেরিয়ে পড়ে।

*আপনি বড় ইঞ্জিনিয়ার বা সায়েন্টিস্ট।

একটা মেকানিক্যাল ভেন্টিলেটর তো তৈরী করলেন না। এখনো একটা আই সি ইউ বেডের পাম্প ঠিক করাতে চাইনিজ মেকানিক আনা লাগে। কিন্তু আপনিই আমাদের রক্তচোষা বলে গাল দেন!

এরকম ধরে ধরে প্রত্যেকজন, প্রতিটি পেশাজীবি মানুষকে নির্দিস্ট করে বলা যায়,

স্বাস্থ্য খাতে আপনার যে কর্তব্য ছিল, যে দায় ছিল, সেটার কতটুকু পালন করেছেন আপনি??
তিল পরিমান ও না।

আমরা শুধু শ্রমে-ঘামে সেবা দিয়ে যাব, আর আপনারা আমাদের রক্ত ঝরাবেন অন্যায়ভাবে, এটা মেনে নেয়া হবে না!

দিনে দিনে বহু বাড়িয়াছে দেনা,
শুধিতে হইবে ঋণ।।
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সব হারিয়েও বেঁচে থাকা: একজন রোকসানা রুমার নিঃসঙ্গ গল্প

লিখেছেন ওয়াদুদ সোহেল মোল্লা, ০৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫৬


জীবন আসলে বড় অদ্ভুত এক গোলকধাঁধা। আমরা ভাবি মেধা, ডিগ্রি আর সাফল্য দিয়ে পুরো জীবনটা সাজিয়ে ফেলা যাবে। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস মানুষকে কোথায় এনে দাঁড় করায়, তা কেউ জানে... ...বাকিটুকু পড়ুন

মিটারে টাকা ভরতে গিয়ে এ কি হলো আমার সাথে। না পড়লে চরম মিস।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ০৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:১২

বিদুৎ মিটার, দুই প্রকার। এক হচ্ছে প্রিপেইড আরেকটি পোস্ট পেইড। আমার কাছে পোস্ট পেইড ভালো লাগে। কারন এখানে বিলের কপি দিয়ে যায়। ও বিলের কপি নিয়ে ব্যাংকে গিয়ে জমা দিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

=নীলাম্বরী সেজে আছি=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:৩৮



এই এসো না কাছে এসো,
নীল শাড়ীতে নীলাম্বরী
ঠায় দাঁড়িয়ে অপেক্ষাতে
এসে ভাসাও প্রেমের তরী।

নীল সমুদ্দুর ডেকেছে আজ
তাই দাঁড়িয়ে আছি একা
এসো তুমি হাওয়ায় উড়ে
এসে করো একটু দেখা।

হাঁটতে ইচ্ছে বালিচরে,
তুমি আমার - পাশে হাঁটবে?
মনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মূল্যস্ফীতি বাড়লে বা কমলে আমরা টের পাই না কেন ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:৫১


গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের কারণে বাংলাদেশে এখন কয়টা ঋতু আছে তা কেউ বলতে পারে না। আমার মনে হয় গ্রীষ্ম আর বর্ষার একটা মিশ্র ঋতু আছে, আর আছে শীত। এই গ্লোবাল ওয়ার্মিংয়ের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মুহাম্মদ আলি জিন্না

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:৩৫



১৮৭৬ সালে করাচিতে এক দুষ্ট বালকের জন্ম হয়।
এবং ৭৬ বছর বয়সে দীর্ঘদিন যক্ষা রোগে ভূগে- দেশ ভাগের পরের বছর মারা যান। এই দুষ্ট বালক'ই পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা। নাম তার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×