সেদিন এক জাতীয় পত্রিকায় কর্পোরেট হাসপাতালের সার্ভিস নিয়ে একটা লেখা পড়লাম। লেখাটার শেষের লাইনে সব অনিয়মের দায় চিকিৎসকের উপর চাপানো হয়েছে।
প্রাইভেট সেক্টরে চিকিৎসক নিয়োগের ক্ষেত্রে কি হয় জানেন আপনি?
৫ জন মেডিকেল অফিসার নেয়া হবে হয়ত। ৪/৫ জনের ভাইবা বোর্ডে চিকিৎসক থাকেন হয়ত ১ জন। তাও মালিকপক্ষের লোক। তারা বেছে নেন কত কম বেতনে একজন মেডিকেল অফিসার কাজ করতে রাজি হবেন, তাকে।
যার যোগ্যতা বেশী, তাকে বেশী বেতন দিতে হবে, তাই সে বাদ! পুরো হাসপাতাল চালাতে ১০ জন লাগলে, তারা নিবে ৭ জন। সবার উপর এক্সট্রা কাজ চাপিয়ে ৩ জনের বেতনের টাকা বাচিয়ে ফেলবে!!
দু:খজনক হলেও এটাই সত্য।
এজন্যেই মানুষ চিকিৎসা নিতে গিয়ে পয়সার তুলনায় মানসম্পন্ন সেবা পায় না।
সবাই তখন চড়াও হয় বেচারা ডাক্তারের ওপর। অথচ, ঐ বেতনে এর চেয়ে ভাল সেবা দেবার সামর্থ্য ও অভিজ্ঞতা তার হয়ত নেই।
নিজের কিছু বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে কথাটি বললাম।
হাসপাতালটি আপনাকে নাম দেখাবে ফার্স্ট ক্লাস, একদম ফিটফাট, পয়সা নেবে টপ ক্লাস আর কম বেতনের জুনিয়র চিকিৎসক দিয়ে, ২ জনের কাজ ১ জনকে দিয়ে করিয়ে আপনাকে ভুজুং ভাজুং দিবে।
অভিযোগ থাকলে আপনি এম ডির রুম কোথায় খুজেই পাবেন না! পেলেও ১০ দরজা পার হয়ে তার দেখাও পাবেন না।
তখন এসে রাগ ঝাড়বেন ডাক্তারের ওপর, মারবেন, গাল দেবেন।
ঐ ব্যাটার সংসার চালাতে চাকুরীর দরকার। কই আর সে যাবে? নতুন যেখানে যাবে, সেখানেও সেই একই দশা!!
এর নাম বাংলাদেশের প্রাইভেট সেক্টরে মেডিকেল সার্ভিস!!
কারো পৌষ মাস, কারো সর্বনাশ।
ব্যবসায়ীরা চিকিৎসা নিয়ে ব্যবসা করছে, বন্দুক রাখছে চিকিৎসকদের কাধে।
প্রতারিত হচ্ছে জনগন,
ছেচা দিচ্ছে ডাক্তারকে!
মুনাফা লুটছে ব্যবসায়ী,
ডাক্তার-পাব্লিক মারামারি-
এখন দুই পক্ষই হাজতে।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


