somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

যে কারণে সামু ব্লগে আমার বিচরণ...?

০১ লা মে, ২০১৮ রাত ১:৫৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ড. লুৎফর রহমান গভীরভাবে বিশ্বাস করতেন যে, জ্ঞান মানুষের শক্তির অন্যতম মূল উৎস। তিনি বলেন,

"মনুষ্যত্ব লাভের পথ- জ্ঞানের সেবা। জিবনের সকল অবস্থায়, সকল সময়ে আহার স্নানের মতো মানুষের পক্ষে জ্ঞানের সেবা করা প্রয়োজন।... জাতিকে শক্তিশালী, শ্রেষ্ঠ ধনসম্পদশালী, উন্নত ও সুখী করতে হলে শিক্ষা ও জ্ঞান বর্ষার বারিধারার মতো সর্বসাধারণের মধ্যে সমভাবে বিতরণ করতে হবে।...দেশকে বা জাতিকে উন্নত করতে ইচ্ছা করলে সাহিত্যের সাহায্যেই তা করতে হবে। মানবমঙ্গলের জন্য যত অনুষ্ঠান আছে তার মধ্যে এইটাই প্রধান ও সম্পূর্ণ।"

জ্ঞান বিলালে কখনো জ্ঞান কমে না বরং বাড়ে। জ্ঞান বিতরণের মাধ্যমে মানুষের যে সেবা করা হয় সেই সেবায় নিহিত আছে পরমানন্দ ও স্বর্গানন্দ। আমার ধারণা এই জন্যেই কবি কবিতা লেখেন, গল্পকার গল্প লেখেন, ব্লগার ব্লগ লেখেন। মোদ্দাকথা, সাহিত্যিকরা সাহিত্য রচনা করেন এই জ্ঞানের সেবা করে পরমানন্দ ও স্বর্গানন্দ লাভের জন্য।

প্রথমত একজন জ্ঞানপিপাসু হিসেবে সামুতে এসেছি জ্ঞান আহরণ করার জন্য। হয়তো সামুতে সময় কম দিই বলে এখন পর্যন্ত সামু তেমন কিছু শিখতে পারিনি। তবে কিছু কিছু বিষয়ে যে জ্ঞান অর্জন করেছি তা আমার কাছে কোনভাবেই কম নয়। কেননা সামু থেকে অর্জিত এই সামান্য জ্ঞানই আমার সারাজীবন কাজে লাগতে পারে, এমনকি মহাকালেও। যেসব ব্লগারের কাছ থেকে এই জ্ঞানটুকু অর্জনের করতে পেরেছি তাঁদের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আর দোয়া করি অন্য ব্লগার ভাইয়েরাও যেন আরো ভালো লিখেন, আরো জ্ঞান বিলিয়ে দিতে পারেন।

সুমহান আল্লাহ তা'আলা প্রত্যেককে ততটুকু পরিমাণ জ্ঞান দিয়েছেন যতটুকু তার প্রয়োজন। উদাহরণস্বরূপ বলতে পারি, সদ্য জন্ম নেয়া একটা মুরগির বাচ্চা পানিতে ঝাঁপ দেয় না অথচ হাঁসের বাচ্চা ঠিকই ঝাঁপ দেয়। দার্শনিকভাবে চিন্তা করলে এখানে প্রশ্ন দাঁড়ায় মুরগির বাচ্চাটি কিভাবে জানে যে সে আনির অনুপযুক্ত....?

এই কথাটির মর্মার্থ যে বুঝে আশা করি সে এটাও বিশ্বাস করবে যে সুমহান আল্লাহ যার যতটুকু প্রয়োজন তাকে ততটুকুই জ্ঞান দান করেছেন।

এখন আরেকটি প্রশ্ন জাগতে পারে যে, চায়ের দোকানে কাজ করা কাজী নজরুল ইসলাম, ফকির লালন শাহর প্রাতিষ্ঠানিক বিদ্যা তেমন একটা না থাকার পরেও, তারা ভালো কোন প্ল্যাটফর্ম না পেয়েও তারা কিভাবে এত এত জ্ঞান অর্জন করেছিলেন, কিভাবে তারা অসাধ্য সাধন করেছিলেন..?

অথচ অনেকে অনেক ভালো প্ল্যাটফর্ম পেয়েও, নিজেকে নিঙরে দিয়ে দিন রাত অহরহ পরিশ্রম করেও তারা কেন পারছে না..?
এই প্রশ্নের সঠিক ও যথার্থ উত্তর আমার জানা নেই। ভালো আলেম বা জ্ঞানী লোকেরা এই বিষয়ে বলতে পারবেন।

আমি শুধু এতটুকু বিশ্বাস করি যে, কারো জ্ঞান স্রেফ আল্লাহ প্রদত্ত হয়। আর যাদের জ্ঞান চলার জন্য একেবারে বেশি কম সেটা হয় আল্লাহর একটি পরীক্ষা নয় আল্লাহ এমনটি করেছেন অন্যদেরকে সতর্ক করার জন্য
সে যাইহোক, বলতে চেয়েছিলাম সামুতে কি কি কারণে আমার আসা হয়েছে তা নিয়ে।

১। আমি বিশ্বাস করি যে, সুমহান আল্লাহ আমাকেও সবার মতো জ্ঞান দান করেছেন। সেই জ্ঞানকে বিকশিত করার জন্যেই সামুতে আমার আসা।

২। আমার মাঝেও এমন কিছু জ্ঞান থাকতে পারে যেটা অন্যদের নেই। আমার মাঝে আছে এমন যে জ্ঞান অন্যদের নেই, সেই না থাকা জ্ঞানটুকু অন্যদের মধ্যে সানন্দে বিলিয়ে দিতে সামুতে আমার আসা।

শেষ কথা:

প্রথম পাতায় সুযোগ পাওয়ার পর এটি আমার প্রথম পোস্ট। আমি লিখতে চাই, সামান্য হলেও লিখতে চাই।

আমার মাঝে যে জ্ঞান আছে যদিও সে জ্ঞান খুবই অল্প, খুবই নগণ্য তবুও সে জ্ঞান মানুষের মাঝে আমি ছড়িয়ে দিতে চাই।

ব্লগটি যদি সচল থাকে তাহলে হাজার থেকে লক্ষাধিক শব্দ পর্যন্ত এখানে নিঃসৃত হলেও হতে পারে আমার অতি নগণ্য, তুচ্ছ জ্ঞান থেকে।

সেই শব্দভাণ্ডার থেকে একটি শব্দও যদি মানুষের উপকারে আসে তাহলে আমার ব্লগিং জীবন বা লেখার জীবন স্বার্থক হবে। কেননা, লাভের পথ- জ্ঞানের সেবা।

সর্বশেষ এডিট : ০১ লা মে, ২০১৮ রাত ১:৫৯
৬টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা: (দ্বিতীয় পর্ব)

লিখেছেন মৃত্যুঞ্জয়, ২৯ শে জুলাই, ২০২৬ রাত ২:০০

কোথায় হারিয়ে যাচ্ছে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম?

দ্বিতীয় পর্ব: মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার বিভাজন এবং অসম প্রতিযোগিতা

একটি শিশুর শিক্ষাজীবন শুরু হয় প্রাথমিক স্তর থেকে। কিন্তু মাধ্যমিক পর্যায়ে পৌঁছানোর পর থেকেই শুরু... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেবদাস, কালজয়ী উপন্যাস এবং চিত্রনাট্যের পটভূমি

লিখেছেন মেহবুবা, ২৯ শে জুলাই, ২০২৬ সকাল ১১:২৮


প্রথম ১৯২৮ সনে নির্বাক "দেবদাস" মুক্তি পায় ফনী বর্মা এবং তারকবালা অভিনীত ছিল সেটি। এরপর প্রমথেশ বড়ুয়া এবং যমুনা বড়ুয়া অভিনীত সবাক দেবদাস মুক্তি পায় ১৯৩৫ সনে। তারপর... ...বাকিটুকু পড়ুন

যে হৃদয় বিলিয়ে দেয়, বিশ্ব চরাচরে

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ২৯ শে জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১:৪৩




যে হৃদয় বিলিয়ে দেয়, বিশ্ব চরাচরে
শান্ত গৌরবে, সেই আত্মারা কোথায় বেঁচে রয়।
দয়ার প্রতিটি বীজ সর্ন্তপণে বপন করা হয়,
সপ্তাকাশে উজ্জ্বল ফসল তবে অবধারিত রয়।

সাত আকাশের চরাচরে , ছায়া... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কেমনের দিনে

লিখেছেন শাওন আহমাদ, ২৯ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৫



মাঝেমধ্যেই মনের ক্যানভাসটা কেমন যেন বিবর্ণ হয়ে যায়। পৃথিবীর সমস্ত রং হারিয়ে যায় অচেনা পথের বাঁকে। কোনো সংকেত ছাড়াই একরাশ এলোমেলো বিষণ্ণতা এসে জেঁকে বসে মনের কার্নিশে। চারপাশের চেনা জগৎটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

"দুষ্টের দমন শিষ্টের পালন"- হলো একটি সনাতন নীতি...

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৯ শে জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



"দুষ্টের দমন শিষ্টের পালন"- হলো একটি সনাতন নীতি, যার অর্থ খারাপ বা অন্যায়কারীকে শাস্তি দেওয়া এবং ভালো বা সৎ মানুষকে রক্ষা করা। এটি মূলত সমাজে শান্তি ও ন্যায়বিচার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×