যাই হোক, কক্সবাজার পেঁৗছলাম ভোর বেলা। এবং মজা করে কাটালাম সারা দিন এবং রাত। গভীর রাতে একজন এসে আবদার করলো সে আমার বেডে শোবে। আমি তখন বিশেষ খেলাধুলা এবং খানা পিনায় ব্যস্ত। কি আর করা? তার আবদার মানলাম। এবং খোঁজ নিলাম অন্য কোন রুমে সিট আছে কিনা। ভাগ্য গুনে বা দোষে ভিআইপি রুমে এক সিট পাওয়া গেলো।
আমার ব্যাগ রইলো এক রুমে আর আমি আরেক রুমে।
সে রাতে মনের সুখে বিশেষ খেলা এবং খাওয়া দাওয়া শেষ করে ঘুমুতে গেলাম রাত 2 টার দিকে। ভিআইপি রুমে
। সকাল 8 টার দিকে ঘুম ভাঙ্গলো। আমার ব্যাগের কাছে গেলাম। আধো ঘুমের মধ্যেই টের পেলাম ব্যাগে কোন একটা গন্ডোগোল হয়েছে। ব্যস, মুহুর্তে ঘুম শেষ।
আমার ব্যাগের সবগুলো পকেটের চেইন খোলা এবং খালি। পকেটগুলোর মধ্যে ছিলো মোবাইলের চার্জার, ক্যামেরার ব্যাটারির চার্জার , ক্যামেরার ইউএসবি কর্ড , অফিসিয়াল রেকর্ডার, ক্যাসেট, কার্ড হোলডার, পেন ড্রাইভ ইত্যাদি আরো অনেক কিছু। কিছুই নেই। (আম্মাআআ)
শেষ মুহুর্তে নজর দিলাম ব্যাগের সর্বশেষ পকেটের দিকে। পকেটের মুখ দিয়ে অর্ধেক বেড়িয়ে আছে আমার ক্যামেরার খোসা। আমি নিশ্চিত ছিলাম যে ভেতরে ক্যামেরাটি নেই। তাও আল্লাহ'র নাম নিয়ে .000000000000000000000000001% আশা নিয়ে ক্যামেরার খোসাটি খুললাম এবং অবাক হয়ে দেখলাম ক্যামেরাটি আছে। আরো নিশ্চিত হতে দ্রুত শাটার টিপলাম। ক্যামেরাটা সুস্থ আছে।
2 যুগের জীবনে দেশ বিদেশে ভ্রমন নেহায়েত কম করিনি। কিন্তু জীবনে চুরি'র ঘটনা এটাই প্রথম। আল্লাহ'র রহমতে ক্যামেরাটা'র কিছু হয়নি। কিন্তু এখন মাঝে মাঝেই মনে প্রশ্ন জাগে চোর ব্যাটার উদ্দেশ্যটা কি ছিলো? চোরটা কি বেআক্কেল ছিলো না কি অন্ধ ছিলো যে এত দামি ক্যামেরাটা না নিয়ে তার এক্সেসরিজ নিলো?
যাইহোক, ঢাকা ফিরে ক্যামেরার চুরি হওয়া এক্সেসরিজ খুঁজতে সব মার্কেটে গেলাম কিন্তু নকল চার্জার পেলেও ইউএসবি কর্ড (যেটা দিয়ে টিভি'র সাথেও কানেক্ট করা যায়) পেলাম না।
মনের দুঃখে এখন একটা কার্ড রিডার দিয়ে কাজ চালাচ্ছি।
দ্রষ্টব্য : ছবিটি চুরি হতে হতে বেঁেচ যাওয়া ক্যামেরাটি দিয়ে তোলা। কক্সবাজার থেকে প্রায় 1 ঘন্টার সমুদ্র পথ ট্রলারে পারি দিয়ে যাওয়া যায় সোনাদিয়া নামক একটি দ্্বীপে। সেই দ্্বীপের বালুতে ফুটেছিলো ফুলটি। নাম জানি না। কেউ জানলে জানাবেন আশা করি।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



