
আজ একটা নাটক হবে কবিতার মতন ;
সেই কবিতার নাম ‘নারী’ ।
শুধু এই একটিই চরিত্র থাকবে পুরো নাটকে,
থাকবে তার রঙ বদল ।
নাটক মানে কবিতার ধরণ হবে নির্বাক,
আর যারা দর্শক সাড়িতে বসবে তাদেরও শব্দ করা বারণ !
আজ একটা নাটক হবে কবিতার মতন !
প্রথম দৃশ্য :
চরিত্রটির ছেলেবেলা থাকবে, সে গাইছে, ঘুরছে
মিষ্টি সুরে কাছে ডাকছে আর সবাই আদরে বাহবা বাহবা দিচ্ছে !
( দর্শকের মুখে বিরক্তির ছাপ; এটা দেখার কিছু হল ! কিন্তু কেউ যায়গা ছেড়ে নড়ছে না )
দ্বিতীয় দৃশ্য :
চরিত্র কিশোরী হয়ে উঠছে, মাথায় ছোট্ট বেণী, ফ্রক
আর বুকের উপর বাতাবী লেবুর বেড়ে উঠায় সময়
এগিয়ে চলবে, হাতে থাকবে নিয়মের কড়া হ্যান্ডকাফ !
( দর্শকের চোখে তখন কৌতূহল , ভীড় বাড়ছে !)
তৃতীয় দৃশ্য :
যুবতীর অনুপ্রবেশ , যৌবন যেন উতলে পড়ছে চারিদিকে,
হাতের সেই কড়া হ্যান্ডকাফটা শিকল হয়ে এবার পায়েও জড়াবে,
পৃথিবীটা তার ছোট হতে থাকবে, থাকবে বুক ও পাছায়-
সুখ খুঁজে ফেরা কিছু বাতাসের গন্ধ !
(তাদের মুখে তখন জয়ের হাসি, ভীড় বেড়ে দ্বিগুন !)
চতুর্থ দৃশ্য :
সেখানে সে চার দেয়ালে বন্দী, ভয় তার শরীর জুড়ে
চিন্তায় চোখ ফোকরে, সাথে মুখে লেগে থাকা কান্নার দাগ,
আর কিছু মনের মৃত্যুর আর্তনাদ !
(দর্শক থেকে অনেকে তখন ধর্ষক হবে, হতে চাইবে । পর্দার আড়ালে অপেক্ষায় থাকবে শিকার ধরার । ভীড় বাড়ার সাথে সাথে খানিক বিড়ম্বনা !)
শেষ দৃশ্য :
তার শুকিয়ে মৃত লাশের মতন হওয়া শরীর,
লজ্জা আর ঘৃণায় জ্বলতে থাকা দুটি চোখে তাকিয়ে থাকবে সামনে,
দর্শক কেউ ছে ছে করে নীরবতা ভাঙ্গবে, কেউ কাঁদবে , কেউ বা
আড় চোখে তাকিয়ে থাকবে তার পেট, পিঠ আর স্তনে !
মঞ্চে ঝড় উঠবে , তছনছ করতে চাইবে , ছিনিয়ে নিবে
নারীর বুকের কাপড় , সে পড়ে রবে মেঝেতে –
নিথর দেহ পড়ে থাকবে মেঝেতে ঠিক তখনি
কিছু ছায়া এসে নীরবতা ভেঙে বলবে,
“নারী তুমি নাড়াও নরেন কাঠি, তিন ইঞ্চি ফুলে
হয় আট, নয় ; অন্দরে দেখো কেমন দোলন দোলে !”
তার সাথে থাকবে কিছু অবজ্ঞা, ঘৃণা আর কপালে
লেগে থাকা ‘সমাজ’ নামের কালো রক্তের ছোপ
আর একটি নিথর নারী !
( সামনে কোন দর্শক নেই, কেউ নেই , শুধুই নীরবতা !)
আজ একটা নাটক হবে কবিতার মতন ;
সেই কবিতার নাম ‘নারী’ ।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

